লেখকদের প্রতি হেমিংওয়ের ১১ পরামর্শ

ঢাকা, সোমবার, ২৯ মে ২০১৭ | ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৪

লেখকদের প্রতি হেমিংওয়ের ১১ পরামর্শ

সাবিদিন ইব্রাহিম ৮:১৬ অপরাহ্ণ, মার্চ ১৫, ২০১৭

print
লেখকদের প্রতি হেমিংওয়ের ১১ পরামর্শ

আর্নেস্ট হেমিংওয়ে (১৮৯৯-১৯৬১) কখনো ছিলেন বড় একজন সৌখিন শিকারী বা গভীর সমুদ্রের জেলে আবার কখনো সাহসী সাংবাদিক। এর বাইরে আর্নেস্ট হেমিংওয়ের সবচেয়ে বড় পরিচয় তিনি ছিলেন একজন সুনিপুণ সাহিত্যশিল্পী। তিনি সকাল সকালে ঘুম থেকে উঠতেন এবং লিখতেন। মার্কিন এ লেখকের সেরা গল্পগুলো আধুনিক যুগের মাস্টারপিস হিসেবে গণ্য হয়। আর তার ছোট ছোট বাক্য ও সহজ শব্দের গদ্যশৈলী বিশ শতকের সবচেয়ে প্রভাব বিস্তারী স্টাইলগুলোর একটি।

 

হেমিংওয়ে ফিকশন লেখার কৌশল নিয়ে কোনো গবেষণামূলক গ্রন্থ লিখেননি। তিনি যা করেছেন তা হল, আমাদের জন্য রেখে গেছেন অসংখ্য চিঠি, প্রবন্ধ ও মতামতে ভরপুর বই। ওখান থেকে লেখনির উপর তার উপদেশগুলো পাই। এর মধ্য থেকে সেরাগুলো একসাথে করে ১৯৮৪ সালে ল্যারি. ডব্লিউ. ফিলিপস একটি বই লিখেন। বইটির নাম ছিল ‘আর্নেস্ট হেমিংওয়ে অন রাইটিং’। আমরা ঐ বইটি থেকে সেরা এগারোটি পরামর্শ বা টিপস বাছাই করেছি। সঙ্গে রয়েছে ওগুলোর ব্যাখ্যা।

একজন বড় লেখককে দেখে মনে হতে পারে তিনি অনেক জ্ঞান নিয়েই জন্ম নিয়েছেন। কিন্তু ব্যাপারটা আসলে তা না। তিনি আসলে খুব দ্রুত শেখার ক্ষমতা নিয়ে জন্মেছেন বা দ্রুত শেখার ক্ষমতা অর্জন করেন। আর তার এই সক্ষমতা আছে বা অর্জন করেন যে তিনি দ্রুত কোন জিনিস ফেলেও দিতে পারেন। মানে নতুন কোন জিনিস গ্রহণ করতে দ্বিধা বা পুরনো জিনিস বাতিল করতে ইতস্তত করেন না। যারা লেখালেখি করছেন বা লেখক হতে চান তারা মনোযোগ দিয়ে শুনতে পারেন আর্নেস্ট হেমিংওয়ের এই ১১টি পরামর্শ।


১. একটা সত্য বাক্য দিয়ে লেখা শুরু করা


‘রাইটারস্ ব্লক’ এড়াতে হেমিংওয়ের একটা মজার তরিকা ছিল। “অ্যা মুভেবল ফিস্ট” এর একটি স্মরণীয় অনুচ্ছেদে লিখেন— “মাঝে মাঝে এমন হত— নতুন গল্প শুরু করে আর এগোতে পারতাম না। আগুনের সামনে বসে কমলা ছিলতাম আর কমলার খোসাতে চাপ দিতাম। মৃদু আওয়াজ হতো আর আগুনের আলোতে নীল হয়ে উঠত ছোটো ফোঁটাগুলি। আমি দাঁড়াতাম আর প্যারিসের আকাশে তাকিয়ে ভাবতাম— ‘চিন্তা করো না, তুমি এর আগেও অনেক লিখেছ এবং এখনো লিখবে। তোমার যা করতে হবে তা হচ্ছে শুধু একটা সত্য বাক্য লিখা। তোমার জানা সবচেয়ে সত্য বাক্যটি লিখ।’ এভাবে আমি একটা সত্য বাক্য লিখতাম এবং ঐখান থেকে গল্প এগিয়ে চলত। এটা ছিল খুবই সহজ কারণ সব সময়ই আমার কাছে একটা সত্য বাক্য থাকত, অথবা দেখেছি অথবা কাউকে বলতে শুনেছি।”

২. একদিনের জন্য সবসময় ঐ জায়গাতেই থেমে যাও যখন তুমি জানো পরবর্তীতে কি ঘটবে

থেমে যাওয়া ও ভেস্তে যাওয়ার মধ্যে পার্থক্য আছে। গল্প নিয়ে ভালভাবে অগ্রসর হওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিদিন একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ শব্দ লেখা কম গুরুত্বপূর্ণ ছিল তার কাছে। কল্পনার ভাণ্ডার ফুরিয়ে ফেলার চেয়ে প্রতিদিন নির্দিষ্ট সংখ্যক শব্দ লেখা গুরুত্বপূর্ণ নয়। ১৯৩৫ সালের অক্টোবর মাসে “এসকোয়ার” ম্যাগাজিনে “মনোলগ টু দা মায়েস্ট্রো: অ্যা হাই সীস্ লেটার” নামক একটি প্রবন্ধে হেমিংওয়ে তরুণ লেখকদেরকে এই উপদেশটি দেন—“সবচেয়ে ভাল পদ্ধতি হচ্ছে ভাল থাকতেই থেমে ফেলা। কারণ তুমি জানো পরবর্তীতে কি ঘটবে। উপন্যাস লেখার সময় তুমি যদি প্রত্যেকদিন এ পদ্ধতিটি অনুসরণ কর তাহলে কোনদিন আটকাবে না। তোমাদের কাছে সবচেয়ে মূল্যবান এ কথাটিই বলতে পারি। সুতরাং মনে রাখতে চেষ্টা করবে।”

৩. যখন তুমি কাজ করছো না, গল্প নিয়ে কখনো ভেবো না

আগের উপদেশটির সাথে সঙ্গতি রেখে হেমিংওয়ে বলেন— “পরবর্তী দিন কাজ শুরু করার আগ পর্যন্ত গল্পটি নিয়ে আর ভেবো না। তোমার অবচেতন মন ঐটা নিয়ে সবসময় কাজ করবে। কিন্তু তুমি যদি এটা নিয়ে সচেতনভাবে ভাব অথবা চিন্তা কর তাহলে ওটাকে তুমি মেরে ফেলবে। এবং তোমার মস্তিষ্কে পরবর্তী দিন শুরু করার আগেই ক্লান্ত হয়ে পড়বে।”
“অ্যা মুভঅ্যাবল ফিস্ট” এ আরেকটু বিস্তৃত করতে গিয়ে বলেন— “লেখার সাথে সাথে কিছু পড়াশোনা করা দরকার। তুমি যদি ওটা নিয়ে চিন্তা করতে থাক তাহলে পরবর্তী দিন তোমার লেখার জিনিসটা হারিয়ে ফেলবে। একটু ব্যায়াম করা দরকার। শরীরটাকে ক্লান্ত করা উচিত। সবচেয়ে ভাল প্রিয়তমার সাথে প্রেমে মজে থাকা। এটা যেকোন কিছুর চেয়েই উত্তম। তারপর তুমি যখন নিজেকে খালি করে ফেল তখন তোমার উচিত কিছু পড়ালেখা করা। যাতে পরবর্তী দিন কাজ শুরু করার আগে কোন বিষয়ে চিন্তিত বা উদ্ধিগ্ন না হও। আমি আমার লেখার ভাণ্ডার কখনো শূন্য না করার কলা রপ্ত করে ফেলেছি। কারণ আমি তখনই থেমে ফেলি যখনও ভাণ্ডারের গভীরে কিছু বাকি থাকে। এবং রাতে ভাণ্ডারে জমা হতে থাকে।”
 
৪. ইতোমধ্যে লিখিত অংশটা পড়েই আবার নতুন দিনে কাজ শুরু করতে হবে

গল্পের চলমানতা ধরে রাখার জন্যে হেমিংওয়ে যা পূর্বে লিখেছেন তা পড়াকে অভ্যাসের অংশ বানিয়ে ফেলেছিলেন। তারপর তিনি সামনে এগুতেন। “এস্কোয়ার” এর ১৯৩৫ সালে প্রকাশিত ঐ প্রবন্ধটিতেই তিনি লিখেন—
“সর্বোত্তম পন্থা হচ্ছে প্রত্যেকদিন শুরু করার আগে একবারে গল্পের প্রথম থেকে শুরু করা। পড়ার সময় ভুল সংশোধন করা এবং আগের দিন যেখানে থেমে ছিলে ঐখান থেকে শুরু করা। যখন গল্প দীর্ঘতর হতে থাকে প্রথম থেকে পড়া তোমার পক্ষে সম্ভব নাও হতে পারে। এক্ষেত্রে পূর্ববর্তী দু-তিন অধ্যায় পড়া যেতে পারে। এবং প্রত্যেক সপ্তাহে প্রথম থেকে পুরোটা পড়তে হবে। এভাবেই তুমি সমগ্রটিকে এক গ্রন্থে গ্রন্থিত কর।”
 
৫. আবেগের বর্ণনা দিও না— আবেগটি তৈরি কর

হেমিংওয়ের মতে— জীবনের গভীর পর্যবেক্ষণ ভাল লেখালেখির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাহিরের ঘটনাবলি শুধু দেখা ও শোনাই যথেষ্ট নয়, এগুলো তোমার মনোজগতে কি প্রভাব ফেলে তাও খেয়াল করতে হবে। কি কারণে কি ধরনের প্রভাব ঘটে তা ব্যাখ্যা করার ক্ষমতাও থাকতে হবে। তোমার আবেগের ও অনুভূতির পেছনের সুনির্দিষ্ট কারণ যদি ধরতে পারো এবং তোমার গল্পে যথাযথভাবে ব্যবহার করতে পারো তাহলে পাঠকরাও তোমার আবেগ-অনুভূতিকে অনুভব করতে পারবে। “ইন ডেথ ইন দ্যা আফটারনুন”-এ হেমিংওয়ে তার লেখালেখির প্রথম দিকে এটা নিয়ে সংগ্রামের কথা তুলে ধরেন—
“আমি তখন লেখালেখির চেষ্টা করছিলাম এবং এক্ষেত্রে সবচেয়ে কঠিন সমস্যাটা খুঁজে পেয়েছিলাম। কোন ঘটনায় তুমি কি অনুভব করছ তা সত্যিকার জানার চেয়ে তোমার কি অনুভব করার কথা ছিল অথবা কি অনুভব করতে শেখানো হয়েছিল তাও গুরুত্বপূর্ণ। এর চেয়েও আরও গুরুত্বপূর্ণ হল তুমি যে ভাবাবেগ অনুভব করছ তার সৃষ্টির পেছনে কি কি বিষয় কাজ করেছে। পত্রিকায় লেখালেখির বেলায় ঐদিন যা ঘটেছে তা জানানোর সাথে সাথে কি ভাবাবেগ দিতে হবে তাও বলে দেয়া হয়। এর সাথে যুক্ত হয় নির্দিষ্ট সময়ে শেষ করার তাগিদ। কিন্তু আসল ব্যাপার হল ঐ ভাবাবেগের ক্ষেত্রে কি ঘটনা কাজ করেছিল তা এক কিংবা দশ বছর পরে বুঝা যেতে পারে। কিন্তু এটা সব সময়ই অত্যন্ত কঠিন কাজ এবং এটার পেছনেই কঠিন শ্রম দিচ্ছিলাম।”


  
৬. পেন্সিল ব্যবহার কর

চিঠিপত্র ও বিভিন্ন সাময়িকীতে লেখালেখির জন্য হেমিংওয়ে প্রায়ই টাইপরাইটার ব্যবহার করতেন। কিন্তু জটিল বিষয়ে পেন্সিল ব্যবহারে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করতেন।
তার এস্কোয়ার (Esquire) এর প্রবন্ধটিতে বলেন— (যেটাতে টাইপরাইটার ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া যায়) “যখন তুমি লেখা শুরু কর— তুমিই সব সুবিধা পাও, যেখানে পাঠকেরা শূন্য। সুতরাং টাইপরাইটার ব্যবহার কর। কারণ তোমার এটাতে তোমার আরাম লাগবে এবং এটা আসলেই অত্যন্ত সুবিধাজনক। (এখন ধরেন কম্পিউটারে লেখা আর কি!)
 
তুমি পুরোপুরি লিখতে পারো মানে হচ্ছে তোমার প্রত্যেকটি অনুভূতি, দৃশ্য, স্পর্শ, স্থান ও আবেগকে পাঠকের কাছে তুলে ধরতে পারো। এটা করতে হলে তোমার লেখার উপরে কাজ করতে হবে। পেন্সিল দিয়ে লিখলে তোমার তিনগুণ সুবিধা। প্রথম সুযোগ— প্রথমবার লেখা শেষে তোমার পাঠক হিসেবে পড়তে পারো।
টাইপ করার পর দ্বিতীয় সুযোগ এবং প্রুফ দেখার সময় তৃতীয়টি। পেন্সিলে লিখলে তোমার লেখার উন্নতি করার এক-তৃতীয়াংশ বেশি সুবিধা বেশি পাওয়া। অর্থাত্ রেটটি হচ্ছে .৩৩৩! এটা একজন ভাল লেখকের কাছে যুতসই কারণ হতে পারে কারণ পেন্সিলে লেখায় কালিটা অনেকদিন থাকে, নষ্ট হবার সুযোগ নেই। এজন্য দীর্ঘ সময় পরেও উন্নত করতে পারো।

৭. কোন বিষয় নিয়ে লিখবেন

হেমিংওয়ে বলেন, ‘দেখবেন আমি সবসময় বাস্তব দুনিয়ার চরিত্র নিয়েই গল্প বলি। শুধু তাকে স্পষ্ট করে তুলে আনা বা সমালোচনা করা নয় বরং তাকে জীবন্ত করে তুলি। তাই যখন আমার লেখা কিছু পড়েন তখন আসলে আপনি অভিজ্ঞতাটা নেন। আপনি যদি ভালোর পাশাপাশি খারাপ ও কদর্যকে তুলে না আনেন সে মজাটা পাবেন না। যদি সব শুধু ভালোই হয় তাহলে আপনি সেটাকে বিশ্বাস করবেন না। আপনি যেসব মানুষকে চিনেন-জানেন, যাদেরকে ভালোবাসেন বা ঘৃণা করেন তাদেরকে নিয়ে লিখবেন। বই পড়ে যাদেরকে নিয়ে জানেন তাদেরকে নিয়ে নয়। আমার যা সফলতা এসেছে তা আসলে আমার জানাশুনা লোকদের নিয়ে লেখার কারণেই এসেছে।’

৮. সংক্ষেপ কর

হেমিংওয়ে ঐ লেখকদের পছন্দ করতেন না যারা তাদের টাইপরাইটারটিকে না বলতে শেখেনি। ১৯৪৫ সালে তার সম্পাদক ম্যাক্সওয়েল র্পাকিনস এর কাছে লিখেন— “গেটিসবার্গ বক্তৃতা অত্যন্ত ছোট হওয়ার পিছনে কোন দুর্ঘটনা কাজ করেনি। ভাল গদ্যরীতির সূত্র যুগ নিরপেক্ষ। যেমনটা গণিত, পদার্থবিদ্যা ও ওড়ার সূত্র।”

৯. প্রতিদিন কত শব্দ লিখবে

হেমিংওয়ে বলেন, ‘আমার বেশি লিখতে ভালো লাগে। এর চেয়ে আনন্দের কিছু হতে পারে না। এবং যেদিন ১২০০ থেকে ২৭০০ শব্দ লিখি সেদিন অবিশ্বাস্য রকমের আনন্দ দেয়। তবে ৪০০ থেকে ৬০০ শব্দ লেখা হলে সেটাকে ভালো গতিই বলা যায়। আবার যদি ৩২০ শব্দও লেখা হয় তখনও ভালোই লাগে।’

১০. লেখালেখির আনন্দ বেদনা

হেমিংওয়ে মনে করেন একজন লেখক মূলত দুজনের কথা মাথায় রেখে লিখবেন। লেখক প্রথমে চেষ্টা করবেন নিজের কাছে এটাকে একেবারে নিখুঁত করার জন্য। তারপর সে মাথায় রাখবে দূরবর্তী কোন প্রেয়সীর কথা। কিন্তু সে প্রেয়সী পড়তে বা লিখতে পারে কিনা, সে কি বেঁচে আছে না মরে গেছে এটা লেখকের জানা নাই।

হেমিংওয়ে বলেন-‘টাকা পয়সা দিলো কি দিলো না সেটা ব্যাপার নয় আমাকে লিখতে হয় সুখি হওয়ার জন্য। কিন্তু এটা জঘন্য প্রকারের এক জন্মরোগ! আরও খারাপ খবর হচ্ছে এটা আবার বদভ্যাসে রূপ নেয়। তারপর এটাকে অন্য যে কারো চেয়ে ভালো করার তাড়না আসে। এটা অবসেশনে রূপ নেয়। আর অবসেশন খুব ভয়ানক। কিন্তু আমার মধ্যে এই একটা অবসেশনই রয়ে গেল!’

১১. খ্যাতির বিড়ম্ভনা

হেমিংওয়ে মনে করেন-আসলে বাইরের পুরস্কার বা খ্যাতি নয় বরং বড় পুরস্কারটা আসে নিজের ভেতর থেকেই। প্রচারণা, প্রশংসা, তোষামোদ বা কেতাদুরস্ত হওয়ার বিষয়গুলো মূল্যহীন।

তোমাকে অবশ্যই বাহবার অপেক্ষা না করেই লিখে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। তোমার মধ্যে সত্যিই উত্তেজনা কাজ করতে পারে যখন প্রথম খসরাটি শেষ হলো তখন। আবার অসংখ্যবার সম্পাদনার আগ পর্যন্ত কিন্তু কাউকে দেখানো যাবে না! এর সাথে উপযুক্ত আবেগ, দৃশ্যকল্প বা শব্দ যোগ করার পরই না পাঠকের কাছে যাবে…

সূত্র: ওপেন কালচার, ইনক ডট

এসবিআই/এমডি

print
 

আলোচিত সংবাদ