খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে সম্মেলনের পথে হাঁটছে না বিএনপি

ঢাকা, রবিবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ১১ ফাল্গুন ১৪২৬

খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে সম্মেলনের পথে হাঁটছে না বিএনপি

মাহমুদুল হাসান ৬:৫৩ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১৯, ২০১৯

খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে সম্মেলনের পথে হাঁটছে না বিএনপি

নানা ‘প্রতিকূল’ পরিবেশের মধ্যে রাজনীতির মাঠে টিকে থাকার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে বিএনপি। দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘ দুই বছর ধরে কারাগারে, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও দেশের মাটিতে এসে দলের হাল ধরতে পারছে না। ফলে রাজনীতির মাঠে অনেকটাই কোনঠাসা দলটি। যার প্রভাব দলীয় সাংগঠনিক কার্যক্রমেও পড়েছে।

বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ হয়েছে প্রায় নয় মাস আগে। তিন বছর অন্তর অন্তর কমিটির কাউন্সিল করার কথা থাকলেও জাতীয় সম্মেলন নিয়ে কোনো পরিকল্পনা হাতে নিতে পারছেন না দলটির শীর্ষ নেতারা।

এর কারণ হিসেবে সরকারের ‘বিরাজনীতিকরণ নীতির’ কথা উল্লেখ করেন বিএনপি নেতাকর্মীরা। তাদের দাবি, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ‘ষড়যন্ত্র’ করে বিএনপিকে রাজনীতি থেকে ‘মাইনাস’ করে তাদের ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী করতে চায়। এরই অংশ হিসেবে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখতে ‘মিথ্যা’ মামলায় কারান্তরীণ রাখা হয়েছে। জামিনের সুযোগ থেকে বারবার ‘বঞ্চিত’ করা হচ্ছে বিএনপি প্রধানকে। ফলে খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলনকে গুরুত্ব দিয়ে এগুতে চায় দলটি। তাই এ মুহূর্তে জাতীয় কাউন্সিল করতে চান না দলটির নেতা-কর্মীরা!

জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘আমাদের কাউন্সিল নিয়ে এখনও কোনো আলোচনা হয়নি। দলীয় ভাবে সিদ্ধান্ত হলে আপনারা যথা সময়ে জানতে পারবেন।’

খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে কিভাবে কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে তা সকলেরই জানা। তাকে মুক্ত করার আন্দোলন আমাদের অব্যাহত আছে। 

২০১৬ সালের ১৯ মার্চ সর্বশেষ বিএনপির ৬ষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিল হয়। দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তিন বছর অন্তর অন্তর জাতীয় কাউন্সিল করার কথা রয়েছে। এছাড়া ছয় মাস পরপর দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটির সভা ডাকার বিধান রাখা হয়েছে। কোনোটাই ঠিকমত করতে পারছে না দলটি।

তবে বিএনপি অঙ্গদল ও জেলা কমিটিগুলোতে চলছে ভাঙাগড়া। কোথাও সম্মেলন কোথাও কেন্দ্র থেকে চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে এসব কমিটি। এ নিয়ে দলের হাইকমান্ড ক্ষুব্ধ।

এ প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, বিএনপি এখন ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছি। দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে। আমাদের লাখ লাখ নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা। এমন প্রতিকূল পরিবেশেও জেলা পর্যায়ের কমিটির পাশাপাশি অঙ্গসংগঠনগুলোর কমিটিগুলো করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, দেশকে বিরাজনীতিকরণ করার জন্য ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। তাদের (আওয়ামী লীগ) ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী করার জন্য বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে। একটা কথা স্পষ্ট করে বলে দিতে চাই, অতীতে যেভাবে স্বৈরাচারের পতন হয়েছে, আগামী দিনেও একইভাবে স্বৈরাচারের পতন ঘটানো হবে।

সুবিধাজনক সময়ে বিএনপির জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান মির্জা ফখরুল।

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, একটি যথাযথ কাউন্সিল করার জন্য যিনি কেন্দ্র বিন্দুতে থাকবেন; তিনি হচ্ছেন আমাদের দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। তাকে মিথ্যা মামলায় কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে। ফলে আমাদের দলের নেতা-কর্মীরা স্বাভাবিক ভাবে কাউন্সিলে প্রাণ পাবেন না। তাই নেতাকর্মীরা খালেদা জিয়ার উপস্থিতিতেই কাউন্সিল করতে চায়।

তিনি বলেন, কাউন্সিলের আনুষ্ঠানিকতার জন্য আমাদের সকল প্রস্ততি আছে।

দলের সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, আওয়ামী লীগের মত একটু পুরোনো রাজনৈতিক দল বিএনপিকে অবাদ রাজনীতি করার সুযোগ থেকে আইনী মারপ্যাচে দূরে রাখতে চাইছে। আমাদের নেত্রীকে জামিন না দিয়ে কারাগারে আটকে রেখেছে। আমাদের জেলা কমিটির সম্মেলনে বাধা দিচ্ছে, প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে। স্বাভাবিক ভাবেই জেলা কমিটি গঠনের পর কেন্দ্রীয় কাউন্সিল করা হয়। অনেক সময় ব্যতিক্রমও দেখা যায়। আওয়ামী লীগও সব জেলা কমিটির সম্মেলন শেষ করার আগেই কেন্দ্রীয় সম্মেলন করছে।

বিএনপির কাউন্সিল প্রসঙ্গে প্রিন্স বলেন, আমাদের দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও দেশে (লন্ডনে রাজনৈতিক আশ্রয়ে) নেই। নেতাকর্মীদের মূল আকর্ষণ যেখানে নেই, সেখানে কাউন্সিল কিভাবে হয়? আমরা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার উপস্থিতিতেই জাতীয় কাউন্সিল করতে চাই।

গত বছর ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে কারাবন্দি খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য পহেলা এপ্রিল বিএসএমএমইউ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে ৬১২ নম্বর কেবিনে তাকে রাখা হয়েছে।

এমএইচ/এসবি

 

রাজনীতি: আরও পড়ুন

আরও