প্রথম বাংলাদেশি অস্কারপ্রাপ্ত নাফিস তরুণদের যা বললেন

ঢাকা, শনিবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৭ | ১ পৌষ ১৪২৪

প্রথম বাংলাদেশি অস্কারপ্রাপ্ত নাফিস তরুণদের যা বললেন

পরিবর্তন প্রতিবেদক ৬:২৭ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ০৭, ২০১৭

print
প্রথম বাংলাদেশি অস্কারপ্রাপ্ত নাফিস তরুণদের যা বললেন

দুইবার অস্কারজয়ী বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক নাফিস বিন জাফর বাংলাদেশি সিনেমায় কাজ করার আগ্রহ দেখিয়েছেন। বৃহস্পতিবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড-২০১৭ মেলার দ্বিতীয় দিনে 'মিট উইথ নাফিস' শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে অস্কার জয়ী এই সফটওয়্যার প্রকৌশলী এবং অ্যানিমেশন বিশেষজ্ঞ তরুণদের প্রেরণা দেন।

.

বক্তব্যের শুরুতে নাফিস বলেন, আমার ফিল্ম ক্যারিয়ার নিয়ে কথা বলবো। আমার গল্প শুনে কেউ কেউ উদ্বুদ্ধ হতে পারেন। আমার চলাত পথটা মসৃণ ছিল না। কাজ করতে করতে শিখেছি। শুরুতে আমি একা ছিলাম। আর এখন ৫০০ লোক কাজ করছে আমার সঙ্গে। সিনেমা তৈরি একার কাজ নয়, এটা টিম ওয়ার্ক।

'অ্যানিমেশন ফিল্ম নিয়ে কাজ করতে হলে প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ জানতে হয়। আমি একজন সফটওয়্যার প্রকৌশলী তাই ধারণা ছিল। বাকিটা কাজ করতে করতে শিখেছি। শুরুতে যে কাজ করতে আমার এক মাস লেগেছিল, পরে সেই একই কাজ অল্প সময়ে শেষ হতো।

কাজের সফলতার কথা বলতে গিয়ে নাফিস বলেন, তরুণদের বলবো আপনারা হাল ছাড়বেন না। কাজটাকে রপ্ত করতে পারলে আপনি এর ভেতর আনন্দ খুঁজে পাবেন। কাজের মধ্যে আনন্দ না থাকলে আপনি কোনোদিন সফল হতে পারবেন না।

অস্কার জয়ী এই বাঙালি বলেন, আমি ছিলাম একা। শুরুও করেছিলাম একা। আর এখন আমি টিমকে নেতৃত্ব দেই। সবাইকে ম্যানেজ করা আমার কাজ। আমার স্বপ্ন আমি অন্যদের সহযোগিতায় পূরণ করছি। যার ফলে দুইবার অস্কার পেয়েছি।

অ্যানিমেশন ফিল্মের কাজের ধরন উল্লেখ করে তিনি বলেন, অ্যানিমেশন ফিল্মে বিজ্ঞানের সর্বোত্তম ব্যবহার হয়। এখানে যেমন গ্রাফিক্সের পাশাপাশি গণিত, জ্যামিতি, ভিজ্যুয়াল ইফেক্টস দরকার হয়। এটা গল্প বলার মতো। দৃশ্যকল্পগুলোকে সফটওয়্যারে সাজাতে হয়। এজন্য স্টোরি টেলিং খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি তরুণদেরকে বলেন, এই সেক্টরে কাজ করতে আগ্রহী থাকলে থিয়েটার, নাটকে কাজ করুন। প্রথমে ছোট গল্প তৈরি করুন। শট ফিল্ম বানান। প্রয়োজনে টিভিতে শিক্ষানবিশ হিসেবে কাজ করুন। এসব কাজ করতে করতে বুঝতে পারবেন আপনার কোন কাজটা ভালো লাগে। একটা নাটক কিংবা ছবিতে শুধু ক্যারেক্টার ছাড়াও পেছনে অনেক কিছু থাকে, সেগুলো খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখতে হবে। তা না হলে ভালো ফিল্ম মেকার হওয়া সম্ভব নয়।

২০০০ সালে নাফিসের প্রথম সিনেমায় কাজ শুরু হয়। শুরুতে ইমেজ প্রসেসিং সফটওয়্যার নিয়ে কাজ করেন।  এরপর নানা ধরনের ইমেজ প্রসেসিং সফটওয়্যার ও ভিজ্যুয়াল ইফেক্টস শিখেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একটা ছবিতে নানা বিষয় থাকে। তাই বাস্তব দৃশ্যকে অ্যানিমেশন ও ইফেক্টস দিয়ে বাস্তবের মতো করা যায়। অ্যানিমেশনের সাহায্যে সিনেমা বানালে সময় ও অর্থ কম লাগবে।

সফলতার গল্পে নাফিস বলেন, আপনারা একজন সফল অ্যানিমেটর কিংবা অস্কার জয়ীকে দেখছেন। কিন্তু এর পেছনের শ্রম ও মেধার সমন্বয় করতে হয়েছে।

তরুণ ফিল্ম মেকারদের জন্য এই সফল ফিল্ম মেকারের উপদেশ হলো- কেউ যদি ফিল্ম মেকার হতে চায় তার স্বপ্ন থাকতে হবে। সেই সঙ্গে কাজটিকে ভালোবাসতে হবে। প্রথমে ছোট ছোট ফিল্ম বানান, যা আপনাকে বড় কাজে অনুপ্রেরণা দেবে। এক্ষেত্রে সরকার অনুদান দিতে পারে। যদি আইডিয়া ক্রিয়েটিভ হয়।

নাফিসের পরিচালিত সংগঠন ‘সি গ্রাফ’ আজ থেকে বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরু করবে। এই সংগঠনটি তরুণদের অ্যানিমেশনের উপর ধারণা দেবে। পাশাপাশি এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহায়তা দেবে।

নাফিস ২০০৭ সালে হলিউড মুভি পাইরেটস অফ দ্য ক্যারিবিয়ানের জন্য অ্যাট ওয়ার্ল্ড’স এন্ড চলচ্চিত্রে ফ্লুইড অ্যানিমেশনের জন্য সায়েন্টিফিক অ্যান্ড টেকনিক্যাল বিভাগে অস্কার পুরস্কারে সম্মানিত হন। 

এরপর ২০১২ সালে মুভিতে প্রথম ড্রপ ড্রেসট্রাকশন টুলকিট ব্যবহারের জন্য অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ড অব সায়েন্স ২০১৪ পুরস্কার পান তিনি। ওই ড্রপ ড্রেসট্রাকশন টুলকিটটি প্রথম ব্যবহার হয় '২০১২’ ছবিতে। এরপর ট্রান্সফরমারের প্রতিটি সিরিজ ও ২০১৪ সালে মুক্তি পাওয়া ‘অগম্যান্ট’সহ ২০টিরও বেশি ছবিতে এটি ব্যবহার করা হয়েছে।

নাফিসের জন্ম ১৯৭৮ সালের ৮ অক্টোবর ঢাকায়। তার বাবার নাম জাফর বিন বাশার এবং মায়ের নাম নাফিসা জাফর। তিনি বিখ্যাত চিত্রশিল্পী ও পাপেট নির্মাতা মুস্তফা মনোয়ারের ভাতিজা এবং প্রয়াত কবি ও লেখক গোলাম মোস্তফার নাতি।

এফবি/এএল

print
 

আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad