ছাত্রলীগের নির্বাহী সভায় সিনিয়রদের কথা বলতে না দেয়ার অভিযোগ

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৪ এপ্রিল ২০১৮ | ১১ বৈশাখ ১৪২৫

ছাত্রলীগের নির্বাহী সভায় সিনিয়রদের কথা বলতে না দেয়ার অভিযোগ

ঢাবি প্রতিনিধি ৮:০৩ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১২, ২০১৮

print
ছাত্রলীগের নির্বাহী সভায় সিনিয়রদের কথা বলতে না দেয়ার অভিযোগ

বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কাযনির্বাহী কমিটির বৈঠকে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সিনিয়র নেতাদের কথা বলার সুযোগ দেননি বলে অভিযোগ করেছেন কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা। এছাড়া কমিটির বৈঠকে সিটে বসাকে কেন্দ্র করে দুজন কেন্দ্রীয় নেতা বাগ্বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন বলে জানা গেছে। তবে সময় স্বল্পতার কারণে সবাই কথা বলার সুযোগ পাননি বলে জানিয়েছেন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ।

শুক্রবার (১২ জানুয়ারি) বিকেল আড়াইটায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের মোজাফ্ফর আহমেদ চৌধুরী অডিটোরিয়ামে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ২৯তম জাতীয় সম্মেলন আগামী ৩১ মার্চ ও ১ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হবে বলে সংগঠনের কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

সভা সূত্রে জানা যায়, বিকেল আড়াইটায় সভা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও বেলা সাড়ে ৩টার দিকে কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক আসেন। এ সময় তারা নিজেরা কথা বলে তড়িঘড়ি করে আধা ঘণ্টার মধ্যে সভা শেষ করেন।

কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা নাম প্রকাশ না করে বলেন, ‘আমাদের অনেক দিনের ইচ্ছা ছিল গণভবনে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ করবো। কিন্তু কোনো কথা বলার সুযোগ দেওয়া হয়নি এই বৈঠকে।’

এছাড়াও কয়েকজন সিনিয়র নেতা বয়সের ব্যাপারে কথা বলার চেষ্টা করলেও তাদের সুযোগ দেওয়া হয়নি।

সভায় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ এবং সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন ৩১ মার্চ এবং ১ এপ্রিল সম্মেলন সফল করার জন্য সহযোগিতা চাইলে কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা উচ্চস্বরে ‘আমরা সহযোগিতা করব না’ বলে  জানান।

সভায় যেসব জেলায় এখনো কমিটি দেওয়া হয়নি, দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় নেতাদের সেসব কমিটি করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

এছাড়া সিটে বসাকে কেন্দ্র করে বাগ্বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন দুজন কেন্দ্রীয় নেতা।

জানা যায়, অডিটোরিয়ামের প্রথম সারির আসনে বসাকে কেন্দ্র করে বাগ্বিতণ্ডায় জড়ান কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ইমতিয়াজ বাপ্পির সাথে সহ-সম্পাদক এনামুল হক প্রিন্স। এনামুল হক সভার শুরুতে এসে প্রথম সারির বাম পাশে বসেন। কিন্তু ইমতিয়াজ বাপ্পি আধা ঘণ্টা পর এসে এনামুল হককে বলেন, আমি সহ-সভাপতি, তুই পিছনে যা। এ সময় দুজন বাগ্বিতণ্ডায় জড়িয়ে যান। একপর্যায়ে এনামুল হক পেছনে গিয়ে বসেন।

এ বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হলে ছাত্রলীগের সহসভাপতি ইমতিয়াজ বাপ্পি জানান, ‘নরমাললি সভায় সিনিয়ররা সামনে বসেন। তাই আমরা যেহেতু আর বেশিদিন নেই তাই এনামুল হককে পেছনে বসার অনুরোধ জানাই। প্রথমে না যেতে চাইলেও পরে এনামুল পেছনে গিয়ে বসেন।’

সিনিয়র নেতাদের কথা বলতে না দেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ জানান, ‘আজ সময় ছিল না। তবে কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে আরো একাধিকবার বসা হবে। তখন তাদের সবাইকে কথা বলার সুযোগ দেয়া হবে। এবং সবার কথা শোনা হবে।’

ওএইচ/এএল

 
.




আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad