‘বিএনপি আমলে সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন হয়নি’

ঢাকা, শনিবার, ২৫ জানুয়ারি ২০২০ | ১২ মাঘ ১৪২৬

‘বিএনপি আমলে সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন হয়নি’

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক ১:৫৫ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১০, ২০১৯

‘বিএনপি আমলে সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন হয়নি’

বিএনপির আমলে সংখ্যালঘুদের কোনও নির্যাতন করা হয়নি বলে দাবি করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেছেন, ভারতের সংসদে বলা হয়েছে - বিএনপির সরকারের আমলে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন করা হয়েছে। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। আমরা জোর গলায় বলতে পারি, বিএনপির আমলে এখানে সংখ্যালঘুদের স্বার্থ রক্ষা করা হয়েছে। সংখ্যালঘুর ওপর নির্যাতন আওয়ামী লীগ আমলে যতটা হয়েছে, তা আর কখনও হয়নি।

মঙ্গলবার বেলা ১১টায় নয়াপল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনির্ধারিত এক সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল এসব কথা বলেন।

আজ ১০ ডিসেম্বর, বিশ্ব মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে পূর্ব ঘোষিত বিএনপির শোভাযাত্রা পুলিশ করতে না দেয়ায় সংবাদ সম্মেলনে করেন বিএনপি মহাসচিব।

এদিকে সকাল থেকে বিএনপি অফিসের সামনে পুলিশের নিরাপত্তা বাড়ানো হয়। বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি গোয়েন্দা সংস্থার লোকজনকে দেখা যায়। পুলিশকে বিএনপির কার্যালয় থেকে বের হতে বারবার নিষেধ করতেও দেখা গেছে।

ভারতের নাগরিকত্ব আইন এবং এনআরসি প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, তাদের সংসদে খুব পরিস্কার করে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ থেকে মুসলিম সম্প্রদায়ের লোকজন অবৈধভাবে অনুপ্রবেশ করেছে। এটা নাকি বিএনপির আমলে হয়েছে। নতুন নাগরিকত্ব বিলে বলা হয়েছে, অমুসলিমদের নাগরিকত্ব দেওয়া হবে। কিন্তু মুসলিমদের দেওয়া হবে না।

মির্জা ফখরুল বলেন, জাতিসংঘ ঘোষিত মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে আমাদের কার্যালয়ের সামনে থেকে একটা র‌্যালি হওয়ার কথা ছিল। সেইভাবে প্রস্তুতিও নিয়ে ছিলাম। কিন্তু সকালে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নেতাকর্মীরা কার্যালয় থেকে নিচে নামলে আমাদের ব্যবস্থা আমরা নেবো।

বিএনপি এই মুহূর্তে কোনও সংঘাতে যেতে চায় না বলে উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমাদের অধিকারগুলো কথা বলছি। আপনার দেখেছেন, সভা-সমাবেশ করতে হলে অনুমতি নিতে হয়। এমনকি সাংগঠনিক কার্যক্রম করতেও অনুমতি নিতে হয়।

দলীয় রাজনীতি ঊর্ধে সারা বিশ্বে স্বীকৃত মানবাধিকার। সেই মানবাধিকার রক্ষা করার জন্য আজকে র‌্যালি করার কথা ছিল। আমাদের দেশে একটি জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আছে। যারা বয়স ১০ বছর, এই সময়ে তারা একটি মামালার তদন্ত নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে।

বাংলাদেশের এখন প্রতি মুহূর্তে মানবাধিকার লঙ্ঘন হচ্ছে দাবি করে ফখরুল বলেন, আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী গত ১০ বছরে ১৫ শত ৯৯ জনকে বিচারবহির্ভূত হত্যা করা হয়েছে। তারা এর নাম দিয়েছি বন্দুকযুদ্ধ। বিএনপির হিসেবে মতে এটি ২ হাজারও বেশি। ১ লাখের ওপর রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে মামালা দেওয়া হয়েছে। আজকে দেশে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টি সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখানে যে ব্যক্তি ভিন্ন মত পোষণ করে তাকে হয় গ্রেফতার করা হয়, না হয় গুম করা হয়। অনেক নেতা, মানবাধিকারকর্মী ও সাংবাদিক গুম হয়েছে।

পাকিস্তান আমলের চাইতেও গত ১০ বছরে বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি মানবাধিকার লঙ্ঘন হয়েছে দাবি করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, জাতিসংঘ থেকে বারবার বাংলাদেশকে ডাকা হয়েছে। ৪ বছর আগে মানবাধিকার রক্ষায় বাংলাদেশ যে অঙ্গীকার করেছিল, তার একটিও রক্ষা করেনি। এরজন্য গতবার সরকারের প্রতিনিধিদের তিরস্কার করা হয়েছে।

আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য সব ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘন প্রক্রিয়া গ্রহণ করছে বলে উল্লেখ করেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, গার্মেন্ট শ্রমিক, বিদেশে নারী শ্রমিকদের মানবাধিকার লঙ্ঘন হচ্ছে, কিন্তু সরকার কোনও উদ্যোগ নিচ্ছে না।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এমএইচ/এসবি

 

রাজনীতি: আরও পড়ুন

আরও