সরকার আদালত অবমাননা করেছেন: ফখরুল

ঢাকা, রবিবার, ২৬ জানুয়ারি ২০২০ | ১৩ মাঘ ১৪২৬

সরকার আদালত অবমাননা করেছেন: ফখরুল

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক ২:২৭ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ০৬, ২০১৯

সরকার আদালত অবমাননা করেছেন: ফখরুল

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশে বিচার বিভাগের যে অবস্থা, সেখানে কে কতটা সাহস রাখবেন তা আমি জানি না।সরকারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা যখন বলেন, সব ঠিক আছে, তিনি (খালেদা জিয়া) সুস্থ আছেন, তখন বিএসএমএমইউ উপাচার্য এবং ডাক্তারদের কয়টা মাথা আছে যে বলবেন তিনি খারাপ আছে। কালকে সরকার আদালত অবমাননা করেছেন।

শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবের আব্দুস সালাম হলে ‘খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি ও তারেক রহমানের অবৈধ সাজা বাতিল এবং স্বৈরাচার পতন দিবস’ উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। ৯০'র ডাকসু ও সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্য এর  আয়োজন করে।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘কালকে বিএসএমএমইউ উপাচার্য আদালত অবমাননা করেছেন। কারণ ৫ তারিখের মধ্যে দুটি রিপোর্ট আদালত চেয়েছিল। কোর্ট আদেশ দিয়েছিল এই রিপোর্ট ডাক্তারদের স্বাক্ষরসহ হাজির করতে হবে। কিন্তু তারা করেননি। তার আগেরদিন প্রধানমন্ত্রী বললেন, খুব ভালো আছেন সুস্থ আছেন। হুইল চেয়ারের সেটাও ভালোভাবে। এজন্যই আদালত অবমাননা হওয়া উচিত ছিল।'

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘অ্যাটর্নি জেনারেল সাহেব সব সময় সরকারের স্বার্থরক্ষার জন্য চেষ্টা করেন। এমন ভাবে চেষ্টা করেন যে সরকার না, দলীয় ভাবে স্বার্থ রক্ষার জন্য চেষ্টা করেন। এত কিছুর পরও আমরা হতাশ হয়েছি সুপ্রিম কোর্টের বিচার বিভাগ এই বিষয়টাকে কেউ লক্ষ্য করেনি। এবং এই বিষয়ে আদালত অবমাননার ব্যবস্থা নেননি।’

বেগম খালেদা জিয়ার জনপ্রিয়তা কে সরকার ভয় পায় মন্তব্য করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘একটি মিথ্যা বানোয়াট মামলায় সরকার জোর করে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে আটক করে রেখেছে। কারণ খালেদা জিয়া এতটাই জনপ্রিয় তিনি যদি বেরিয়ে আসেন তখন তাদের পক্ষে ক্ষমতায় টিকে থাকা সম্ভব নয়। সেই কারণে তাকে আজকে অন্যায় ভাবে কারাবন্দি করে রাখা হয়েছে। তিনি শুধু কারাগারে আছেন সেটি নয় তিনি এখন অত্যন্ত অসুস্থ আমরা বারবার এই কথাটি বলে আছি, জনগণের কাছে বলে আসছি,ডাক্তাররা বলছেন তাকে যদি এই মুহূর্তে সঠিক চিকিৎসা দেয়া না হয় তার প্রাণহানির সংখ্যা রয়েছে। এই বিষয়টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আমরা বলছি সব বিষয় বাদ দেন মানবিক কারণে মুক্তি দিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করুন।’

জাতি আজ গণতন্ত্রবিহীন অবস্থায় মন্তব্য করে ফখরুল বলেন, ‘দুর্ভাগ্য আজকে জাতি ১৯৭১ সালে যুদ্ধ করেছে। তার মূল বিষয়বস্তু ছিল গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা। ১৯৯০ সালে স্বৈরাচারী এরশাদকে সরিয়ে দিয়ে গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে নিয়ে আসছিল। আজকে সেই জাতি গণতন্ত্রবিহীন অবস্থায়। এরশাদের বিরুদ্ধে যারা আন্দোলন করলেন। স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে যারা রাস্তায় নেমে প্রাণ দিয়ে জাতির জন্য লড়াই করলেন, তাদের সঙ্গে সেদিন কিন্তু বেঈমানি করে আজকে যারা ক্ষমতায় আছে তারা এরশাদের সঙ্গে আঁতাত করে নির্বাচনে গিয়েছি। এবং আজকেও তারা সেই স্বৈরাচারী এরশাদের দলের সঙ্গে আঁতাত করে ক্ষমতা দখল করে আছে। এটা কিন্তু বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়।'

দেশের সঙ্কট তৈরি হয়েছে মন্তব্য করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘দেশে ভয়াবহ রাজনৈতিক সঙ্কট তৈরি করছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শেষ হয়ে যাচ্ছে। সিনহা(এসকে সিনহা) সাহেব তার বইতে বলে গিয়েছিলেন, আমাদের যা কিছু অর্জন তা দানবের মত সবকিছু তছনছ করে দিচ্ছে। আমাদের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব গণতন্ত্র সব ধ্বংস।’

অসুস্থতায় খালেদা জিয়া প্রাণ হারিয়ে ফেলতে পারেন এমন মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘খালেদা জিয়া অত্যন্ত অসুস্থ। ডাক্তাররা বলছেন, বিলম্ব হলে তাকে সুস্থ অবস্থায় আর পাওয়া যাবে না। এমনকি প্রাণহানিও ফেলতে পারেন। আমরা বলছি সবকিছু বাদ দেন। অন্তত মানবিক কারণে তাকে মুক্তি দিয়ে তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করুন।’

খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে রাস্তায় নেমে তাকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিয়েছে। আজকে তাই আমাদেরকে সংগ্রাম করতে হবে। অন্যায়ের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করতে হবে। আমাদের নেত্রীকে (খালেদা জিয়া) উদ্ধার করতে হবে, গণতন্ত্রকে উদ্ধার করতে হবে। এটাই এখন আমাদের দায়িত্ব।

ডাকসুর সাবেক ভিপি এবং বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমানউল্লাহ আমানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন দলটির চেয়ারপারসনের আরেক উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, বিএনপি নেতা মোস্তাফিজুর রহমান, নাজিম উদ্দিন আলম, জাগপা একাংশের নেতা খন্দকার লুৎফর রহমান প্রমুখ।

এমএইচ

 

রাজনীতি: আরও পড়ুন

আরও