বিএসএমএমইউর পরিচালকের বক্তব্য মনগড়া: বিএনপি

ঢাকা, বুধবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ১৪ ফাল্গুন ১৪২৬

বিএসএমএমইউর পরিচালকের বক্তব্য মনগড়া: বিএনপি

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক ১:৩২ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২৭, ২০২০

বিএসএমএমইউর পরিচালকের বক্তব্য মনগড়া: বিএনপি

খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য বিষয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) যে বিবৃতি দিয়েছে সেটাকে মনগড়া ও পরিকল্পিত মিথ্যাচার বলে ঘৃণাভরে প্রত্যাখান করেছে বিএনপি।

‘বিবৃতিটি মূলত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনারই ফরমান,’ বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সোমবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেন।

লিখিত বক্তব্যে বলেন, ‘সকলেই অবগত আছেন যে, খালেদা জিয়াকে হাসপাতালে দেখে এসে তার স্বজনরা কান্নাভেজা কন্ঠে জানিয়েছেন, দিন দিন তার অবস্থার অবনতি হচ্ছে। সারাক্ষণ বমি করছেন। তার গায়ে প্রচণ্ড জ্বর। সারাক্ষণ তীব্র ব্যাথার যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন। বাম হাত সম্পূর্ণ বেঁকে গেছে। পিজি হাসপাতালে নামকাওয়াস্তে যে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে, তাতে কোনো কাজ হচ্ছে না। তার যে ভয়াবহ অবস্থা, দ্রুত উন্নত চিকিৎসার বন্দোবস্ত করতে হবে। তার শরীর খুবই খারাপ। শারীরিক অবস্থার অবনতির কারণে বেগম খালেদা জিয়া কথা বলতে পারছেন না। সেখানে ভর্তির পর এখনো তার ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে আসেনি, তিনি বিছানা থেকে উঠতে পারছেন না, কিছু খেতে পারছেন না, হাত পা নাড়াতে পারছেন না। তিনি স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারছেন না’।

রিজভী বলেন, ‘যথাযথ চিকিৎসার অভাবে খালেদা জিয়ার শারীরিক অসুস্থতা গভীর সংকটাপন্ন। অথচ বিএসএমএমইউ হাসপাতালের মেডিকেল বোর্ডও তার অসুস্থতা যে দেশে নিরাময়যোগ্য নয় সেটি উল্লেখ করলেও আদালত তাকে জামিন দেয়নি। ন্যায়বিচারহীনতার এই বিপজ্জনক ছবি পৃথিবীতে বিরল’।

রিজভী বলেন, ‘বিএসএমএমইউর পরিচালক খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে রোববার এক সংবাদ বিবৃতি দিয়েছেন। এই বিবৃতি মূলত: শেখ হাসিনারই ফরমান। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে- বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা কোনো কোনো ক্ষেত্রে আশানুরূপ উন্নতি হলেও কোনো কোনো ক্ষেত্রে স্থিতিশীল রয়েছে, তার ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে আছে, মুখের ঘা সেরে গেছে, দাঁতের ব্যথা ভাল হয়েছে, শারীরিক দুর্বলতার উন্নতি হয়েছে, আর্থারাইটিসের ব্যথা কমানোর জন্য আধুনিক চিকিৎসা সেবা প্রদানে তাকে পরামর্শ দেয়া হয় কিন্তু দেশনেত্রী নাকি আর্থারাইটিসের চিকিৎসা নিতে সম্মতি জ্ঞাপন করেননি, ফলে আর্থারাইটিসের আশানুরুপ উন্নতি হচ্ছে না’।

‘পরিচালকের এ সকল বক্তব্য সম্পূর্ণ অসত্য, মনগড়া ও ফরমায়েশী বিবৃতি। সেখানে আধুনিক যন্ত্রপাতি নেই বলেই তো কাদের সাহেবরা বিদেশে চিকিৎসা নেন। শেখ হাসিনা কারাবন্দী থাকা অবস্থায় স্কয়ার কিংবা বিদেশে চিকিৎসা নিয়েছেন,’ মন্তব্য করেন বিএনপির এই নেতা।

রিজভী বলেন, ‘পরিচালক নিজে একজন ডাক্তার হয়ে এরকম কুৎসিত মিথ্যাচার করতে পারেন যেটি এই মহান পেশাকে কলঙ্কিত করে। দেশের চারবারের একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর অসুস্থতা নিয়ে পরিচালকের বিবৃতি আমি ঘৃণাভরে প্রত্যাখান করছি’।

সম্প্রতি সুইডেনের সংবাদমাধ্যম নেত্র নিউজে প্রকাশিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কারাবন্দী বিএনপি নেত্রী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া “পঙ্গু অবস্থায়” আছেন এবং দৈনন্দিন কাজের জন্য তিনি অপরের সাহায্যের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন। বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের আপিল বিভাগকে খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য সম্পর্কে এই তথ্য দিয়েছে তার চিকিৎসার জন্য গঠিত বিএসএমএমইউ হাসপাতালের একটি মেডিক্যাল বোর্ড। সুপ্রীম কোর্টের রেজিষ্ট্রার জেনারেলের কাছে বিএসএমএমইউর ভাইস চ্যান্সেলরের স্বাক্ষরিত একটি চিঠির সাথে মেডিক্যাল বোর্ডের রিপোর্টটি পাঠানো হয় ২০১৯ সালের ১১ই ডিসেম্বর। পরদিন, অর্থাৎ ১২ই ডিসেম্বর, আপিল বিভাগ খালেদা জিয়ার এই ভয়াবহ পঙ্গু অবস্থার প্রতিবেদন পাওয়া সত্বেও জামিনের আবেদন বাতিল করে দেয় সরকারের সর্বোচ্চ মহলের হস্তক্ষেপে। নেত্র নিউজ খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য নিয়ে মেডিক্যাল বোর্ডের রিপোর্টটির একটি রিডাক্টেড কপিও (স্পর্শকাতর অংশ ঢেকে দেওয়া হয়েছে এমন) প্রকাশ করে।

এমএইচ/এএসটি

 

রাজনীতি: আরও পড়ুন

আরও