শিশু’র কান্নায় উপেক্ষা নয়! (ভিডিও)

ঢাকা, শনিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ | ১২ ফাল্গুন ১৪২৪

শিশু’র কান্নায় উপেক্ষা নয়! (ভিডিও)

পরিবর্তন ডেস্ক ৫:১৮ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২১, ২০১৮

print
শিশু’র কান্নায় উপেক্ষা নয়! (ভিডিও)

জন্মের পর শিশু’র কান্নাকে অনেক অভিভাবকই স্বাভাবিক ব্যাপার মনে করে থাকেন। সাধারণত ক্ষুধা, ডায়াপার ভেজা কিংবা আদরের অভাবে শিশু কান্না করে থাকে বলেই এতদিন সবাই জেনে এসেছেন। সম্প্রতি বিজ্ঞানীরা শিশুর কান্নার কিছু ভিন্ন দিক খুঁজে পেয়েছেন। যা শিশুর বিকাশের সঙ্গে জড়িত।

বিজ্ঞানীদের মতে শিশুর কান্নাকে অবহেলা করা মোটেও উচিত নয়। কেননা, এমন অবহেলা শিশু বিকাশে মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে।

বিজ্ঞানীদের মতে, জন্মের প্রথম কয়েক মাস শিশু অতিরিক্ত কান্না করলে তা স্বাভাবিক ব্যাপার মনে না করাটাই উত্তম। এসময় থেকে শিশুর মস্তিস্কের গঠন ও উৎকর্ষতা শুরু হয়ে যায়। গবেষণায় দেখা গেছে, শিশু জন্মের প্রথম থেকেই তাকে সঙ্গ দেয়া এবং কান্নার কারণ খুঁজে বের করে সমাধান করলে শিশু ভবিষ্যতে অর্থাৎ পূর্ণ বয়সে একাকী বোধ করে না।

অতিরিক্ত কান্না শিশুর অঙ্গপ্রত্যঙ্গেও বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, অতিরিক্ত কান্না শিশুর বৃক্করস গ্রন্থির কর্মক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়। যার ফলে শিশু অতিরিক্ত আক্রমণাত্মক হয়ে উঠতে পারে। ব্যবহারে অবাধ্যতা দেখা দিতে পারে, এমনকি ভবিষ্যতে যে সহিংস কর্মকাণ্ডে আগ্রহী হয়ে উঠতে পারে।

অতিরিক্ত কান্না ভবিষ্যত জীবনে তাকে অসহিষ্ণু মানসিকতার মানুষ হিসেবেও তৈরি করতে পারে বলে গবেষণায় দেখেছেন বিজ্ঞানীরা। সেখানেই শেষ নয়, কান্নার কারণ বুঝতে ব্যর্থ হলে কিংবা কান্নাকে অবহেলা করলে তা শিশুর গঠন ও বিকাশের জন্য মারাত্মক ক্ষতি ডেকে আনতে পারে।   

জন্মের পর শিশুর অতিরিক্ত কান্নাকে স্বাভাবিক মনে করে তা অবহেলা না করার প্রতি জোর দিচ্ছেন গবেষকেরা। তারা বলছেন, কান্নাকে অবহেলা করলে তা সেই শিশুর জন্য ভবিষ্যতে মারাত্মক ফল ডেকে আনতে পারে। কেননা, শরীরের অঙ্গ প্রত্যঙ্গের কার্যকারিতার সঙ্গে এর যোগ রয়েছে। কাজেই কান্নাকে অবহেলা করলে সেই শিশু বয়সকালে মারাত্মক রোগে ভুগতে পারে।

গবেষণায় দেখা গেছে, যে শিশু জন্মের পর থেকে অতিরিক্ত কান্নার মাধ্যমে বেড়ে উঠেছে সে বড় হয়ে সমাজের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ব্যর্থ হয়। উপস্থিত বুদ্ধি’র ক্ষেত্রেও তা মারাত্মক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে।

শিশুকালে অতিরিক্ত কান্নার ফলে তার মনে জেদের পরিমাণ বেড়ে যায়। ফলে বড় হলেও সে বদরাগি স্বভাবের হয়ে উঠতে পারে। কিংবা সঠিক সময়ে রাগ দমন করতে সে ব্যর্থ হয়।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, জন্মের পর শিশুর হরমোনে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ঘটে। ফলে সেই সময়ে শিশুর স্বাভাবিক বিকাশ যাতে ব্যাহত না হয় সেজন্য অভিভাবকদের আরও যত্নবান হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

যদিও জন্মের পর শিশু হাসি আর কান্নার মাধ্যমে তাদের মনোভাব প্রকাশ করে থাকে। তাই হাসিকে যেমন গুরুত্ব দেয়া উচিত, তেমনই কান্নাকেও সমান গুরুত্বের চোখেই অভিভাবকদের দেখা উচিত বলে মত বিশেষজ্ঞদের।

শিশুদের সঠিক ভাবে সঙ্গ দেয়া, আদর করা, তাদের হাসি-কান্না বুঝে বেড়ে উঠায় সাহায্য করলে শিশু ভবিষ্যতে সমাজে সুনাগরিক হিসেবেই বেড়ে উঠতে পারে বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা।

সায়েন্স নেচারের ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন।

কেবিএ

 
.

আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad