রোহিঙ্গা ইস্যুর মূল জায়গায় যাচ্ছেন না প্রধানমন্ত্রী: ফখরুল

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৪ অক্টোবর ২০১৭ | ৯ কার্তিক ১৪২৪

রোহিঙ্গা ইস্যুর মূল জায়গায় যাচ্ছেন না প্রধানমন্ত্রী: ফখরুল

পরিবর্তন প্রতিবেদক ৭:০৮ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২২, ২০১৭

print
রোহিঙ্গা ইস্যুর মূল জায়গায় যাচ্ছেন না প্রধানমন্ত্রী: ফখরুল

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোহিঙ্গা ইস্যুর মূল জায়গাটিতে যাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) ৩য় তলার স্বাধীনতা হলে শুক্রবার বিকেলে এক আলোচনা সভায় তিনি এ অভিযোগ করেন।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ১০ম কারামুক্তি দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভার আয়োজন করে জাতীয়তাবাদী টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ(জেটেব)।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আজ (শুক্রবার) ভোরে প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘে দেওয়া ভাষণে রোহিঙ্গাদের সমস্যার কথা বলেছেন, কিন্তু কী বলেছেন? মিয়ানমার যে গণহত্যা চালাচ্ছে, একবারের জন্যও সেটা তিনি বলেননি। মিয়ানমারের নিন্দা করেননি। এটা সবচেয়ে বড় প্রয়োজন ছিল। আজকে এই জিনিসটি (রোহিঙ্গা ইস্যু) না বলার মানেই হচ্ছে, মূল জায়গাটিতে তিনি যাচ্ছেন না। মূল জায়গাতেই বেশি যাওয়া দরকার। মিয়ানমার এর আগেও কয়েক দফায় রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন ও হত্যা চালিয়েছে, তাদের জাতিগতভাবে নির্মূল করার জন্য কাজ করছে।’

রোহিঙ্গা ইস্যুতে জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি করা দরকার, না হলে এই সমস্যার সমাধান হবে না দাবি করে তিনি বলেন, ‘এককভাবে আপনি আপনার রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিল করার জন্য এসব কাজ করবেন, সেখানে যদি পুরো জাতিকে সম্পৃক্ত না করেন তাহলে সমস্যা সমাধান করা অত্যন্ত দুরূহ ব্যাপার হয়ে যাবে। পুরো জাতিকে একসঙ্গে নিয়ে যদি এই বিষয়ে কথা বলেন, মিয়ানমারকে গণহত্যার জন্য দায়ী করেন এবং মিয়ানমারের বিরুদ্ধে যদি অর্থনৈতিক অবরোধের কথা বলেন, তাহলেই শুধু মিয়ানমার বাধ্য হবে তাদের গণহত্যা বন্ধ করতে এবং রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিবে। তাছাড়া তারা (মিয়ানমার) রাজি হবে না। আজকে সেটা (ঐক্য) না করা হলে আপনার হাত শক্তিশালী হবে না। দেশের যে সমস্যা আছে, তার সমাধানও হবে না।’

এ সময় তিনি জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি করে মিয়ানমার সরকারকে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে বাধ্য করারও দাবি জানান।

ফখরুল আরও বলেন, ‘এখানে সেফ জোনের কথা বলা হয়েছে। সেফ জোন বলতে কী বুঝানো হয়েছে, সেটি আমরা বুঝতে পারিনি। বলা হয়েছে, জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে সেফ জোন, অর্থাৎ এখানে কি আরেকটি প্যালেস্টাইন রাজ্য সৃষ্টি করতে চান? রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের নাগরিক। তাদের সম্পূর্ণ নাগরিক মর্যাদা দিয়ে ফেরত নিতে হবে। তা না করা হলে তারা বিচ্ছিন্নভাবেই থেকে যাবে এবং তাদের ওপর নির্যাতন চলতেই থাকবে। রোহিঙ্গাদের সমস্ত নাগরিক অধিকার দিয়ে সম্মানের সঙ্গে ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারকে বাধ্য করতে হবে।’

সরকার জনগণের সমর্থন হারিয়েছে উল্লেখ করে সাবেক এই প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘তারা জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এ জন্য তারা অভ্যন্তরীণভাবে একনায়কতন্ত্র ও নৈরাজ্য সৃষ্টি করেছে। অনেক সময় বয়ে গেছে, অনেক রক্ত ঝরেছে, অনেক মায়ের কোল খালি হয়েছে, অনেক সন্তান তার পিতা হারিয়েছে, তাই সংঘাতে না গিয়ে আসুন আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে, সংলাপ ও সমঝোতার মাধ্যমে দেশে যেন নিরপেক্ষ নির্বাচন হয় সে ব্যবস্থা করি। বিরোধী দলগুলোর সাথে আলোচনার মধ্য দিয়ে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচনের পথ বের করুন।’

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মো. ফখরুল আলমের সভাপতিত্বে সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান আহমেদ আজম খান, তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সহ-সম্পাদক কাদের গনি চৌধুরী, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল আওয়াল খান, শাহবাগ থানা কৃষক দলের সভাপতি এম জাহাঙ্গীর আলম, আয়োজক সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক এ বি এম রুহুল আমিন আকন্দ প্রমুখ।

এসআই/আরপি

print
 

আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad