‘নতুন করে চক্রান্ত দেখছে আওয়ামী লীগ’

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৭ জুলাই ২০১৮ | ১ শ্রাবণ ১৪২৫

‘নতুন করে চক্রান্ত দেখছে আওয়ামী লীগ’

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক ৬:২৩ অপরাহ্ণ, মার্চ ১৯, ২০১৮

print
‘নতুন করে চক্রান্ত দেখছে আওয়ামী লীগ’

নির্বচান বানচালের জন্য দেশের বিরুদ্ধে নতুন করে গভীর চক্রান্ত শুরু হয়েছে, এটি আরও গভীর হবে বলে মনে করেন আওয়ামী লীগের নেতারা। সোমবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ের দলীয় কার্যালয়ে এক বর্ধিত সভায় আওয়ামী লীগ নেতারা এ ইঙ্গিত দেন। অধ্যাপক ড. জাফর ইকবালের উপর হামলার প্রতিবাদের ২০ মার্চ শহীদ মিনারে ১৪ দলের সমাবেশ সফল করতে এ সভার আয়োজন করে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ।

সভায় আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, চক্রান্ত শুরু হয়ে গেছে। প্রতিদিন প্রতি মুহূর্তে তাদের (বিএনপি) কথায় খেয়াল রাখবেন। আজকের পর থেকে আরও বেশি ষড়যন্ত্রে মেতে উঠবে তারা।

তিনি বলেন, নয় মাস বাকি নির্বাচনের। জনগণের রায় আমাদের পক্ষে নিতে হবে। তারা ওই নির্বাচন ভণ্ডুল করতে চক্রান্ত করছে। বিএনপির এই চক্রান্ত প্রতিহতে আওয়ামী লীগের জন্য জনগণের শক্তির বিকল্প নেই। জনগণের শক্তি প্রদর্শনের জন্য আমাদের ২০ মার্চের সমাবেশ ও গণজমায়েত। বড় সমাবেশ করে আমাদের দেখাতে হবে।

তিনি বলেন, বিএনপি-জামায়াতকে কোনোভাবেই ক্ষমতায় আসতে দেয়া যাবে না। আল্লাহ না করুক, তারা ক্ষমতায় এলে এই বাংলাদেশ অন্ধকার হয়ে যাবে। তবে, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বাংলাদেশ যেমন ছয় হাঁকিয়ে জয়ের বন্দরে নিয়ে গেছে বাংলাদেশকে, শেখ হাসিনাও আগামী নির্বাচনে লাস্ট ছয় মারবেন।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ বলেছেন, অধ্যাপক জাফর ইকবালের উপর যে হামলা হয়েছে, সাম্প্রদায়িক শক্তির এ হামলা নতুন নয়। একাত্তরেও তারা এটি করেছে। পচাত্তরেও করেছে। এখনও তাদের দোসর বিএনপি-জামায়াত অশুভ শক্তিকে সঙ্গে নিয়ে গুপ্তহত্যা ও গুপ্তহামলা চালিয়ে যাচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে, এখনও তাদের এই অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মাঝে তারা (হামলাকারী) একটু চুপ ছিল। এখন আবার শুরু করেছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে আর কখনো এই অশুভ শক্তি মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারবে না। বাংলাদেশের মানুষ মুক্তচিন্তার মানুষের উপর হামলা দেখতে চায় না।

‘কোনো অপরাধ না করে বিএনপি নেত্রী কারাগারে’ বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এমন বক্তব্যের জবাবে হানিফ বলেন, তাহলে কী আদালতের প্রতি আপনার আস্থা নেই। আদালত সকল তথ্য প্রমাণের উপর ভিত্তি করে এতিমের টাকা আত্মসাতের মামলায় রায় দিল। খালেদা জিয়া সেই রায়ে কারাভোগ করছেন, আর আপনারা বলেন তিনি নিরপরাধ! অবাক হই আপনাদের কথা শুনে। আপনাদের লজ্জা হওয়া উচিত।

তিনি বলেন, উগ্রবাদী সকল সংগঠনের পেছনে মদদ দিচ্ছেন ও কলকাঠি নাড়ছেন বিএনপি নেতা তারেক রহমান। তার কাজই হচ্ছে, দেশে অশান্তি তৈরি করা। হত্যা-খুনের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করা। দেশকে মধ্যম আয়ে উন্নীত করতে হলে মাদার অব কিলার খালেদা জিয়া এবং এই পলিটিক্যাল টেরোরিস্ট তারেক রহমানকে বাংলার মাটি থেকে উৎখাত করতে হবে। 

বর্ধিত সভায় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সাম্প্রদায়িক নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও প্রতিরোধের জন্যই এই ১৪ দল গঠন হয়েছে। আমরা নানা সময়ে এই সাম্প্রদায়িক শক্তির আক্রমণ দেখেছি, এখনও দেখছি। এগুলো প্রতিহতে এবং দেশকে নিয়ে সব চক্রান্ত-ষড়যন্ত্রের জবাবে আমাদের ইস্পাত কঠিন ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। বিশ্বের সেরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমাদের এক কাতারে দাঁড়াতে হবে।

আগামীকালের সমাবেশের মধ্য দিয়ে আমরা নিজেদের ঐক্য প্রদর্শন করবো- যোগ করেন খালিদ মাহমুদ।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসনাতের সভাপতিত্বে এতে আরও বক্তব্য দেন সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম ‍মুরাদ, সহ সভাপতি আবু আহমেদ মান্নাফি, যুগ্ম সম্পাদক কামাল চৌধুরী, প্রচার সম্পাদক আকতার হোসেন প্রমুখ। 

এসইউজে/এএল

 
.



আলোচিত সংবাদ