নির্বাচন প্রহসনে পরিণত হয়েছে: সিপিবি

ঢাকা, বুধবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৭ | ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৪

নির্বাচন প্রহসনে পরিণত হয়েছে: সিপিবি

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক ২:৪৭ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১২, ২০১৭

print
নির্বাচন প্রহসনে পরিণত হয়েছে: সিপিবি

বর্তমানে নির্বাচন প্রহসনে পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম। বৃহস্পতিবার সকালে নির্বাচন কমিশনের সংলাপে সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিমের নেতৃত্বে ১১ সদস্যের প্রতিনিধি দল অংশ নেয়। প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদার সভাপতিত্বে অন্য নির্বাচন কমিশনার ও ইসির ভারপ্রাপ্ত সচিবসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

.

বৈঠক শেষে সিপিবি সভাপতি বলেন, ‘নির্বাচন এখন প্রহসনে পরিণত হয়েছে। এখান থেকে বেরিয়ে আসতে নির্বাচনী ব্যবস্থার আমূল সংস্কার করতে হবে।’

সবার জন্য সমান সুযোগ তৈরিতে সংসদ ও নির্বাচনকালীন সরকারের কর্মকাণ্ড নিয়ে সেলিম বলেন, সংসদ ভেঙে দিয়ে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করতে হবে। তত্ত্বাবধায়ক বা সহায়ক বা কোনো সরকারের অধীনে নয়, নির্বাচন কমিশনের অধীনেই নির্বাচন করতে হবে।

ইসিতে উত্থাপিত সিপিবির প্রস্তাব- তফসিল ঘোষণার অব্যাবহিত পূর্বেই বিদ্যমান জাতীয় সংসদ ভেঙে দিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে সমতা বিধান করতে হবে; জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সব কর্মকাণ্ড পরিচালিত হবে ইসির অধীনে, কোনো সরকারের অধীনে নয়। এ উদ্দেশ্যে সংবিধানের প্রয়োজনীয় সংশোধন করতে হবে।

নির্বাচনকালীন সময় সরকারের কর্তৃত্বকে সাংবিধানিকভাবে সংকুচিত করে তার অন্তর্বর্তীকালীন কাজ তত্ত্বাবধানমূলক ও অত্যাবশ্যক রুটিন কিছু কাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে।

যতদিন সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব ব্যবস্থা চালু না হচ্ছে, ততদিন আরো তিনটি ব্যবস্থা রাখার সুপারিশ করে দলটি।

সংরক্ষিত নারী আসনের সংখ্যা ১০০-তে উন্নীত ও সরাসরি ভোট করতে হবে; নির্বাচিত প্রতিনিধি দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে ওই প্রতিনিধিকে প্রত্যাহারের বিধান করতে হবে; না ভোটের বিধান যুক্ত করতে হবে।

এ ছাড়া অনলাইনে মনোনয়ন জমা দেয়ার ব্যবস্থা করা; স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর তালিকা জমার বিধান বাতিল করা; জাতীয়ভিত্তিক সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব ব্যবস্থা চালু করা; জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দলের মনোনীত প্রার্থী হতে হলে কোনো ব্যক্তিকে কমপক্ষে ৫ বছর রাজনৈতিক দলের সক্রিয় সদস্য হতে হবে; নির্বাচনে টাকার খেলা বন্ধ করা; নির্বাচনে সন্ত্রাস, পেশিশক্তির প্রভাব ও দুর্বৃত্তমুক্ত করা; নির্বাচনে ধর্ম, সাম্প্রদায়িকতা ও আঞ্চলিকতার অপব্যবহার রোধ করা; নির্বাচনে সকলের সম-সুযোগ নিশ্চিত করা; নির্বাচনী এলাকা নির্ধারণে ও নির্বাচন পরিচালনায় স্বচ্ছতা বিধান করা; নির্বাচন কমিশন, নির্বাচনী আইন ও বিধির সংস্কার এবং  নির্বাচনী বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য স্বতন্ত্র আদালত গঠন করতে হবে।

ধারাবাহিক সংলাপের অংশ হিসেবে এ পর্যন্ত ৩১টি দলের সঙ্গে সংলাপ শেষ করলো ইসি। দুপুর ২টায় গণতন্ত্রী পার্টির সঙ্গে মতবিনিময় করবে কমিশন।

এইচকে/আরপি

print
 

আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad