সারাক্ষণ ফোনে চোখ, সূর্যের আলো না পেয়ে অন্ধ হবে শিশুরা

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২২ মে ২০১৮ | ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫

সারাক্ষণ ফোনে চোখ, সূর্যের আলো না পেয়ে অন্ধ হবে শিশুরা

মোহাম্মদ মামুনূর রশিদ ৯:৪৪ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ০৭, ২০১৮

print
সারাক্ষণ ফোনে চোখ, সূর্যের আলো না পেয়ে অন্ধ হবে শিশুরা

ঘরের বাইরে প্রাকৃতিক আলোতে যথেষ্ট পরিমাণে সময় কাটাতে না পারার কারণে কোটি কোটি শিশুর চোখ স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত বা অন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে সতর্ক করে দিয়েছেন একজন বিশেষজ্ঞ চক্ষু চিকিৎসক।

লন্ডনের ফোকাস ক্লিনিকের পরিচালক ও চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডেভিড অ্যালাম্বি দাবি করেছেন, সূর্যের আলোর অভাবে শিশুদের চোখের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে।

ঘরের ভেতরেই বিভিন্ন খেলায় মগ্ন থাকা বা ফোনের পর্দায় সারাক্ষণ চোখ সেঁটে রাখা শিশুদের চোখের দৃষ্টি ক্ষীণ হয়ে যেতে পারে। এমনকি দিনের আলো না দেখতে দেখতে তারা অন্ধও হয়ে যেতে পারে।

এর একমাত্র সমাধান হচ্ছে প্রাকৃতিক আলোতে সময় কাটানো। সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের পরিসংখ্যান বিভাগ জানায়, জরিপে দেখা গেছে শিশুরা দিনে মাত্র ১৬ মিনিট ঘরের বাইরে সময় কাটায়। এই জরিপের তথ্য প্রকাশিত হওয়ার মাত্র একদিন পর চোখের জ্যোতি সম্পর্কে সতর্ক করে দিলেন অ্যালাম্বি।

টিভি, কম্পিউটার, ফোন, আইপ্যাড ইত্যাদি যন্ত্রের স্ক্রিনের প্রতি আসক্ত শিশুরা যেন প্রতিদিন কমপক্ষে ৯০ মিনিট ঘরের বাইরে সময় কাটায় তা নিশ্চিত করতে অভিভাবকদেরকে পরামর্শ দিয়েছেন অ্যালাম্বি।

ব্রিটেনের মেইল অনলাইনকে অ্যানলাম্বি বলেন, জরিপে ভয়ঙ্কর তথ্য উঠে এসছে। শিশুদের দৃষ্টিহীন হয়ে পড়ার ঝুঁকি ক্রমেই বাড়ছে।

তিনি বলেন, ‘এখনই এর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেয়া জরুরি। শিশুদেরকে মোবাইল ফোন রেখে বাইরে গিয়ে খেলতে উৎসাহিত করতে হবে। শিশুদের দৃষ্টিক্ষীণতা বাড়ার সাথে ঘরের ভেতর অতিরিক্ত সময় কাটানোর সম্পর্ক স্পষ্ট। এই প্রজন্মের যত শিশু মাইওপিয়া বা দূরের জিনিস দেখতে না পাওয়ার সমস্যায় ভুগে, তাদের বাপ-দাদার মধ্যে এই সংখ্যা অর্ধেক।’

তবে, মাত্র ৯০ মিনিট অর্থাৎ দেড় ঘণ্টা প্রাকৃতিক আলোয় সময় কাটালে এই সমস্যা ‘নাটকীয়ভাবে’ কমে যায়।

এই চক্ষু বিশেষজ্ঞ বলেন, ‘মোবাইল ফোন ও বিভিন্ন স্ক্রিনের প্রতি শিশুদের আসক্তি ক্রমেই বেড়ে চলেছে। একারণে শিশুদের চোখের সমস্যাও বাড়তেই থাকবে। পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলের শিশুদের মধ্যে মাইওপিয়ায় আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা হু হু করে বেড়ে চলেছে।’

যুক্তরাজ্যের জরিপ অফিস ২০১৪ সালের এপ্রিল মাস থেকে ২০১৫ সালের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত শিশুদের উপর জরিপ চালিয়েছিল। তারা দেখতে পান, ১৪-১৫ বয়সী কিশোর-কিশোরীদের অবস্থা সবচেয়ে খারাপ। তারা গড়ে মাত্র ১০ মিনিট ঘরের বাইরে থাকে।

আগে কখনোই এমন জরিপ চালানো হয়নি বলে শিশুরা আগের চেয়ে বাইরে কত কম সময় কাটাচ্ছে তা তুলনা করা সম্ভব নয়।

এমআর/এমএসআই

 
.




আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad