ছাত্রদল নেতা জাকিরের লাশের পাশে আপ্লুত ফখরুল-আব্বাস

ঢাকা, সোমবার, ২৫ জুন ২০১৮ | ১১ আষাঢ় ১৪২৫

ছাত্রদল নেতা জাকিরের লাশের পাশে আপ্লুত ফখরুল-আব্বাস

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক ৬:২৯ অপরাহ্ণ, মার্চ ১৩, ২০১৮

print
ছাত্রদল নেতা জাকিরের লাশের পাশে আপ্লুত ফখরুল-আব্বাস

ছাত্রদল ঢাকা মহানগর উত্তরের সহসভাপতি ও তেজগাঁও থানা ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জাকির হোসেন মিলনের আত্মার মাগফেরাত কামনা করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস।

মঙ্গলবার বাদ জোহর নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এই নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।

জানাজায় অংশ নেওয়ার আগে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আরেকটা নাম যোগ হলো শহীদের তালিকায়। যারা এই ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের অন্যায় অত্যাচার নির্যাতন নিপীড়নে আওয়াজ তুলে তাদের মধ্যে সে ছিল অন্যতম।’

এরপরই মির্জা ফখরুলে কণ্ঠ ভারী ওঠে। নিজেকে সামলে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে বধ্যভূমিতে পরিণত হয়েছে। সারাদেশ আজকে নির্যাতন, গুম খুনের শিকার হয়ে পড়েছে।’

‘আত্মত্যাগের পথ, সাহস এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার পথ। আল্লাহ তায়ালার কাছে প্রার্থানা জানাই এই দু:শাসন থেকে আমাদের মুক্তি দিন। মুক্তি দিন আমাদের সন্তানদের। মুক্তি দিন ভব্যিষৎ প্রজন্মের জন্য,’ যোগ করেন ফখরুল।

তিনি বলেন, ‘দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করার জন্য যারা জীবন দিচ্ছেন, প্রাণ দিচ্ছেন তাদের প্রতি আমাদের স্যালুট। তাদেরকে অভিবাদন। মিলনকে আমরা সকলেই স্যালুট করছি। তার এই শাহাদাৎ আমাদেরকে শক্তি ও সাহস যুগিয়েছে। আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধ করেছে।’

এর আগে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বক্তব্য দেন।

তিনি বলেন, ‘আজকে আমরা সহানুভূতি প্রকাশ করছি। যদিও এটা দিয়ে তার ও পরিবারের লাভ হবে না।’

এরপরই আব্বাসের কণ্ঠ ভারী হয়ে ওঠে। খানিকটা চুপ হয়ে যান তিনি। তারপর নিজেকে সামলে আবারও বক্তব্য শুরু করেন।

আবেগতাড়িত কণ্ঠে মির্জা আব্বাস বলেন, ‘তাজা একটি ছেলে। তরতাজা একজন তরুণ। সামনে নতুন পৃথিবী এমন একটি ছেলেকে এমনটিভাবে পিটিয়ে মেরে ফেলল। কী অপরাধ ছিল তার?’

‘দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে জেলে নিয়েছে। আমরা তার প্রতিবাদে করছিলাম প্রেস ক্লাবের সামনে। সেখান থেকে শকুনের মতো ছোঁ মেরে একটা ছেলেকে তুলে নিয়ে গেলে। তাকে আর পাওয়া গেল না। লাশ পাওয়া গেল হাসপাতালে,’ বলেন মির্জা আব্বাস।

ক্ষোভ প্রকাশ করে মির্জা আব্বাস বলেন, ‘আমরা কোন দেশে বসবাস করছি। ছোটবেলা বইয়ে পড়তাম আফ্রিকার অসভ্য কতগুলো দেশের কাহিনী। আমরা তো এখন সেই পর্যায়েও নেই।’

তিনি বলেন, ‘যখন খুশি তাকে ধরে নিয়ে যাবে, যখন খুশি তাকে মেরে ফেলবে। হাইকোর্টের নির্দেশ আছে সিভিল ড্রেসে কাউকে গ্রেফতার করা যাবে না। যাদের কাছে আমি আশ্রয় নেবো তারাই যদি আমাকে পিটিয়ে মেরে ফেলে, তাদের কাছে যদি বিচার না পাই আমরা কোথায় যাব?’

অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন, ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মামনুর রমিদ মামুন, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ প্রমুখ।

এমএইচ/এএসটি

 
.




আলোচিত সংবাদ