ছাদ বাগানে শখের গাঁদা

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ | ১০ ফাল্গুন ১৪২৪

ছাদ বাগানে শখের গাঁদা

পরিবর্তন ডেস্ক ১:৪৯ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০১৮

print
ছাদ বাগানে শখের গাঁদা

ছোট্ট এক টুকরো হলুদের বাহার। যেনো এই হলুদ রঙটি অন্য সব রঙকে হারিয়ে দিয়েছে তার উজ্জ্বলতা দিয়ে। বাগানে বা বারান্দায় গাঁদা ফুল থাকলে পুরো বাগানই ঝলমল করতে থাকে। আর এই কারণেই সবাই গাঁদা ফুল এতো পছন্দ করে। তাছাড়া আমাদের দেশে বিভিন্ন অনুষ্ঠান যেমন গায়ে হলুদ, পহেলা ফাল্গুন এগুলো উৎসব তো আমরা গাঁদা ফুল ছাড়া ভাবতেই পারি না।  যদিও এই ফুলটি শীতের ফুল তারপরেও আমাদের দেশে এখন বছরে কয়েকবার চাষ করা হয় গাঁদা ফুল। আপনি আপনার বাগান কিংবা ছাদে যদি গাঁদা ফুলের যাষ করতে চান তাহলে আজ জেনে নিন কীভাবে সঠিক নিয়মে করবেন গাঁদা ফুলের চাষ ও পরিচর্চা।

মাটি তৈরি করুন: গাঁদা ফুল চাষের জন্য এঁটেল দোআঁশ মাটি সবচাইতে ভালো। এছাড়াও আপনি ইচ্ছা করলে যেকোনো মাটিতে এই ফুলের চাষ করতে পারেন। তবে খেয়াল রাখবেন মাটি যেন ঝুরঝুরে হয়।

টব/পাত্রের আকৃতি বাছাই: গাঁদা ফুল চাষ করার ক্ষেত্রে আপনি মাঝারি অথবা ছোট সাইজের টব অথবা হাফ ড্রাম নির্বাচন করতে পারেন। এছাড়া অন্য যেকোনো পাত্রে আপনি এই ফুলের চাষ করতে পারেন।

ফুলের জাত বাছাই: আমাদের দেশে বহু প্রজাতির গাঁদা ফুলের গাছ রয়েছে। তবে জাত ভিত্তিতে গাঁদা ফুলকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। একটি হল আফ্রিকান গাঁদা ও অন্যটি হল ফরাসী গাঁদা। আফ্রিকান গাঁদার মধ্যে রয়েছে ইনকা, গিনি গোল্ড, গোল্ডস্মিথ, ইয়েলা সুপ্রিম, ম্যান ইন দি মুন, ইত্যাদি। এবং ফরাসী গাঁদার মধ্যে রয়েছে মেরিয়েটা, হারমনি, লিজন অব অনার, ইত্যাদি

রোপনের সঠিক সময়: গাঁদা মূলত শীতকালীন ফুল হলেও এটাকে বর্তমানে সারা বছরই চাষ করা যায়। তবে শীতকালে এটা চাষ করলে ভালো ফলন পাওয়া যায়।

বীজ বপন: গাঁদা ফুলের গাছ প্রধানত দুইভবে রোপন করা যায়। একটি হল বীজ থেকে অন্যটি হল কলম চারা থেকে। মাটিতে প্রথমে পচাগোবর, ইউরিয়া, টিএসপি ও এমওপি সার মিশিয়ে মাটি প্রস্তুত করে নিতে হবে। গাঁদা ফুলের বংশ বিস্তার বীজ বা কাটিংয়ের মাধ্যমে করা যায়।

সঠিক নিয়মে পানি দিন: গাঁদা ফুল গাছে নিয়মিত পানি দিতে হবে। তবে পানি দেওয়ার সময় খেয়াল রাখতে হবে পানি খুব ভোরে অথবা সন্ধ্যার আগে দিতে হবে। তবে বেশি পানি দেওয়ার দরকার নেই।

কিছু টিপস:

. গাঁদা ফুল গাছের সঠিক নিয়মে যত্ন নিতে হবে।

. গাছের গোড়ায় যেইনো কখনো আগাছা না জন্মাতে পারে।

. আগাছা জন্মালেই তা উপড়ে ফেলতে হবে।

. পরিমাণ মতো মাটির রস ও পুষ্টি উপাদানও গাছের বৃদ্ধি ও ফুল ফোটার জন্য প্রয়োজন।

. একটি শাখায় ঘন হয়ে অনেকগুলো ফুল বা কুঁড়ি ধরলে ওপরের একটি বা দুটি রেখে বাকিগুলো ভেঙে দিতে হবে, যাতে ফুল বড় হয়।

. গাছে যেন অতিরিক্ত সূর্যের আলো না পড়ে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

. দিনের প্রথম আলো এবং শেষ আলো গাঁদা গাছের গায়ে লাগাতে হবে।

. বাড়িতে কাটা শাক, সবজি ও ফলে খোসাকে সার হসেবে ব্যবহার করতে পারবেন।

ইসি/

 
.

আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad