জাপানের ট্রেনে কুকুরের ডাক!

ঢাকা, সোমবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ | ৭ ফাল্গুন ১৪২৪

জাপানের ট্রেনে কুকুরের ডাক!

পরিবর্তন ডেস্ক ১:৩০ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৭, ২০১৮

print
জাপানের ট্রেনে কুকুরের ডাক!

বহু গবেষণা করে অবশেষে জাপানের রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ তাদের ট্রেনে বিশেষ হর্ন স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিশেষ এই হর্ন কুকুরের ডাকের অনুকরণে প্রচণ্ড শব্দ করবে। মূলত ট্রেনের যাত্রাপথে হরিণের সঙ্গে সংঘর্ষ এড়াতে এমন পদক্ষেপ নিয়েছে দেশটির রেলওয়ে সংস্থা।

অবশ্য সব রুটের ট্রেনে যে এই বিশেষ হর্ন বসানো হবে তা নয়! জঙ্গলের ভেতর দিয়ে যেসব রুটে হরিণের চলাচল বেশি শুধুমাত্র সেখানেই কুকুরের ডাকের এমন ব্যবস্থা করা হয়েছে।

টোকিও’র একটি সংবাদপত্রের বরাত দিয়ে বিবিসি জানায়, দেশটির জঙ্গলের ভেতর দিয়ে থাকা বিভিন্ন রুটে ট্রেনের ধাক্কায় প্রায়ই বন্য প্রাণী বিশেষ করে হরিণ প্রাণ হারায়। রাতে প্রাণীরা অপরিচিত ট্রেনের বিকট শব্দে হতবুদ্ধি হয়ে রেল লাইনের উপরই দাঁড়িয়ে থাকে। ফলে কিছু বুঝে ওঠার আগেই ট্রেনে কাটা পড়ে।

বন্য প্রাণীর প্রাণহানির পরিমাণে রাশ টানতে তাই এমন শব্দের হর্ন তৈরি করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের দাবি, এর ফলে রেল লাইনের উপরে প্রাণীরা দাঁড়িয়ে থাকলেও পরিচিত কুকুরের ডাক এবং বিকট শব্দ শুনে ভয়ে হলেও পথ ছেড়ে দিতে বাধ্য হবে। 

জাপানের রেলওয়ে’র প্রকৌশল গবেষণা সংস্থা (Railway Technical Research Institute) এর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তিন সেকেন্ড ধরে হরিণের ডাকের শব্দ বাজালে বনের অন্যান্য প্রাণীরা আকর্ষিত হয়। আবার ২০ সেকেন্ড ধরে কুকুরের ডাক বাজালে তা প্রাণীদের সেখান থেকে সরিয়ে দেয়ার জন্য যথেষ্ট।

আরটিআরআই’র গবেষকেরা জানিয়েছেন, এরই মধ্যে তারা গভীর রাতে পরীক্ষামূলক ভাবে ট্রেনে কুকুরের ডাকের হর্ন ব্যবহার করে দেখেছেন। এতে রেল লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা হরিণেরা পরিচিত ডাক শুনে দু’ভাগ হয়ে পথ ছেড়ে দিয়েছে বলেও দাবি তাদের। ফলে বোঝাই যাচ্ছে, এই পদ্ধতি হরিণদের প্রাণ বাঁচাতে বেশ কার্যকর।

অবশ্য কুকুরের এমন ডাক বন্য প্রাণীদের জন্য কার্যকর হলেও রেল লাইনের কাছাকাছি থাকা মানুষেরা তাতে বিভ্রান্ত হবেন বলেই মনে করছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। সে কারণে জনবসতি অতিক্রমের সময় এমন শব্দ ব্যবহার করা হবে না বলে জাপানের রেলওয়ে বিভাগ আশ্বস্ত করেছে।

কেবিএ    

 
.

আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad