ইরাক আগ্রাসনের পেছনে কি স্টারগেট? (ভিডিও)

ঢাকা, শনিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭ | ৮ আশ্বিন ১৪২৪

ইরাক আগ্রাসনের পেছনে কি স্টারগেট? (ভিডিও)

কে বি আনিস ৩:৫৩ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৭

print
ইরাক আগ্রাসনের পেছনে কি স্টারগেট? (ভিডিও)

পরমাণু কর্মসূচী চালাচ্ছে এমন অভিযোগে ২০০৩ সালের ২০ মার্চ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন বহিনী ইরাকে আগ্রাসন চালায়। ওই আগ্রাসী বাহিনীতে অস্ট্রেলিয়া, ডেনমার্ক, পোল্যান্ড এবং অন্যান্য কয়েকটি জাতির সেনারাও অংশ নেয়।

তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ এবং তার মিত্রদের যুক্তি ছিল ইরাক ১৯৯১ সালের চুক্তি অমান্য করে গণবিধ্বংসী অস্ত্র নির্মাণ করছে এবং তাদের কাছে এই ধরনের অস্ত্র মজুদও রয়েছে। তাদের দাবি ছিল, আমেরিকা এবং মিত্র রাষ্ট্রগুলোর জন্য ইরাক বড় ধরনের হুমকি হয়ে দেখা দিয়েছে।

ইরাক আগ্রাসনের মধ্য দিয়ে সাদ্দাম সরকার পতনের পর অবশ্য দেখা যায় দেশটিতে কোনো ধরনের পরমাণু কিংবা বিধ্বংসী অস্ত্র নেই। ফলে গোটা বিশ্বের সমালোচনার মুখে পরে মার্কিন বাহিনী। তৎকালীন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারকেও বিচারের মুখোমুখি হতে হয়। কিন্তু একটি প্রশ্ন থেকেই যায়! সেটি হচ্ছে ইরাক আগ্রাসনের মূল কারণ আসলে কি ছিল?

বিশ্লেষকেরা নানা ধরনের কারণ দেখাতে থাকেন। কেউ কেউ বলেন, ইরাকের তেলের দিকে ছিল পরাশক্তিধর দেশগুলোর নজর। কারও কারও দাবি ছিল, ইরাকে সাদ্দামের একচ্ছত্র আধিপত্য এবং নাক উঁচু মনোভাব মধ্যপ্রাচ্যে পশ্চিমাদের প্রভাব ক্রমেই খর্ব করছিল। কেউ আবার বলেছিলেন, সন্ত্রাস আর জঙ্গিবাদে মদদ দিচ্ছে সাদ্দাম সরকার।

কিন্তু সেসব কারণকে ছাড়িয়ে কেউ কেউ দাবি করে বসেন, ইরাক এমন অস্ত্র বা প্রযুক্তির সন্ধান পেয়েছিল যা ভবিষ্যতে পরাশক্তিধর দেশগুলোর জন্য হুমকি হয়ে দেখা দিত। আর সেসব অস্ত্র কিংবা প্রযুক্তি সাদ্দামের বার্থ পার্টির তৈরি নয়। বরং অন্য কোনো হারানো সভ্যতার!

একজন মার্কিন বিজ্ঞানী তো সরাসরি বলেই বসলেন, আসলে সাদ্দাম সরকার ভিন্ন জগতে যাওয়ার পথ আবিস্কার করেছিলেন যাকে বিজ্ঞানীরা স্টারগেট নামে চেনে। বলা হয়ে থাকে, স্টারগেট এমন একটি প্রবেশ পথ বা মাধ্যম যা দিয়ে কোনো প্রকার যান ছাড়াই ভিন্ন গ্রহে কিংবা সভ্যতায় চলে যাওয়া সম্ভব। কেউ কেউ আবার স্টারগেটকে প্যারালাল ইউনিভার্স কিংবা সমান্তরাল মহাবিশ্বের যাতায়াতের চাবি হিসেবেও আখ্যা দিয়ে থাকেন।

মার্কিন দার্শনিক ও মনোবিজ্ঞানী উইলিয়াম জেমস ১৮৯৫ সালে যে মাল্টিভার্স বা অনন্ত মহাবিশ্বের উক্তিটি করেছিলেন, পরবর্তীতে তা নিয়ে বহু আলোচনা এবং গবেষণা হয়েছে। ১৯৫২ সালে ডাবলিনে এরভিন শ্রোডিঙ্গার প্যারালাল ইউনিভার্স বা সমান্তরাল মহাবিশ্বের ধারণাটির ব্যাখ্যা বিশ্ববাসীকে জানান।

মিনেকোস্কি কিংবা আইনস্টাইনও বিষয়টির অস্তিত্বের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি। তাদের মতে, এই মহাবিশ্ব বহুমাত্রিক হওয়াটাই স্বাভাবিক!   

আর তাই যদি হয়, তবে এই পৃথিবীরও বিভিন্ন মাত্রা কিংবা স্তর রয়েছে বলে কারও কারও মত। কোনো কোনো বিজ্ঞানী স্টারগেটকে সময় পরিভ্রমণের পথ বলেও মনে করে থাকেন।

আজকের বিজ্ঞান এই বিষয়টিকে যে বিকৃত মস্তিস্কের ফসল বলে উড়িয়ে দিচ্ছে তা কিন্তু নয়!

যুক্তরাষ্ট্রের সিআইএ ভবিষ্যৎকে বিশ্লেষণ করার ক্ষমতা পেতে গোপনে স্টারগেট প্রজেক্ট শুরু করে। ফাঁস হয়ে যাওয়া সিআইএ’র সবচেয়ে বড় প্রকল্পটি নিয়ে একসময় নানা সমালোচনাও হয়েছিল। ধারণা করা হয়, বিশ্বের পরাশক্তিধর দেশগুলো এখনও এই গবেষণার পেছনে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ব্যয় করছে।

ইরাকেও স্টারগেটের অস্তিত্ব থাকার কথা কেউ কেউ দাবি করে থাকেন। তাদের মতে, প্রাচীন টাইগ্রিস বা দজলা এবং ইউফ্রেতিস বা ফোরাত নদীর কাছে যে মেসোপটেমিয়া সভ্যতার উদয় হয়েছিল তার পেছনে ভিন্ন মাত্রার কিংবা দূর মহাকাশের উন্নত প্রাণীর ভূমিকা ছিল।

বিজ্ঞানীদের ধারণা সম্ভবত সাদ্দাম সরকার তেমনই কোনো উন্নত বিজ্ঞানের উৎসের সন্ধান পেয়েছিলেন। যা জেনে গেলে কিংবা ব্যবহার শুরু করলে বিশ্বের ইতিহাসের ধারণাই পাল্টে যেত। হয়তো ক্ষমতারও বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটতো!

এই বিষয়ে মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ড. মাইকেল শিলা সম্প্রতি একটি প্রবন্ধ রচনা করেন। যেখানে তিনি ইরাক আগ্রাসনের মূল কারণ হিসেবে এমন এক ধারণার জন্ম দেন যা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দেয়।

মাইকেল শিলা দাবি করেন, সাদ্দাম হোসেনের কাছে এমন এক প্রযুক্তি ছিল যার বিষয়ে বিশ্বের পরাশক্তিগুলো চিন্তিত হয়ে পড়েছিল। তার মতে, আসলে সাদ্দাম হোসেন প্রাচীনকালে ব্যবহৃত স্টারগেট খুঁজে পেয়েছিলেন।

তিনি দাবি করেন, এটি সেই ধরনের প্রযুক্তি ছিল যা দিয়ে সময় ভ্রমণ করা ছাড়াও ভিন্ন জগতে প্রবেশ করা সম্ভব! ড. মাইকেল বলেন, সেই প্রযুক্তিটি সুমেরীয় সভ্যতার সময় ব্যবহৃত হত। যা ভিন জগতের উন্নত কোনো সভ্যতা স্থাপন করেছিল।

