যেসব স্থাপত্যে জড়িয়ে আছে ভিনগ্রহীদের রহস্য!

ঢাকা, রবিবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ | ৫ ফাল্গুন ১৪২৪

পর্ব - ৫

যেসব স্থাপত্যে জড়িয়ে আছে ভিনগ্রহীদের রহস্য!

কে বি আনিস ৫:৫৭ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১০, ২০১৮

print
যেসব স্থাপত্যে জড়িয়ে আছে ভিনগ্রহীদের রহস্য!

বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে প্রাচীন কালের এমন সব স্থাপত্য রয়েছে, যার ইতিহাস আংশিক জানা সম্ভব হলেও নির্মাণ প্রক্রিয়া সম্পর্কে এখনও আঁধারে আজকের বিজ্ঞান। কোনো কোনো স্থাপত্যের ক্ষেত্রে তো সম্পূর্ণই অন্ধকারে ইতিহাসবিদেরা। কিন্তু পৃথিবীর বুকে এখনও মাথা উঁচিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে সেসব রহস্যময় স্থাপনা!

স্থাপত্যগুলো ইতিহাস, নির্মাণশৈলী এবং প্রযুক্তিসহ অনেক রহস্যই শতাব্দীর পর শতাব্দী গোপন রেখে উপহাস করছে আমাদের আধুনিক বিজ্ঞানকে। ভিনগ্রহে প্রাণ রয়েছে বলে যারা বিশ্বাস করেন তাদের দাবি, আদি সভ্যতা যদি উন্নত না হয়েই থাকে তবে এসব স্থাপত্যের পেছনে অবশ্যই বুদ্ধিমান কোনো জাতির হাত রয়েছে।

তাদের বিশ্বাস, এসব স্থাপত্যের পেছনে জড়িত রয়েছে এমন কোনো প্রযুক্তি যে সম্পর্কে আমাদের কোনো ধারণাই নেই। পৃথিবীর এমনই কিছু রহস্যময় স্থাপত্য নিয়ে পরিবর্তনের ধারাবাহিক আয়োজন।

নান মাদোল: প্রশান্ত মহাসাগরের বুকে অজানা রহস্য নিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে ছোট্ট এক দ্বীপ। নামও শুনতে ভয়ঙ্কর.. ‘নান মাদোল’। যদিও নামটির স্থানীয় অর্থ হচ্ছে ‘মধ্যবর্তী স্থান’ ।

মাইক্রোনেশিয়ার পনফেই দ্বীপের পাশে অবস্থিত ছোট্ট এই দ্বীপকে এড়িয়ে চলেন খোদ স্থানীয়রাই। তাদের দাবি, এই দ্বীপে মানুষ থাকে না। কোনো মানুষ সেখানে যাক, তাও চায়না দ্বীপের রহস্যময় প্রাণীরা।

আদতে ওই দ্বীপে কোনো মানুষের বসবাস দূরে থাক প্রাণীও নেই! কিন্তু রয়েছে প্রাচীন সব স্থাপনা। প্রাচীন স্থাপনাগুলো দেখতে কিন্তু আধুনিক। তবে কারা এসব বানিয়েছিল তা আজও অজানা!

স্থানীয় পনফেইয়ের বাসিন্দাদের কাছে এটি ‘ভুতুড়ে দ্বীপ’ হিসেবেও পরিচিত। অস্ট্রেলিয়া থেকে ১ হাজার ৬শ’ মাইল এবং লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে ২ হাজার ৫শ’ মাইল দূরে অবস্থিত দ্বীপটির পথও চরম দুর্গম। ফলে দীর্ঘদিন আধুনিক সভ্যতার পা পড়েনি। বলতে গেলে অনেকটা দুর্ঘটনাবশত দ্বীপটির সন্ধান পান অভিযাত্রীরা।

পথ দুর্গম হওয়ার কারণ হচ্ছে, এই দ্বীপে ৯৭টি আলাদা আলাদা ব্লক রয়েছে। যার দেয়াল ২৫ ফুট লম্বা আর ১৭ ফুট চওড়া। এই পাথুরে ব্লকের মাঝ দিয়ে বয়ে গিয়েছে অনেকগুলো সরু খাল। মাঝ সমুদ্রে থাকা দ্বীপটির পথকে দুর্গম করতেই এমন ব্যবস্থা বলে মত দিয়েছেন প্রত্মতাত্ত্বিকেরা।

রহস্যময় দ্বীপটিতে রয়েছে পাথর আর প্রবাল দিয়ে তৈরি অসাধারণ সব প্রাচীন স্থাপনা। কিন্তু কারা এবং কেন এই দ্বীপে সভ্যতা গড়ে তুলেছিল সে সম্পর্কে কিছুই জানে না আধুনিক বিজ্ঞান। প্রত্নতাত্ত্বিকদের ধারণা, ১১৮০ সালের দিকে নান মাদোল’এ শহর তৈরির কাজ শুরু হয়েছিলো। যা রহস্যময় কারণে আর এগোয়নি।

তবে এই যুক্তি নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। বিতর্ক আছে দ্বীপটিতে নাকি দিনের বেলা যেমন-তেমন.. রাতে শুরু হয়ে যায় এলাহি কাণ্ড। স্থানীয়দের দাবি, প্রায় রাতেই তারা দ্বীপটিতে রহস্যময় আলো দেখতে পান। অজানা শব্দও শোনা যায় সেখানে।

প্রাণহীন ওই দ্বীপে সাহসী অভিযাত্রীরা দিনের বেলায় গেলেও, রাতে কেউ থাকার সাহস দেখান না। কথিত আছে, যারা ওই দ্বীপে রাতে অবস্থান করেছেন, পরদিন তাদের আর সন্ধান মেলেনি।

এলিয়েন বিশ্বাসীদের বিশ্বাস, রহস্যময় নান মাদোলে ভিনগ্রহের বুদ্ধিমান প্রাণীদের আগমন ঘটেছিল। সম্ভবত এখনও সেখানে তাদের যাতায়াত রয়েছে। দ্বীপটির রহস্যময় স্থাপনার পেছনেও হাত রয়েছে তাদেরই!

কেবিএ

 
.

আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad