গভীর রাতে তল্লাশির ঘটনায় আতঙ্কে ইলিয়াসের পরিবার

ঢাকা, শনিবার, ২৩ জুন ২০১৮ | ৮ আষাঢ় ১৪২৫

গভীর রাতে তল্লাশির ঘটনায় আতঙ্কে ইলিয়াসের পরিবার

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক ৬:০০ অপরাহ্ণ, মে ২২, ২০১৮

print
গভীর রাতে তল্লাশির ঘটনায় আতঙ্কে ইলিয়াসের পরিবার

বিএনপির সাবেক সংগঠনিক সম্পাদক এম ইলিয়াস আলী নিখোঁজের সাত বছর পার হয়ে গেছে। এখনো সন্ধান মেলেনি তার। এরই মধ্যে হঠাৎ করে সোমবার গভীর রাতে তার বাসভবন বনানীর ন্যাম ভিলেজের ‘সিলেট হাউসে’ গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) পরিচয়ে তল্লাশির চেষ্টা করা হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তার পরিবারের সদস্যদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

এর মধ্যে বিএনপি নেতারা ইলিয়াস আলীর পরিবারের খোঁজ নিতে তার বাসায় ছুটে যান। মঙ্গলবার বিকালে ইলিয়াস আলীর বাসায় যান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, যুগ্ম-মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল। তারা বেশ কিছু সময় বাসায় অবস্থান করেন। পরিবারের সদস্যদের খোঁজ-খবর নেন।

ড. মোশাররফ পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘গভীর রাতে এভাবে একটি বাসায় হানা দেয়া দুঃখজনক। এটা উদ্বেগের বিষয়।’

এর আগে দুপুরে ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদি লুনা পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘গভীর রাতে ডিবি পরিচয়ে বাসায় এসে কয়েকজন গেট খুলতে নিরাপত্তাকর্মীকে জোরাজুরি করে। সোমবার দিনগত রাত ৩টা থেকে সাড়ে ৪টা পর্যন্ত কয়েক দফা এ চেষ্টা হয়। প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে তারা ফিরে যায়।’

নিরাপত্তাকর্মীর বরাতে তিনি বলেন, ‘ডিবির লোকেরা নিরাপত্তাকর্মীকে গেট খুলতে বলে। না খোলায় তাকে দেখে নেয়ার হুমকি দিয়েছে। কয়েক দফা এসে তারা গেট ভাঙ্গারও চেষ্টা করে। এ সময় ডিবির লোকেরা ল্যাপটপ এনে তাতে কি যেন দেখানোর চেষ্টা করে।’

লুনা আরও বলেন, ‘ঘটনা আঁচ করতে পেরে আমি আর্তচিৎকার শুরু করলে ফটকের বাইরে অবস্থান নেয়া ডিবির সদস্যরা চলে যায়।’

বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘গতকাল রাতে যা প্রত্যক্ষ করলাম, তাতে মনে হলো- একটি তাণ্ডব সৃষ্টি করার অবস্থা। একজন অজ্ঞাত ব্যক্তির নাম ধরে তাকে খোঁজা। পরিচয় দেয়ার পরও ইলিয়াস আলীর বাসার গেটে এসে ধাক্কাধাক্কি ও চিল্লাচিল্লি করার পাশাপাশি হুমকি-ধামকি দেয়া হয়।’

তিনি বলেন, ‘যখন এলাকাবাসী এবং মিডিয়ার লোকজন আসল তখন তারা চলে গেল। যে গাড়িগুলোতে তারা আসলো সেই গাড়িতে গেল না। পায়ে হেঁটে তারা সেহেরি খেতে উঠা এবং নামাজ পড়তে যাওয়া লোকদের সঙ্গে চলে গেল।’

আলাল আরও বলেন, ‘সকাল থানায় ডিজি করতে গেলে মিসেস ইলিয়াস আলীকে ওসি বললেন- জিডি করার দরকার নেই। আমরা খোঁজ নিয়ে আপনাকে জানবো। মঙ্গলবার বিকাল পর্যন্ত থানা থেকে কোনো রকম যোগাযোগ করা হয়নি। এখন পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তহীনতায় ভুগছেন।’

এদিকে নয়াপল্টনে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, সোমবার সেহরির কিছুক্ষণ আগে নিখোঁজ বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীর রাজধানীর বনানীর সিলেট হাউসের বাসায় ডিবি পরিচয়ে পুলিশ তল্লাশির নামে তাণ্ডব চালায়। জোরে জোরে দরজায় ধাক্কা দিয়ে ইলিয়াস আলীর অসুস্থ স্ত্রীকে দরজা খোলার জন্য বলে।

তিনি বলেন, আতঙ্কিত হয়ে ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর লুনা আমাকেসহ বিএনপির নেতৃবৃন্দকে ফোনে আকুতি জানাতে থাকেন। পরে ইলিয়াস আলীর বাসার সামনে গণমাধ্যম কর্মীদের উপস্থিতিতে ডিবি পুলিশ পরিচয়ের ব্যক্তিরা চলে যায়।

তিনি বলেন, বিরোধী দলের মধ্যে ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরির জন্যই এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে। আমি সরকারি সাদা পোশাকধারী বাহিনীর কাপুরুষচিত সন্ত্রাসী ভূমিকার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

উল্লেখ্য, ২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল রাতে নিজ বাসায় ফেরার পথে ঢাকার মহাখালী থেকে নিখোঁজ হন বিএনপির সাবেক কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক, সিলেট জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য এম ইলিয়াস আলী এবং তার গাড়িচালক আনসার আলী।

মধ্যরাতে মহাখালী এলাকা থেকে ইলিয়াস আলীর গাড়িটি উদ্ধার করে পুলিশ। তবে সেই থেকে এখন পর্যন্ত ইলিয়াস আলী নিখোঁজের কারণ রহস্যাবৃতই রয়ে গেছে।

অবশ্য ইলিয়াস আলী ও তার গাড়িচালক আনসার আলীকে ফিরে পেতে এখনও অপেক্ষার প্রহর গুণছেন তাদের স্বজনেরা।

স্বামীকে ফিরে পাওয়ার অপেক্ষায় আছেন ইলিয়াসের স্ত্রী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা তাহসিনা রুশদি লুনা। আর দুই ছেলে আবরার ইলিয়াস, লাবিব সারার এবং এক মেয়ে সাইয়ারা নাওয়াল তাদের বাবার অপক্ষোয় আছে।

এমএইচ/এমএসআই

 
.




আলোচিত সংবাদ