সিটি নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারে বিএনপির ‘শঙ্কা’!

ঢাকা, রবিবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ১১ ফাল্গুন ১৪২৬

সিটি নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারে বিএনপির ‘শঙ্কা’!

মাহমুদুল হাসান ১০:০৭ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ২৫, ২০১৯

সিটি নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারে বিএনপির ‘শঙ্কা’!

ঢাকার সিটি করপোরেশন (উত্তর ও দক্ষিণ) নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার নিয়ে শঙ্কার কথা জানিয়েছেন বিএনপি, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও ২০ দলীয় জোটের শরিকদলগুলোর নেতারা।

তাদের দাবি, ইভিএমের মাধ্যমে ভোটগ্রহণে জনগণের আস্থা অর্জন করতে পারেনি বিশ্বের কোনো দেশেই।

বাংলাদেশেও স্থানীয় কিংবা জাতীয় নির্বাচনে যেখানে ইভিএম ব্যবহার হয়েছে যা জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। ফলে শুধু ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ ছাড়া সবাই ইভিএমের বিরোধিতা করে আসছেন। ইভিএম ব্যবহারে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করার বিষয়ে দাবি জানিয়েছেন কেউ কেউ।

দুই সিটিতে ইভিএম ব্যবহারের ঘোষণা নিয়ে গতকাল সোমবার রাতে গুলাশানে দলের চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বিএনপি স্থায়ী কমিটির বৈঠকে আলোচনা হয়। বৈঠক তারা রংপুর নির্বাচনসহ স্থানীয় নির্বাচনের ইভিএম ব্যবহারের ভোটগ্রহণের ত্রুটি নিয়ে কথা বলেন। ফলে ঢাকা সিটি নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারে বিপক্ষে মতামত উঠে আসে। পরে সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দলীয় অবস্থান তুলে ধরেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, এটা অত্যন্ত আপত্তিজনক। আমরা এই সিদ্ধান্তের নিন্দা জানাচ্ছি। ইভিএমে নির্বাচনের ফলাফল পাল্টানো এবং কারচুপির যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। এই নির্বাচনেও ইভিএম ব্যবহারের বিরোধিতা করছি।

তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন (ইসি) ঢাকা সিটির নির্বাচনের শিডিউল ঘোষণা করেছে। আমরা মনে করি, অত্যন্ত তড়িঘড়ি করে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হলো। এর পেছনে নির্বাচন কমিশনের যে মূল উদ্দেশ্য থাকে, সেটাই আছে বলে আমরা আশঙ্কা করছি। তারা সরকারি দলকে জয়ী করার জন্য তড়িঘড়ি তফসিল দিয়েছে।

মির্জা ফখরুল আরো বলেন, নির্বাচন কমিশন বলেছেন যে, পুরো নির্বাচনটা ইভিএমে হবে। এটা অত্যন্ত আপত্তিজনক এবং আমরা এই সিদ্ধান্তে নিন্দা জানাচ্ছি। আমরা বলতে চাই- ইভিএমে যথেষ্ট সুযোগ থাকবে ভোটের ফলাফলকে মেনুপুলেট করার, তাকে নিয়ন্ত্রণ করার। সেজন্য আমরা এই নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের বিরোধিতা করছি।

এছাড়া বিএনপি ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু পরিবর্তন ডটকম বলেন, ‘শুধু বাংলাদেশে নয়, ইভিএম ব্যবহারে বিশ্বের কোথাও সুফল পাওয়া যায়েনি। ভোট কাচুপির জন্য ইভিএম ব্যবহারের প্রয়োজন নেই। গত নির্বাচনের মতোই তাদের প্রার্থীদের বিজয়ী ঘোষণা করে দিলেই হয়।’

তিনি বলেন, ‘দেশে গণতান্ত্রিক রীতি নীতি বলে কিছুই নেই। তারপরও আমরা নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি। তবে এটা মনে করলে চলবে না যে আমরা তাদের অনৈতিক কাজে সমর্থন দেয়ার জন্য নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি। আমরা অনিয়ম-দুর্নীতি মানুষের কাছে তুলে ধরার জন্যই নির্বাচনে যাচ্ছি।

জানতে চাইলে ২০ দলীয় জোটের শরিক কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহীম পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘ইভিএমের প্রতি জনগণের আস্থা তৈরি হয়নি। বিগত দিনে সব নির্বাচনের ইভিএমের ব্যবহার করা হয়েছে সেখানে কাঙ্ক্ষিত সুফল আসেনি। ফলে নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করা হবে কি হবে না এটা নির্ভর করে রাজনৈতিক দলের মতামতের ওপর। বিশেষ করে বিএনপি ও ২০ দলের সঙ্গে আলাপ করে ইভিএম ব্যবহার চূড়ান্ত করতে হবে, অন্যথায় নয়।’

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম নেতা গণস্বাস্থ্যের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের একটা বদ মতলব আছে। যে কারণে তারা গড়িগড়ি করে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে। এছাড়া বিএনপির একটা ব্যর্থতা আছে, তারা কেন আগে থেকে জনগণের কাছে গেল না। তারা জনসভা করতে পারল না। সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে এখানে সরকারের চালাকি আছে। তাই নির্বাচন কমিশনকে আগে নিশ্চিত করতে হবে জনগণ ভোট দিতে পারবেন কিনা? তারপর আসবে ইভিএমের প্রশ্ন…।’

তিনি বলেন, ‘জনগণের সামনে ইভিএম আগে উপস্থাপন না করে হঠাৎ করেই  নির্বাচন কমিশনের ব্যবহারে খারাপ ইনটেনশন আছে। তারা এবার ৮-১০ কেন্দ্রে পরীক্ষামূলক ব্যবহার করতে পারবে। এভাবে হঠাৎ করে সব কেন্দ্রে ইভিএম ব্যবহার তাদের ভোট চুরির কৌশল হতে পারে।

উল্লেখ্য, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরশনে ভোটগ্রহণ আগামী ৩০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে। ওইদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদা।

ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ তারিখ আগামী ৩১ ডিসেম্বর, যাচাই-বাছাই ২ জানুয়ারি, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ৯ জানুয়ারি, প্রতীক বরাদ্দ ১০ জানুয়ারি এবং ভোটগ্রহণ ৩০ জানুয়ারি।

ঢাকা উত্তর সিটিতে ভোটার সংখ্যা ৩০ লাখ ৩৫ হাজার ৬২১ জন। সাধারণ ওয়ার্ড ৫৪টি এবং সংরক্ষিত ওয়ার্ড ১৮টি। সম্ভাব্য ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ১ হাজার ৩৪৯টি এবং ভোটকক্ষ ৭ হাজার ৫১৬টি।

ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে ভোটার ২৩ লাখ ৬৭ হাজার ৪৮৮ জন। সাধারণ ওয়ার্ড ৭৫টি এবং সংরক্ষিত ওয়ার্ড ২৫টি। সম্ভাব্য ভোটকেন্দ্র ১ হাজার ১২৪ এবং ভোটকক্ষ ৫ হাজার ৯৯৮টি।

এমএইচ/এইচআর

 

রাজনীতি: আরও পড়ুন

আরও