কাদেরকে ভারতের পক্ষে বলার অধিকার কে দিয়েছে, প্রশ্ন ফখরুলের

ঢাকা, সোমবার, ২৮ মে ২০১৮ | ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫

কাদেরকে ভারতের পক্ষে বলার অধিকার কে দিয়েছে, প্রশ্ন ফখরুলের

পরিবর্তন প্রতিবেদক ১০:৪৮ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২৬, ২০১৮

print
কাদেরকে ভারতের পক্ষে বলার অধিকার কে দিয়েছে, প্রশ্ন ফখরুলের

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে ভারতের পক্ষে কথা বলার অধিকার কেউ দেয়নি বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে বৃহস্পতিবার বিকেলে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে প্রতিবাদ সভাটির আয়োজন করে সম্মিলিত বৌদ্ধ নাগরিক নামের একটি সংগঠন।

সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মির্জা ফখরুল বলেন, 'কয়েক দিন আগে আওয়ামী লীগের বিরাট ১৯ জনের একটি টিম গিয়েছিল ভারতে, সেই দেশের ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের সাথে সাক্ষাত করার জন্য। খুব ভালো কথা আমরা এই ধরনের সফরকে সবসময় স্বাগত জানাই। কারণ এতে করে দুই দেশের মানুষের মধ্যে, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সুসম্পর্ক তৈরি হয়। আমিও তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধি দলকে নিয়ে কিছুদিন আগে চীনে গিয়েছিলাম। কিন্তু তারা (আওয়ামী লীগের নেতারা) ভারত থেকে এসে কী বললেন? তারা বললেন, বাংলাদেশের আগামী নির্বাচনে ভারত ইন্টারফেয়ার (হস্তক্ষেপ) করবে না। কথাটার অর্থ কী? কেউ কী বলেছে ভারত বাংলাদেশের নির্বাচনে ইন্টারফেয়ার করবে। ওনাকে (ওবায়দুল কাদের) কি ভারত দায়িত্ব দিয়েছে এ কথাটি বলার জন্য? এটা আমরা এখন পর্যন্ত বুঝতে পারছি না। দায়িত্ব তিনি কার কাছে থেকে পেলেন? ভারতের পক্ষ থেকে তিনি বলছেন, বাংলাদেশের আগামী নির্বাচনে ভারত ইন্টারফেয়ার করবে না। আমার কাছে এটা মনে হয়েছে, তার এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটা বড় সমস্যার সৃষ্টি করবে। কারণ ভারতের পক্ষে কথা বলার অধিকার তাকে কেউ দেয়নি। এটা গোটা বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে অনেক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আমরা সবসময় মনে করি ভারত আমাদের সবচেয়ে নিকটতম বন্ধু রাষ্ট্র। মুক্তিযুদ্ধে তাদের ভূমিকার কথা আমরা সবসময় শ্রদ্ধার সাথে স্বীকার করি। তাদের সাথে বাংলাদেশের সুসম্পর্ক থাকুক এটা আমরা সবসময় চাই।

'প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যতদিন জীবিত ও কর্মক্ষম আছেন, ততদিন পর্যন্ত তার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকবে' আওয়ামী লীগ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফের এমন বক্তব্য উল্লেখ করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, 'আজীবন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকতে পারুক, আমরাও খুশি হবো, কিন্তু জনগণের ভোটে ক্ষমতায় আসুন, জনগণকে নিয়ে আপনারা ক্ষমতায় আসুন, জনগণ ভোট দিক আপনাদেরকে, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আপনারা ক্ষমতায় আসুন, আমাদের কারও আপত্তি নেই।

তারেক রহমানের নাগরিকত্ব নিয়ে তিনি বলেন, আমার তো কিছু বলার দরকার নেই, ডিজিই তো সব বলে দিয়েছেন। আপনারা বারবার কেন এ বিষয়টি নিয়ে আসছেন আমি বুঝতে পারছি না। ইট ইজ এ ডেড ইস্যু। এটা একটা ডেড ইস্যু। এটা নিয়ে এখন আর কথা বলার কিছু নেই। সুতরাং এটা নিয়ে কথা বলে গণমাধ্যমের সময় নষ্ট করার প্রয়োজন আছে বলে আমার মনে হয় না।

দেশে এখন গণতন্ত্র নেই। আজকের এই সরকার বিনা ভোটের সরকার। মানুষ তাদের কাছে স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি চায়। বিচার বিভাগকে তারা সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করে দিয়েছে। মানুষ এখন কার কাছে যাবে, কোথায় যাবে? এই ফ্যাসিবাদী শক্তিকে ঐক্যবদ্ধভাবে পরাজিত করতে হবে, বলেন বিএনপির সাবেক এই প্রতিমন্ত্রী।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক দিলীপ কুমার বড়ুয়ার সভাপতিত্বে প্রতিবাদ সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ড. সুকোল বড়ুয়া, সাবেক মন্ত্রী গৌতম চক্রবর্তী, বিএনপির সহ-ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক বাবু দীপেন্দ্রনাথ, নির্বাহী কমিটির সদস্য তকদির হোসেন মো. জসিম, সুশীল বড়ুয়া প্রমুখ।

এসআই/এএল

 
.




আলোচিত সংবাদ