কৃষিপ্রযুক্তি বদলে দিয়েছে গ্রামের নারীদের জীবনচিত্র

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৪ অক্টোবর ২০১৭ | ৯ কার্তিক ১৪২৪

কৃষিপ্রযুক্তি বদলে দিয়েছে গ্রামের নারীদের জীবনচিত্র

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি ১২:৫৯ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০১৭

print
কৃষিপ্রযুক্তি বদলে দিয়েছে গ্রামের নারীদের জীবনচিত্র

গ্রামের অধিকাংশ গৃহবধূই গৃহস্থালীর কাজেই ব্যস্ত থাকেন। বাড়ির কাজের পাশাপাশি হাঁস-মুরগী, গরু-ছাগল ও বাড়ির আঙিনায় সবজি চাষও করেন অনেকে। এতে করে সংসারে কিছুটা হলেও আর্থিক সহায়তা পাওয়া যায়।

অবসর সময়ে নারীদের পুরোপুরিভাবে কৃষিতে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে কাজ করছে কুষ্টিয়ার ‘মহিলা কৃষি প্রযুক্তি ক্লাব’ নামের একটি সংগঠন। এ কাজে সংগঠনটি সফলও হয়েছেন।

এই ক্লাবের সদস্য খাদিজা খাতুন। বাড়ির আঙিনায় চাষ করেছেন সবজি, ফলমূলসহ নানা জাতের ফসল। গড়ছেন কৃষি খামার। কীটনাশক ও রাসায়নিক সারের পরিবর্তে ব্যবহার করছেন ভার্মি কম্পোস্ট ও জৈব কীটনাশক। উৎপাদিত শতভাগ নিরাপদ সবজি ও ফল নিজেদের পুষ্টি চাহিদা মিটিয়ে বিক্রি করছেন বাজারে।

বুধবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বাড়ির আঙিনায় বীজে জীবাণু সার মেশাতে ব্যস্ত খাদিজা খাতুন। তাকে সহযোগিতা করছেন স্বামী নুর আলম।

তিনি জানালেন, জীবাণু সার মেশানোর ফলে আবাদকালীন জমিতে কোনো ধরনের রাসায়নিক সার ব্যবহারের প্রয়োজন পড়ে না।

খাদিজা জীবাণু সারের ব্যবহার শিখেছেন মহিলা কৃষিপ্রযুক্তি ক্লাব থেকে। নিজে শিখে থেমে থাকেননি, শিখিয়েছেন স্বামীকেও।

শুধু খাদিজা নন, তার মতো প্রায় তিন হাজার নারী দেশের প্রথম মহিলা কৃষিপ্রযুক্তি ক্লাব’র সদস্য হয়ে হাতে-কলমে শিখছেন কৃষির আদ্যোপান্ত।

কৃষিপ্রযুক্তি ক্লাবের সদস্য শিল্পী খাতুন জানালেন, তাদের উৎপাদিত সবজি বা ফলে কোনো রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার করা হয় না। মাটির ঊর্বরতা রক্ষায় জৈব সার আর পোকামাকড় দমনে বালাইনাশক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

কৃষিপ্রযুক্তি ক্লাবের আরেক সদস্য হালিমা খাতুন বলেন, সংসারের চাহিদা মিটিয়ে এ মৌসুমে ২ হাজার টাকার সবজি বিক্রি করেছি। সেই টাকা দিয়ে সংসারের খুঁটিনাটি জিনিসপাতি কিনেছি। মাঝে মাঝে ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার খরচ দেয়া যায়।

বছরখানেক আগে কুমারখালীর সাঁওতা, পাইকপাড়া, ইছাখালী, কাঞ্চনপুর, শিংদহ ও শ্যামপুর গ্রামে হাতেগোনা কয়েকজন নারীকে নিয়ে এই ক্লাবের যাত্রা। এখন সদস্য সংখ্যা ৩ হাজার ছুঁইছুঁই।

তারা সপ্তাহে দুইদিন বসতবাড়ির আঙিনায় চাষাবাদ পদ্ধতি, জৈব সার তৈরিসহ কৃষির খুঁটিনাটি শিখছেন।

মহিলা কৃষিপ্রযুক্তি ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা ও কুমারখালীর উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা বকুল হোসেন জানান, কৃষিপ্রযুক্তি বদলে দিয়েছে গ্রামের নারীদের জীবনযাত্রা। তারা হয়ে উঠছে আত্মনির্ভরশীল।

এ পদ্ধতি সারাদেশে চালু হলে কৃষিতে নতুন মাত্রা যোগ হবে বলে মনে করছেন এই কৃষিবিদ।

কুষ্টিয়া জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. শাহাবুদ্দিন জানান, মহিলা কৃষিপ্রযুক্তি ক্লাব’র উদ্যোগে কুমারখালীর ছয় গ্রামে খামারজাত সার ও ভার্মি কমপোস্ট সার তৈরির ব্যবস্থা করা হয়েছে। বাড়িতে সবজি খামার, অন্যান্য ফল গাছের পাশাপাশি কলা, পেঁপে ও সফেদা গাছ লাগানো হয়েছে।

এমপি/বিএইচ/

print
 

আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad