প্ল্যানেট সারপো: কল্পকাহিনী নাকি সত্যি?

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৪ অক্টোবর ২০১৭ | ৮ কার্তিক ১৪২৪

প্ল্যানেট সারপো: কল্পকাহিনী নাকি সত্যি?

পরিবর্তন ডেস্ক ৩:৫১ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১০, ২০১৭

print
প্ল্যানেট সারপো: কল্পকাহিনী নাকি সত্যি?

মার্কিন কল্প-বিজ্ঞান কাহিনী লেখক লেন কাস্তেন ভিনগ্রহের ভ্রমণ নিয়ে লিখেছিলেন ‘সিক্রেট জার্নি টু প্ল্যানেট সারপো’ (Secret Journey to Planet Serpo) উপন্যাসটি। ২০১৩ সালের মে মাসে প্রকাশিত বইতে উঠে এসেছিল ১২ নভোযাত্রীর ভিনগ্রহের অভিযান এবং ফিরে আসার নানা নাটকীয়তার কথা। রোমহর্ষক সেই উপন্যাসকে নিয়ে সম্প্রতি কৌতুহল তুঙ্গে উঠেছে। অনেক এলিয়েন বিশ্বাসীর মনে উপন্যাসটির কাহিনী নিয়েও প্রশ্ন জেগেছে। সম্প্রতি সিআইএ’র ফাঁসকৃত কিছু নঁথির সঙ্গে এই কল্প-কাহিনীর যে মিল রয়েছে শতভাগ! তবে এই ঘটনা লেখক লেন কাস্টেন জানলেন কিভাবে?

উপন্যাসে কাহিনী ছিল এরকম.. ১৯৬৫ সালের ১৬ জুলাই দূর মহাকাশের জ্যোর্তিমণ্ডল ‘জেটা রেটিকুলি’ থেকে একটি ভিনগ্রহের যান যুক্তরাষ্ট্রের নেভাডায় অবতরণ করে। লাসভেগাসের যে অঞ্চলে মহাকাশযানটি অবতরণ করে তা সকলের কাছেই রহস্যময় এরিয়া ৫১ (Area 51) হিসেবে পরিচিত। ভ্রবিজ্ঞানীরা সেখান থেকে এলিয়েনদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করায় ভিনগ্রহের যানের অবতরণের ব্যাপারটি কর্তৃপক্ষের কাছে অস্বাভাবিক ঘটনা ছিল না।

উপন্যাসে উল্লেখ করা হয়, ১৯৬২ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডি বর্হিজাগতিক প্রাণীদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য একটি প্রকল্প চালু করেন। যা ‘প্রজেক্ট ক্রিসটাল নাইট’ (Project Crystal Knight) হিসেবে নামকরণ করা হয়। এই প্রকল্পের মাধ্যমে সৌরজগতের বাইরে দূর নক্ষত্রমণ্ডল ‘জেটা রেটিকুলি’তে বিজ্ঞানীরা সংকেত প্রেরণ করে যোগাযোগের চেষ্টা করেন।

অপেক্ষায় ফল মেলে ৩ বছর পর.. সেই নক্ষত্রমণ্ডল থেকে একটি নভোযানের সত্যি আবির্ভাব ঘটে। সেই নভোযানে আসা বড় মাথাবিশিষ্ট মানুষাকৃতির প্রাণীরা তাদের পরিচয় দেয় ইবানস (Ebens) হিসেবে। অর্থাৎ তারা ‘জেটা রেটিকুলি’ নক্ষত্রমণ্ডলের বাসযোগ্য গ্রহ সারপো থেকে এসেছে। ইবানস নামক এলিয়েনরা জানায়, তারাও চাইছে মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে বন্ধুত্বের বার্তা পৌঁছে দিতে।

আর এই সম্পর্ক সুদৃঢ় করতে এবং পৃথিবীবাসীর মধ্যে তাদের সম্পর্কে বিশ্বাস আরও বৃদ্ধি করতে ১ ডজন মানুষকে তারা সারপো গ্রহে আমন্ত্রণ জানায়। সেই প্রস্তাব গুরুত্বের সঙ্গেই নেয় মার্কিন বিজ্ঞানীরা। প্রশিক্ষিত দক্ষ ১২ জন নভোচারীকে তারা ইবানসদের নভোযানে পাঠিয়ে দেয়।

সেই ১২ নভোচারীকে নিয়ে এলিয়েনরা ২৪০ ট্রিলিয়ন মাইল অর্থাৎ ৩৯ আলোকবর্ষ দূরের সারপো গ্রহে পাড়ি জমায়। উপন্যাসে বলা হয়, সেই নভোযানটি এতটাই দ্রুতগতির ছিল যে আলোকেও তা হার মানিয়েছিল। তবে এত দ্রুতগতির যানে আরোহন করায় নভোচারীদের নানা শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়। যার মধ্যে অন্যতম ছিল শ্বাসকষ্ট! আর সেই কারণেই ১২ নভোচারীদের মধ্যে ১ জন অসুস্থ হয়ে পড়েন। এবং যাত্রাপথেই মারা যান।

সারপো’তে অবতরণের পর গ্রহটির সঙ্গে মানিয়ে নিতে পৃথিবীর নভোচারীদের বেশ বেগ পেতে হয়। ইবানস জাতি সাহায্য না করলে তাদেরও বেঁচে থাকা অসম্ভবই হত। উপন্যাসে বলা হয়, গ্রহটির দু’টি সূর্য, উচ্চ মাত্রার তেজস্ক্রিয়তা আর ৪৩ ঘণ্টার দিন হওয়ায় গোড়ার দিকে নভোচারীদের ভ্রমণ খুব সুখের ছিল না। বলতে গেলে, ইবানসদের সঙ্গে মানিয়ে নিতে তাদের বেশ কষ্টই করতে হয়।

মার্কিন নভোচারীদের অভিযানের সময় ১০ বছর বেঁধে দেয়া হলেও, দিনের হিসেবে তারা তালগোল পাকিয়ে ফেলে। কতদিন সারপো’তে অবস্থান করেছে, পৃথিবীর হিসেবে তা মেলানো তাদের জন্য অসম্ভব হয়ে পড়ে। এর মূল কারণই ছিল সারপো’র দিন নির্ণয় হয় ৪৩ ঘণ্টায়। ফলে অনেক হিসেব নিকেশ করে যখন তারা ফেরার আয়োজন করল, ততদিনে ১০ বছরের বেধে দেয়া সময় পেড়িয়ে গেছে।

অবশ্য অভিযান তাদের সফল হয়েছিল! ফেরার সময় ইবানস গোষ্ঠী তাদের সঙ্গে শুধু তথ্যই বিনিময় করেনি, সেই সঙ্গে মানবজাতির জন্য বন্ধুত্ব এবং মঙ্গলকামনাও করে।

অবশ্য ১৯৭৮ সালের আগস্টে যখন তারা পৃথিবীতে ফিরে এল, তখন নভোচারীদের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে মাত্র ৭ জনে। যাত্রাপথে তো একজন আগেই মারা যায়। এরপর সারপো গ্রহে মারা যায় আরও দুই নভোচারী। আর বাকি ২ জন সেই গ্রহেই থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। কেননা, পৃথিবীর চাইতেও সারপো গ্রহে ভবিষ্যত উজ্জ্বল বলে তারা মতামত দেয়।

উপন্যাসের কাহিনী এমন হলেও সম্প্রতি মার্কিন ফাঁসকৃত গোপন তথ্যের সঙ্গে এর মিল খুঁজে পাওয়া গেছে। এমনকি ২০০৫ সালের নভেম্বরে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা ডিআইএ (Defense Intelligence Agency)’র এক অবসরপ্রাপ্ত সদস্য এমন দাবি করেছিলেন।

কাকতালীয় হলেও সত্যি, জন এফ কেনেডি নাকি সত্যিই সারপো এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম চালু করেছিলেন। এমনকি ভিনগ্রহ ভ্রমণ করে ৭ নভোচারী পৃথিবীতে ফিরে ৩ হাজার পাতার ভ্রমণ প্রতিবেদনও নাকি রচনা করেছিলেন। শুধু তাই নয়, সেই নভোচারীরা অভিযানের প্রচুর ছবি এবং ভিডিও পৃথিবীতে নিয়ে এসেছিলেন।  

সে যাই হোক, মার্কিন সরকার কিছুদিন আগে যেসব গোপন তথ্য উন্মুক্ত করেছে সেখানেও ইউএফও আর এলিয়েন বিষয়ক বেশ কিছু রোমহর্ষক তথ্য ছিল। কাজেই স্টার ট্রেকের মত টিভি সিরিজ কোনোদিন সত্যি হয়ে মানুষের সামনে ধরা দিলে আশ্চর্যের কিছু হবে না। কেননা, একটি মহল আমাদের অজান্তেই বিষয়গুলো দেখিয়ে ও জানিয়ে দিচ্ছে।

কেবিএ

print
 

আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad