‘প্রয়োজনে সংবিধান পরিবর্তন করতে হবে’

ঢাকা, শুক্রবার, ২৭ এপ্রিল ২০১৮ | ১৪ বৈশাখ ১৪২৫

‘প্রয়োজনে সংবিধান পরিবর্তন করতে হবে’

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক ৩:০৮ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৪, ২০১৮

print
‘প্রয়োজনে সংবিধান পরিবর্তন করতে হবে’

সংবিধান কোনো ঐশী বাণী নয় যে এটা পরিবর্তন করা যাবে না। রাষ্ট্রের ও জনগণের প্রয়োজনে সংবিধান পরিবর্তন করতে হয় ও করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, সরকার সংবিধানের দোহাই দিয়ে নিজেদের অবৈধ ক্ষমতাকে পাকাপোক্ত করতে চাচ্ছে। অথচ স্বাধীন বাংলাদেশে সংবিধানকে প্রথম ক্ষত-বিক্ষত করেছিল আওয়ামী লীগই। তারাই সংবিধানের প্রদত্ত গণতান্ত্রিক অধিকারকে হত্যা করে একদলীয় বাকশাল প্রতিষ্ঠিত করেছিল। আজ আবারো সংবিধানের দোহাই দিয়ে গণতন্ত্রকে নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে নিজেদের একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে চাচ্ছে।

রোববার তোপখানাস্থ বাংলাদেশ শিশুকল্যাণ মিলনায়তনে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সদস্য, মানবাধিকার কর্মী ও সাপ্তাহিক জয়যাত্রার নির্বাহী সম্পাদক জাহাঙ্গির আলম মিন্টুর নি:শর্ত মুক্তির দাবিতে বাংলাদেশ সিভিল রাইটস্ সোসাইটি আয়োজিত প্রতিবাদী সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বর্তমান সরকারের অপশাসনের ফলে রাষ্ট্রের প্রধান তিন স্তম্ভ সংসদ, বিচার বিভাগ ও নির্বাহী বিভাগ আজ ধ্বংস প্রায়। ফলে দেশ আজ যেখানে দাঁড়িয়ে আছে সেখান থেকে মুক্তি পাওয়া খুবই কঠিন।

তিনি বলেন, বর্তমানে যে অপশাসন চলছে তা ১/১১ এর অপশাসনেরই ধারাবাহিকতা মাত্র। আওয়ামী দু:শাসনে আজ গণতন্ত্র ধ্বংস প্রায়। জনগণের ভোটাধিকারসহ প্রায় সকল অধিকারই কেড়ে নিয়েছে সরকার। এ অবস্থায় দেশ চলতে পারে না। জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় গণতান্ত্রিকভাবে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। জনগণের মুক্তির লক্ষে প্রয়োজনে নতুন সংবিধান প্রণয়ন করতে হবে। সংবিধানে পারস্পরিক সংঘাতপূর্ণ বিষয়গুলোকেও সংশোধন করতে হবে।

তিনি বলেন, সরকারের মনে রাখা উচিত শুধু উন্নয়ন দিয়ে ক্ষমতায় থাকা যায় না। শুধু উন্নয়নই যদি ক্ষমতায় থাকার মূল বিষয় হতো তাহলে আইয়ূব খানের পতন হতো না। জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে, কণ্ঠকে স্তব্ধ করে দিয়ে কোনো স্বৈরশাসকই ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারে না।

তিনি বলেন, উন্নয়নের মেলার পর সরকারের পতনের সময়ও চলে এসেছে। দ্রুততম সময়েই সরকারের পতনের মধ্য দিয়ে জনগণের ভোটাধিকার ফিরে আসবে।

সংগঠনের চেয়ারম্যান জাকির হোসেনের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এডভোকেট নজমুল হক নান্নু, বিশিষ্ট সাংবাদিক ও কবি আবদুল হাই শিকদার, বাংলাদেশ ন্যাপ মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া, ডিইউজের (একাংশ) সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গির আলম প্রধান, এনডিপি ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসা, জাতীয়তাবাদী তাঁতীদলের সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, সংগঠনের মুহম্মদ কামালউদ্দিন আহমেদ, শাহজাহান সাজু, সরদার মতিউর রহমান, মীর হোসেন মিলন, বাহার চৌধুরী, মিজান মাসুম, নিজামউদ্দিন দরবেশ, এইচ এম আল-আমিন প্রমুখ।

এমএইচ/এসবি

 
.




আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad