দক্ষিণ ভারতের স্বামী পরিত্যক্তা নারীদের সংগ্রামী জীবন

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৮ জানুয়ারি ২০১৮ | ৫ মাঘ ১৪২৪

দক্ষিণ ভারতের স্বামী পরিত্যক্তা নারীদের সংগ্রামী জীবন

পরিবর্তন ডেস্ক ৪:৪৯ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২১, ২০১৭

print
দক্ষিণ ভারতের স্বামী পরিত্যক্তা নারীদের সংগ্রামী জীবন

মুথুকারুপায়া বয়স ৫২ বছর। ২৪ বছর আগে তার স্বামী তাকে কোনো প্রকার আইনি বিবাহবিচ্ছেদ বা ক্ষতিপূরণ না দিয়েছে চলে গেছেন। তখন তিনি তার দুই সন্তানদের ভরনপোষণের জন্য মাছ ধরার কাজ নেন। তারা দক্ষিণ ভারতের তামিলনাডু রাজ্যের ধনুশকোডি গ্রামের একটি মৎস পল্লীতে বাস করতেন। সে সময় তার দুই মেয়ে- অমুধা ও সেলভি যথাক্রমে দুই ও পাঁচ বছর বয়স ছিল। গ্রামের বেশিভাগ মেয়েদের মতো তাদেরও অনেক চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে। ভারতীয় আইন অনুযায়ী তাদের বিয়ে করার বৈধ বয়স ১৮ হয়েছে।

সেলভি বয়স যখন আট বছর তখন থেকেই সে মায়ের সঙ্গে কাজ করছেন। সে কখনো স্কুলে যায়নি। এক প্রতিবেশীর সঙ্গে প্রেমে জড়িয়ে ১৪ বছর বয়সে সে গর্ভবর্তী হয়। তারা বিয়েও করেছেন, তারপর তার স্বামী চলে যায়। এরপর আট বছর ধরে তিনি বিবাহবিচ্ছেদের জন্য লড়াই করেছেন। তার ছেলে নাম্বুদিভিনের বয়স ১৪। সে কখনো তার বাবার কথা মাকে জিজ্ঞাসা করে না। তিনি চান না সে বড় হয়ে একজন মৎসজীবী হোক। তিনি চান সে একটি অফিসে কাজ করুন।

তবে সেলভির মতো তার বোন অমুধা। সে তার ছোট বেলায় স্কুলে গেছে। অমুধা আরো পড়াশোনা করতে চেয়ে ছিলো, কিন্তু মা তাকে আর স্কুলে পাঠাতে পারেননি। কারণ জীবীকার জন্য তাকেও কাজ করতে হত।

অমুধার এখন একটি পাঁচ বছর বয়সী মেয়েসহ, দুটি সন্তান আছে। দু’বছর আগে অমুধা স্বামীও চলে গেছেন। সে বলেছিল, তারা তার (স্বামীর) মদ্যপানের সঙ্গে লড়াই করেছেন।

ভারতের প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে বিবাহবিচ্ছেদের পর স্ত্রী ও সন্তানদের ভরণপোষণের কোন আইনি প্রক্রিয়া নেই। পরিবর্তে, গ্রামের মুরব্বিরা বৈবাহিক বিরোধ সমাধান করতে হস্তক্ষেপ করে।

গ্রামের মেয়েরা কম বয়স থেকেই মাছ ধরার শুরু করে। তাদের যৌতুক এবং ব্যয়বহুল বিবাহের জন্য পরিবারগুলো অনেক আগে থেকে টাকা জমাতে শুরু করে।

ধনুশকোডি গ্রামে মতই মৎস্যজীবীদের জীবন কঠোর। এই গ্রামের প্রতি ১০জনে একজন নারী তাদের স্বামী দ্বারা পরিত্যক্ত হয়েছেন। এবং কারণ বিবাহ তাদের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসাবে দেখা হয়, এই পরিত্যক্ত পত্নী বৈষম্য সম্মুখীন হতে পারে। তারা খুব কমই পুনর্বিবাহ করেন। সূত্র : বিবিসি।

এএস

print
 
.

আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad