গ্লাডিওলাস ফুল চাষে লাভবান চাষীরা (ভিডিও)

ঢাকা, বুধবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ৭ ফাল্গুন ১৪২৬

গ্লাডিওলাস ফুল চাষে লাভবান চাষীরা (ভিডিও)

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি ২:৪৫ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ২২, ২০১৯

যশোর, ঝিনাইদহ, সাভারের পর মানিকগঞ্জের সিংগাইরে দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে বাণিজ্যিকভাবে ফুলচাষ। ফুল চাষ করে এই অঞ্চলের অনেক চাষী অর্থনৈতিকভাবে হয়েছেন স্বাবলম্বী।

বাণিজ্যিকভাবে ফুল চাষ করে নিজেদের ভাগ্য উন্নয়নের পাশাপাশি বেশ কিছু মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিচ্ছেন ফুলচাষীরা। অন্যান্য ফসলের চাইতে লাভজনক হওয়ায় অনেকেই ঝুঁকছেন ফুল চাষে।

কৃষি বিভাগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এবার সিংগাইর উপজেলার তালেবপুর, শায়েস্তা, ধল্লা ইউনিয়নে ৮ হেক্টর জমিতে ২৫ থেকে ৩০ জন ফুলচাষী বাণিজ্যিকভাবে গ্লাডিওলাস ফুলের চাষ করেছেন।

সারা বছর এর চাহিদা থাকায় ও চাষ শুরু করার দুই থেকে তিন মাসের মধ্যেই তা বিক্রির উপযোগী হওয়ায় লাভের মুখ দেখতে শুরু করেছেন ফুল চাষীরা। যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হওয়ায় স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে ঢাকার ফুলের আড়ৎগুলোতেও যাচ্ছে সিংগাইরের গ্লাডিওলাস ফুল।

ইরতা কাশিমপুর গ্রামের ফুলচাষী আবুল কালাম লিটন জানান, তিনি ৭ বছর ধরে ফুল চাষের সাথে জড়িত। অন্যান্য ফসলের চেয়ে এটা বেশি লাভজনক। তিনি এবার ১৫ বিঘার মতো গ্লাডিওলাস ফুলের চাষ করেছেন। প্রতি বিঘায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা খরচ হয়। সব খরচ বাদে বছরে তার দেড় থেকে দুই লাখ টাকা আয় হয়।

তার স্ত্রী কুসুম আক্তার জানান, এক সময় স্বামী সন্তান নিয়ে কষ্টে সংসার চলতো। ফুলচাষে এখন তাদের সংসারে অভাব মিটেছে।

ধল্লা ইউনিয়নের ফুলচাষী হালিম মিয়া জানান, কৃষিকাজ করে তেমন লাভ পাচ্ছিলেন না। ধানের দর ভালো না হলে লোকসানও হতো। কিন্তু ফুলচাষে মাত্র একবার বিনিয়োগ করতে হয়। তিন বছর ধরে ফুল চাষ করে আসছেন। গ্লাডিওলাস ফুল শীতকালে ৯০ দিন ও গরমকালে ৬৫ দিনের মধ্যেই বিক্রির উপযোগী হয়ে ওঠে বলে সারা বছরই এর চাষ করেন। প্রতি পিছ ফুল ১৬ টাকা দরে বিক্রি করেন তিনি। ফুল গাছের নিচের দানাগুলো প্রতি পিছ ৩ টাকা করে বিক্রি করা যায়। এরই মধ্যে তিনি দেড় লাখ টাকার ফুল বিক্রি করেছেন।

তালেবপুর ইউনিয়নের ফুল চাষী জাকের আলী জানান, বাজারে এখন চায়নার তৈরি প্লাস্টিকের ফুল পাওয়া যাওয়ায় তাদের ফুলের চাহিদা কিছুটা কমে গেছে। সরকার যদি এই প্লাস্টিকের ফুল আমদানি করা বন্ধ করে দিত এবং অন্যান্য কৃষকদের মতো যদি সার, বীজের সহয়তা দিত তাহলে ফুলচাষীরা আরো লাভবান হতো।

সিংগাইর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো: টিপু সুলতান স্বপন পরিবর্তন ডটকমকে জানান, সিংগাইর উপজেলার মাটি ফুল চাষের জন্য উপযোগী ও অল্প সময়ে অধিক লাভ হওয়ায় দিন দিন ফুল চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছে এলাকার লোকজন।

তিনি আরো জানান, সিংগাইরের বিভিন্ন গ্রামে বাণিজ্যিকভাবে ফুল চাষ হচ্ছে এবং কৃষকরা আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন। ঢাকার কাছাকাছি হওয়ার কারণে স্থানীয় চাষীদের উৎপাদিত এসব ফুল স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে ঢাকায় বাজারজাত করা হয়। এছাড়াও কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে চাষীদের পরামর্শসহ বিভিন্ন সহযোগিতা প্রদান করা হচ্ছে।

এএসটি/

 

ফিচার : আরও পড়ুন

আরও