মারবে মামলাও করবে, নতুন নিয়ম শুরু: খসরু

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ১৫ ফাল্গুন ১৪২৬

মারবে মামলাও করবে, নতুন নিয়ম শুরু: খসরু

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক ৫:৫৯ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২৭, ২০২০

মারবে মামলাও করবে, নতুন নিয়ম শুরু: খসরু

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সরকারের মন্ত্রী-এমপিদের সংশ্লিষ্টতা একেবারেই পরিষ্কার। এর জন্য স্বাক্ষী প্রমাণের দরকার নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক শেষে সোমবার বিকেলে সাংবাদিকদের কাছে এমন মন্তব্য করেন তিনি।

খসরু বলেন, দেশে যে পরিবেশ, দখলদারিত্ব, খবরদারির রাজনীতি চলছে সেই পরিস্থিতি বিএনপি আওয়ামী লীগের উপর হামলা করেছে তা মানুষ বিশ্বাস করবে? বিশ্বাস করার কোনো কারণ আছে? এখন আপনাকে মারবে- আবার আপনার বিরুদ্ধে মামলাও করবে- এটা রাজনীতির নতুন নিয়ম শুরু হয়েছে।

‘এমন কোনো আচরণবিধি নেই, যা সরকারপক্ষ ভঙ্গ করছে না’ উল্লেখ করে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, নির্বাচনে সরকারের মন্ত্রী-এমপিদের সংশ্লিষ্টতা একেবারেই পরিষ্কার। ঢাকা শহরে ফুটপাতের উপর কমপক্ষে একশ’নির্বাচনী অফিস করেছে আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা। এসব অফিসে লোকজন চেয়ার নিয়ে বসে আছে, মাইক বাজছে। নির্বাচন কমিশনের উচিত সঙ্গে সঙ্গে এগুলো ভেঙ্গে দেয়া। এরপরও অফিস তৈরি করলে তাদেরকে শোকজ করা এবং এরপর আবার অফিস তৈরি করলে প্রার্থিতা বাতিল করা হবে- এটাই আইন। কিন্তু কোনো আইন মানছে না। কেউ এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থাও নিচ্ছে না।

তিনি বলেন, নির্বাচনী আচরণবিধি পুরোপুরো ভঙ্গ করে তারা অবিরাম প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডে যে বিরাট ব্যবধান- তা কি বাংলাদেশের জনগণ দেখছে না!

খসরু আরো বলেন, ম্যাজিস্ট্রেটের কোনো মোবাইল কোর্ট নেই। বিএনপির প্রার্থীদের যে মারধর করা হচ্ছে, তাদের নিরাপত্তা কোথায়। আমরা প্রথম থেকে প্রার্থীদের নিরাপত্তা চেয়ে আসছি। প্রার্থীদের গায়ের উপর হাত তুলছে, মারধর করছে- সেখানে কোনো মামলা হচ্ছে না, সমাধান হচ্ছে না। ম্যাজিস্ট্রেটরা কোথায় অফিসে বসে কাজ করছে। তাদের সঙ্গে মাঠের সম্পর্ক নেই। ফুটপাতের উপর তৈরি অফিসগুলো ভেঙ্গে দেয়ার কথা, ওভারসাইজ পোষ্টার ছিড়ে দেয়া, মারধরের বিরুদ্ধে রিপোর্ট করা- কোনোটি করছে না। আমরা এসব বিষয় নির্বাচন কমিশনকে বলে গেলাম। উনারা ওয়াদা করেছেন ২৪ ঘন্টার মধ্যে ফুটপাতের উপর তৈরি অফিস ভেঙ্গে দেবেন, ওভারসাইজ পোষ্টার নামিয়ে নেবেন, মাইকিং ইত্যাদি আইনের বিরুদ্ধে যেসব কাজ চলছে তা বন্ধ করবেন।   

খসরু বলেন, রাস্তার উপর, ফুটপাতের উপর বিএনপির প্রার্থীরা একটিও অফিস তৈরি করেনি। আমরা পুরোপুরো আচরণবিধি মনে চলছি।

বিএনপির এই নেতা আরো বলেন, ঢাকা শহরে নির্ধারিত আকারের বড় ছবিতে ভরে গেছে। ওভার সাইজের ব্যানারে ভরে গেছে। সবগুলো সরকারি দলের। বিএনপির প্রার্থীদের ওভার সাইজ পোষ্টার নেই। তাহলে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড কোথায় হচ্ছে? একটি দল কিছুই মানছে না। আইন-কানুন না মারার সংস্কৃতি এটা কী হঠাৎ করে পরিবর্তন হয়ে যাবে তা বিশ্বাস করার কোনো কারণ আছে।

নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশন নামের একটি পর্যবেক্ষক সংস্থার মালিক আরেকটি সংগঠনের প্রধান নির্বাহী। দুটোই পর্যবেক্ষকের তালিকায় রয়েছে। দুটির পৃষ্ঠপোষক আওয়ামী লীগের সদস্যরা। ২২টি পর্যবেক্ষক সংস্থার ১৮টির কোনো ওয়েবসাইট নেই। এদের অধিকাংশ খুঁজে পাওয়া যাবে না। এদের জনবল নেই। বেশিরভাগ দলীয় লোকদের পর্যবেক্ষক করবে। এরা নির্বাচনের দিন সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত বলতে থাকবে নির্বাচন খুব ভালো হয়েছে, সুষ্ঠু নির্বাচন হচ্ছে। এর বাইরে তাদের বলার কোনো সুযোগ নেই। ইভিএমে যে ভোটের সংখ্যা দেবে, এরা পর্যবেক্ষকরা তা স্বাগত জানাবে।

তিনি বলেন, ব্রতী, ডেমোক্রেসি ওয়াচ, ফেমার মতো প্রতিষ্ঠান বাদ দেয়া হয়েছে। যুগে যুগে নির্বাচন পর্যবেক্ষণে যাদের বিশ্বাসযোগ্যতা আছে তাদের নাম নেই। যারা সন্ধ্যায় বলবে নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে তাদের নাম এ তালিকায় রয়েছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধিদল এ বৈঠকে অংশ নেন।

ইসির পক্ষ থেকে বৈঠকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা, নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার, মো. রফিকুল ইসলাম, কবিতা খানম ও ইসির সিনিয়র সচিব মো. আলমগীর উপস্থিত ছিলেন।

এইচকে/এএসটি

আরও পড়ুন...
ইসির সঙ্গে বৈঠকে বিএনপি

 

রাজনীতি: আরও পড়ুন

আরও