সুমেরীয়রা সেটিতে ভ্রমণও করেছিল, যার প্রমাণ সাদ্দাম হোসেনের কাছে ছিল। তিনি দাবি করেন, ভীনগ্রহের উন্নত মানুষ সুমেরীয় সভ্যতার বিকাশে অনন্য ভূমিকা রাখে। তারা এই সৌরজগতে থাকা রহস্যময় নিবিরু গ্রহ থেকে এসেছিলেন। বিজ্ঞানীদের একাংশ যাদের আনুনাকি নামে ডেকে থাকেন।

এলিয়েন বিশ্বাসীদের মতে, প্রতি ৩৬শ’ বছর পর পর তারা পৃথিবীতে ভ্রমণ করে থাকেন। তারা মানব বিবর্তন থেকে শুরু করে সভ্যতার উৎকর্ষতার পেছনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। প্রাচীন শিলালিপিতেও তাদের অস্তিত্বের স্পষ্ট নিদর্শন রয়েছে।  

যাতায়াতের সুবিধার জন্য আনুনাকি জাতি পৃথিবীতেও বিশেষ পথ স্থাপন করেন, যাকে আমরা স্টারগেট হিসেবে উল্লেখ করে থাকি। ড. শিলার মতে, এই বিশেষ পথটি হাজার হাজার বছর ধরে সুপ্ত অবস্থায় ছিল। বিভিন্ন পুঁথি ও শিলালিপিতে এর উল্লেখ থাকলেও আধুনিক মানুষ তা এখনও বুঝতে পারেনি।

কিন্তু সাদ্দাম সরকার বিষয়টির অস্তিত্ত্বের কথা জানতে পেরে গবেষণা চালায় এবং ইরাকের দক্ষিণাঞ্চলে এর সন্ধান পায়। দাবির স্বপক্ষে তিনি বেশ কিছু প্রমাণও উত্থাপন করেন, যার একটি ছিল রুশ পত্রিকার কাটিং। ১৯৯৯ সালে প্রকাশিত সেই পত্রিকার শিরোনামে লেখা ছিল, সাদ্দাম হোসেন কি বিধ্বস্ত ইউএফও’র (Unidentified flying object) সন্ধান পেয়েছেন?

প্রকাশিত সেই প্রতিবেদনে বলা হয়, সাদ্দাম সরকারের প্রকৌশলীরা যে ইউএফও’টি নিয়ে গবেষণা চালাচ্ছেন তা বেশ কয়েক বছর আগে বিধ্বস্ত হয়েছিল। সম্ভবত মার্কিন প্রশাসন বিষয়টি জেনে আগ্রহী হয়ে ওঠে। এরপর স্টারগেটের কথা জানতে পেরে আতংকিত হয়ে পড়ে। কেননা তারা আনুনাকির বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত ছিল।

তাদের ভয় হচ্ছিল, আনুনাকি ইরাকে থাকা স্টারগেট ব্যবহার করে পৃথিবীতে চলে আসতে পারে। এবং সেটিকে রক্ষায় ইরাকসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশকে আক্রমণ করে বসতে পারে। ফলে স্টারগেট প্রকল্প বন্ধে সাদ্দামকে বাধ্য করতে ইরাকে আগ্রাসনের প্রয়োজনীয়তা বোধ করে যুক্তরাষ্ট্র।

যদিও এই দাবি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া আছে। তবে বিজ্ঞানীদের কেউ কেউ ড. শিলার দাবিকে না জেনে উড়িয়েও দিতে চান না। আর দাবি যদি সত্যি হয় তবে সেই স্টারগেট কি মার্কিনীদের দখলে রয়েছে? সেটি নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

ভিডিও লিঙ্ক

কেবিএ

print
 
nilsagor ad

আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad