চট্টগ্রাম-৮ আসনে ঘৃণ্য নজির স্থাপন হয়েছে: রিজভী
Back to Top

ঢাকা, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২০ | ১৫ চৈত্র ১৪২৬

চট্টগ্রাম-৮ আসনে ঘৃণ্য নজির স্থাপন হয়েছে: রিজভী

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক ৬:২৩ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৩, ২০২০

চট্টগ্রাম-৮ আসনে ঘৃণ্য নজির স্থাপন হয়েছে: রিজভী

নির্বাচন কমিশন ও সরকারের কড়া সমালোচনা করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির বলেছেন,আজ চট্টগ্রাম-৮ আসনে নির্বাচন কমিশন এবং সরকারদলীয় সন্ত্রাসীরা আবারও ভোট ডাকাতির যে ঘৃন্য নজির স্থাপন করলো আমি সেটির তীব্র নিন্দা, প্রতিবাদ ও ধিক্কার জানাচ্ছি।

তিনি বলেন, আজ চট্টগ্রাম-৮ আসনের উপ-নির্বাচনের মাধ্যমে আগামী ৩০ জানুয়ারি ঢাকা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের আগাম বার্তা দেয়া হলো কি না সেটি জনগণ জানতে চায়।

সোমবার বিকেলে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, চট্টগ্রাম-৮ আসনে উপ-নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা সাহেব নিজের কেরামতি অক্ষুন্ন রাখতে পেরেছেন। আজও সিইসি কে এম নুরুল হুদার তত্ত্বাবধানে চট্টগ্রাম উপ-নির্বাচনে মহাভোট ডাকাতির ঐকান্তিক উদ্যোগ লক্ষ্য করা গেছে। ভোট-সন্ত্রাসকে জাতীয় জীবনে অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে প্রতিষ্ঠিত করেছেন এই সেই কে এম নুরুল হুদা।

তিনি বলেন,আজও চট্টগ্রাম-৮ আসনের উপ-নির্বাচনে ভোট-লুটের রমরমা আয়োজন সম্পন্ন করেছেন কে এম নুরুল হুদা। হুদা কমিশন ভোট ডাকাতির বৈধতা দানের সিলমোহরে পরিণত হয়েছে। তিনি সুষ্ঠু নির্বাচনের শত্রুপক্ষ। তিনি গণতন্ত্রের শত্রু। তিনি বিএনপিসহ বিরোধী দল ও মতের সাথে শত্রুতামূলক আচরণ করেন। বিষাক্ত সাপকেও বিশ্বাস করা যায়, কিন্তু তার অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন বিশ্বাস  করা যায় না। তিনি একদলীয় রাজনীতির মূঢ় বিশ্বাসের দ্বারা অনুপ্রাণিত।

রিজভী বলেন, আজ চট্টগ্রাম-৮ আসনে উপ-নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভোটের আগের দিন বিএনপি নেতাকর্মী ও সমর্থকদের বাড়ী বাড়ী গিয়ে হুমকি-ধামকি, হামলা আর ভোটের দিন ভোটকেন্দ্রে আসতে বাধা প্রদান করা হয়েছে। ধানের শীষের প্রার্থীর সমর্থক ও ভোটারদের প্রতিনিয়ত নিগৃহিত করা হয়েছে। প্রতিমূহুর্তে ধানের শীষের সমর্থক ও ভোটাররা হিংসার সম্মুক্ষীণ হয়েছেন। সারা আসন জুড়ে সর্বত্রই অত্যাচারের চিত্র ছিল একই রকম। ১৭০টির মধ্যে সকালবেলায় ১২০টি ভোটকেন্দ্র থেকে এবং পরে সকাল ১১টার মধ্যে সবকটি কেন্দ্র দখল করে বিএনপি প্রার্থীর এজেন্টদের বের করে দিয়েছে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা। বহিরাগতদের ভোটকেন্দ্রে এসে ভোটের লাইন দেখানো হলেও ওই এলাকার কোনো ভোটারই ভোট দিতে পারেনি।

বিএনপির এই নেতা বলেন, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম, যুবদল নেতা খোরশেদ ও রফিকের ওপর হামলা চালিয়ে গুরুতর আহত করেছে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা। তারা এখন হাসপাতালে মুমূর্ষ অবস্থায় চিকিৎসাধীন আছেন। এমনকি বিএনপির বর্ষীয়ান নেতা ৮০ বছর বয়স্ক অ্যাডভোকেট ইসাহাকের ওপর বর্বরোচিত হামলা চালিয়ে তাকেও আহত করেছে সন্ত্রাসীরা। এই ভোট সন্ত্রাস চলাকালে রিটার্নিং কর্মকর্তা হাসানুজ্জামানের কাছে লিখিত অভিযোগ দেয়া হলেও তিনি কোনা ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। এসব অপকর্মে সহায়তা করেছে নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তাসহ আইন শৃঙ্খলা বাহিনী।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এমএইচ/

 

রাজনীতি: আরও পড়ুন

আরও