ভাইকিংরাও ‘আল্লাহ’ বিশ্বাসী ছিলেন!

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৪ অক্টোবর ২০১৭ | ৯ কার্তিক ১৪২৪

ভাইকিংরাও ‘আল্লাহ’ বিশ্বাসী ছিলেন!

পরিবর্তন ডেস্ক ৯:০৭ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১২, ২০১৭

print
ভাইকিংরাও ‘আল্লাহ’ বিশ্বাসী ছিলেন!

সুইডেনের গবেষকেরা ভাইকিংদের একটি কবরস্থান থেকে শেষকৃত্যের এমন কিছু সরঞ্জাম উদ্ধার করেছেন, যেগুলোতে আরবি শব্দ লেখা রয়েছে।

আর এসব সরঞ্জাম উদ্ধারের পর প্রশ্ন জেগেছে, স্ক্যান্ডিনেভিয়ানরা কী তাহলে বেশ প্রাচীন আমলেই ইসলাম দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিলেন? লন্ডনভিত্তিক সাংবাদিক তারিক হুসেইন, যিনি মুসলিম হেরিটেজ সম্পর্কিত বিষয়ে একজন বিশেষজ্ঞ। তিনিই এ বিষয়ে লিখেছেন। খবর: বিবিসি বাংলার।

নবম এবং দশম শতাব্দীর কবরস্থানে পাওয়া পোশাক পরীক্ষা করে ভাইকিং এবং মুসলমানদের মধ্যকার যোগাযোগ সম্পর্কে নতুন ধারণা পাওয়া গেছে।

ভাইকিংদের এসব কবর থেকে উদ্ধার করা সরঞ্জামগুলোতে ‘আল্লাহ’, ‘আলী’ ইত্যাদি শব্দ লেখা বা আঁকা রয়েছে।

সুইডেনের উপসালা ইউনিভার্সিটির টেক্সটাইল আর্কিওলজিস্ট আনিকা লারসন বলেছেন, ‘ভাইকিংরা কোনো এক পর্যায়ে হয়তো বা ইসলাম এবং এর পরকালের ধারণা দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিলেন।’

গবেষকরা জানাচ্ছেন, নৌকা আকৃতির কবর থেকে উদ্ধার করা শেষকৃত্যের কাপড়ে শব্দগুলো লেখা হয়েছে আরবি কুফিক বর্ণমালায়।

লারসন বলেন, ‘আমি হঠাৎ করে দেখলাম আল্লাহ শব্দটা এমনভাবে লেখা, যেটা শুধু আয়নাতে ধরলে সঠিকভাবে দেখা সম্ভব।’

১০০টি পোশাকের মধ্যে ১০টি পোশাকে এ ধরনের শব্দ খুঁজে পেয়েছেন তিনি।

লারসন বলেন, ‘হতে পারে যাদের কবর দেয়া হয়েছে, তাদের মধ্যে অনেকে মুসলিম ছিলেন। ডিএনএ পরীক্ষা করে আমরা দেখেছি যেসব মানুষকে কবর দেয়া হয়েছে, তাদের অনেকে পারস্য থেকে এসেছেন, যেখানে ইসলামের অনেক প্রতিপত্তি ছিল।’

অবশ্য ভাইকিংদের কবরে ‘আল্লাহ’ শব্দ লেখা পাওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম নয়। আরব এবং মুসলমানদের সঙ্গে ভাইকিংদের যোগাযোগ যে বহু আগে থেকে ছিল এটা বেশিরভাগেরই অজানা।

দুই বছর আগে অর্থাৎ ২০১৫ সালে স্টকহোম ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক সেবাস্টিয়ান ওয়ার্মল্যান্ডারের নেতৃত্বে একদল গবেষক অনুসন্ধান চালিয়ে একটি কবর থেকে ‘আল্লাহ’ লেখা আংটি উদ্ধার করেছিলেন।

সুইডেনের একটি প্রাচীন বাণিজ্য কেন্দ্র বির্কায় নবম শতাব্দীর প্রাচীন একটি কবর খুঁড়ে এক মহিলার দেহাবশেষ পাওয়া যায়। তার হাতে একটি আংটি ছিল, আর সেই আংটিতে প্রাচীন আরবিতে লেখা ছিল ‘আল্লাহর প্রতি’ বা ‘আল্লাহর উদ্দেশে’।

রূপার তৈরি ওই আংটিতে যে কুফিক আরবি লেখা ছিল তার প্রচলন ছিল অষ্টম থেকে ১০ম শতাব্দীতে। দুই বছর আগে উদ্ধার করা ওই আংটিটি বর্তমানে সুইডিশ হিস্টোরি মিউজিয়ামে সংরক্ষিত আছে।

ওই আংটিতে কুফিক বর্ণ ছিল, এবারের উদ্ধারকৃত পোশাকগুলোতেও পাওয়া গেছে কুফিক বর্ণমালার উপস্থিতি। ‘আল্লাহ’ শব্দটির পাশে বারবার আলী শব্দটিরও ব্যবহার হয়েছে, জানান লারসন।

তিনি আরও বলেন, ‘আমি জানি মুসলিম শিয়া সম্প্রদায়ের লোকেরা আলীকে অনেক সম্মান করেন এবং এমন সংযোগ দেখেও আমি অবাক হয়েছি।’

মহানবী মুহাম্মদের (সা.) মেয়ে ফাতিমাকে বিয়ে করেছিলেন আলী। তিনি ছিলেন ইসলাম ধর্মের চার খলিফার মধ্যে একজন।

শিয়া ও সুন্নী সম্প্রদায়ের লোকেদের কাছে আলী গুরুত্বপূর্ণ হলেও শিয়া সম্প্রদায়ে তাকে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়।

লন্ডনের ইসলামিক কলেজের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের প্রধান আমির দে মারতিনো বলেন, ‘ভাইকিংদের শেষকৃত্যের পোশাকে যে আলী লেখা শব্দ পাওয়া গেছে তাতে বুঝা যাচ্ছে, তাদের সঙ্গে শিয়াদের একটা যোগাযোগ থাকতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘যে প্যাটার্নে আলী শব্দটি লেখা হয়েছে, তাতে মনে হচ্ছে তারা ‘আল্লাহর বন্ধু’ হিসেবে সেই শব্দটি ব্যবহার করতে চেয়েছে। এটা আবার শিয়া মতাবলম্বীদের সঙ্গে মেলে না।’

লারসন বলেন, ‘কেউ হয়তো ভুল করে এটা কপি করেছে। আমি ভাইকিংদের প্যাটার্ন ধরার চেষ্টা করছি। আমি নিশ্চিত ভাইকিংদের জিনিসে আরও ইসলামিক শিলালিপি খুঁজে পাব। কে জানে হয়তো পোশাক ছাড়াও অন্য কোনো শিল্পকর্ম খুঁজে পাব।’

আইএম

print
 

আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad