খালেদা জিয়ার অসুস্থতা  গোপন করা হচ্ছে: রিজভী

ঢাকা, সোমবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ৪ ফাল্গুন ১৪২৬

খালেদা জিয়ার অসুস্থতা  গোপন করা হচ্ছে: রিজভী

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক ১২:৪৮ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৬, ২০২০

খালেদা জিয়ার অসুস্থতা  গোপন করা হচ্ছে: রিজভী

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রাণনাশের উদ্দেশে প্রায় দুই বছর যাবত বিনা অপরাধে বন্দী রাখা হয়েছে। বিনা চিকিৎসায় তাকে পঙ্গু করে ফেলা হয়েছে। ৭৫ বছর বয়স্ক খালেদা জিয়ার জীবন প্রতি মুহূর্তে শঙ্কার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সরকারের মদদে তার গুরুতর অসুস্থতা গোপন করা হচ্ছে। তিনি এখন কি অবস্থায় আছেন তা কাউকে জানতে দেয়া হচ্ছে না।

বৃহস্পতিবার সকালে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ সব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, ‘‘বেগম খালেদা জিয়ার গুরুতর অসুস্থতায়  তিনি কি বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে আছেন সেটি নিয়ে দেশবাসী উৎকন্ঠিত।  তার সাথে স্বজনদের দেখা সাক্ষাত করতে দেয়া হচ্ছে না। তার শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে সরকারের মন্ত্রী ও পাতি নেতারাও কুৎসিত ‘ডার্ক হিউমার’ করে যাচ্ছেন। পিজি হাসপাতালের মেডিকেল বোর্ড তার স্বাস্থ্য সম্বন্ধে যে প্রতিবেদন দিয়েছে তাতে বলা হয়েছে তার বর্তমান অবস্থায় এডভান্স চিকিৎসা দরকার। কিন্তু এখন পর্যন্ত এ ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি।’’

তিনি বলেন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে বারবার জোরালোভাবে দাঁড়ানো এই নেত্রীকে কোনভাবেই সহ্য করতে পারছে না সরকার ও সরকার প্রধান। এজন্য এক দুর্বিষহ মাষ্টারপ্ল্যান নিয়ে সরকার কাজ করছে। বর্তমান সরকারপ্রধান মতভিন্নতাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করেন বলেইা দেশনেত্রী আজ কারাগারে। দেশনেত্রীকে বন্দী রাখা দেশ-কাল ও সভ্যতার পক্ষে কলঙ্কের। সেই কলঙ্ক অক্ষুন্ন রাখার দায়িত্ব নিয়েছে ক্ষমতা দখলকারী আওয়ামী সরকার। একজন বয়স্ক, গুরুতর অসুস্থ মহিলা হিসাবে প্রচলিত আইনে তাঁর জামিন অগ্রাধিকারমুলকভাবেই প্রাপ্য। তাঁর প্রায় দুই বছর সাজা খাটা হয়ে গেছে। জেলখানায় যারা একাধিক বছর কারাভোগ করেন তাদের সাজার কার্যকারিতা শর্তহীনভাবে নানাবিধ বিবেচনায় স্থগিত করা হয়। প্রতিহিংসার পথ পরিহার করে অবিলম্বে দেশনেত্রীকে মুক্তি দিতে হবে।

ইভিএমে সুষ্ঠু ভোটের ন্যুনতম সুযোগ নেই এমন  অভিযোগ করে রিজভী বলেন, ইভিএম দিয়ে ডিজিটাল ভোট ডাকাতির মহড়া হলো গত ১৩ জানুয়ারি চট্টগ্রাম-৮ আসনের শুন্য আসন এবং হাইমচরের উপজেলা নির্বাচন ভোটে। ওটা ছিল প্রস্তুতি ম্যাচ। সেখানে প্রমান হয়েছে ভোটার ছাড়াই ইভিএমে নৌকার প্রার্থীদের কিভাবে পাশ করানো সহজ।  কার্যত: ইভিএমে সুষ্ঠু ভোটের ন্যুনতম সুযোগ নেই। ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনও চট্টগ্রামের মতো দখলের নীল নক্শার প্রস্তুতি কি না তা নিয়ে জনমনে সংশয় দেখা দিয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ঢাকাতেও সন্ত্রাসী কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রচারণার সময়ে গ্রেপ্তার  অভিযান করবে না বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। এখন গ্রেপ্তা চলছে, অভিযানও চলছে, আক্রমণ চলছে, হামলা চলছে এবং হামলার মাধ্যমে একটা ভয়ভীতির পরিবেশ তারা সৃষ্টি করেছে। প্রতিনিয়ত নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গ করছে সরকারী দলের প্রার্থীরা। ধানের শীষের পোষ্টার ছিঁড়ে ফেলছে সন্ত্রাসী। বেছে বেছে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাও নিয়োগ দেয়া হয়েছে ছাত্রলীগের ক্যাডারদের। আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্য হিসাবে দায়িত্বে থাকবে সরকারের আস্থাভাজন চিহ্নিতরা।’

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আহম্মদ আজম খান, যুগ্ম মহাসচিব মাহবুব উদ্দিন খোকন, সহ দপ্তর সম্পাদক মোহাম্মদ মুনির হোসেন প্রমুখ।

এমএইচ

 

রাজনীতি: আরও পড়ুন

আরও