‘২২ ডিসি ও ২৯ এসপির নিয়োগ-বদলি আগাম নির্বাচনের আলামত কিনা’

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২১ জুন ২০১৮ | ৭ আষাঢ় ১৪২৫

‘২২ ডিসি ও ২৯ এসপির নিয়োগ-বদলি আগাম নির্বাচনের আলামত কিনা’

পরিবর্তন প্রতিবেদক ৬:৩০ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০১৮

print
‘২২ ডিসি ও ২৯ এসপির নিয়োগ-বদলি আগাম নির্বাচনের আলামত কিনা’

রোববার ২২ জেলায় নতুন জেলা প্রশাসকের (ডিসি) নিয়োগ-বদলি এবং ২৯ পুলিশ সুপারের বদলির প্রজ্ঞাপন জারি আগাম জাতীয় নির্বাচনের আলামত কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিএনপি।

রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সোমবার বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এমন প্রশ্ন তোলেন।

তিনি বলেন, ‘কয়েকদিন আগে সরকারের সহযোগী হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ বলেছেন- দেশে আগাম নির্বাচন হতে পারে। গতকাল (রোববার) ২২ জন ডিসি ও ২৯ জন এসপি নিয়োগ-বদলি করা হয়েছে। এটা আগাম নির্বাচনের আলামত কিনা সেটা নিয়ে মানুষের মধ্যে ধূম্রজাল তৈরি হয়েছে।’

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগকে উদ্দেশ করে রিজভী বলেন, ‘নিজেদের মতো করে যতোই নির্বাচনী মাঠ সাজান না কেন তাতে কোনো কাজ হবে না। কারণ বিএনপি ও বেগম জিয়া ছাড়া দেশে স্বচ্ছ, অবাধ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হবে না। জনগণই এ ধরনের নির্বাচন হতে দেবে না।’

ডিসি-এসপিদের নিয়োগ-বদলি নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এটা রুটিন ওয়ার্ক হলে এক কথা ছিল। নিয়োগ দিয়ে তাদেরকে বিভিন্ন জায়গায় পোস্টিং করা। মনে হচ্ছে- উনারা (আওয়ামী লীগ) মাঠ সাজাচ্ছে, আওয়ামীকরণের তারা মাঠ সাজাচ্ছে।’

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব বলেন, এই বছর তো নির্বাচনের বছর। এর মধ্যে এরশাদ (আগাম নির্বাচন নিয়ে) এরকম কথা বলছেন। তার মানে তারা কোন দিকে যাচ্ছেন তা নিয়ে মানুষের মধ্যে নানা প্রশ্ন, সংশয় দেখা দিয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘তাদের (আওয়ামী লীগ) কোনো অশুভ উদ্দেশ্য, নীলনকশা থাকতে পারে। তাই আমরা স্পষ্ট করে বলছি- বেগম খালেদা জিয়া ছাড়া কোনো নির্বাচন নয়।’

এসময় আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের কড়া সমালোচনা রিজভী বলেন, ‘আমি জানতে চাই- ওবায়দুল কাদের সাহেব কি আওয়ামী লীগের সম্পাদকের পাশাপাশি জোনাল সামরিক শাসকের দায়িত্ব পালন করছেন?’

‘কারণ গণতন্ত্রে তো এ ধরনের ভাষা নেই। এখন হাসিনাতন্ত্র চলছে বলেই গণতন্ত্রহীন ভাষা প্রয়োগ করতে পারছেন ওবায়দুল কাদের সাহেবরা’ যোগ করেন তিনি।

প্রসঙ্গত, রোববার এক কর্মসূচিতে ওবায়দুল কাদের বিএনপিকে উদ্দেশে করে বলেন, ‘আপনারা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি ঘরে বসে, অফিসে বসে পালন করেন, বাইরে কেন?’

বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, জনসমাবেশ, প্রতিবাদ সভা, মিছিল করা ইত্যাদি রাজনৈতিক দলের গণতান্ত্রিক অধিকার। বাংলাদেশের সংবিধানের ৩৭ ও ৩৯ অনুচ্ছেদে সমাবেশের অধিকার এবং চিন্তা ও মতপ্রকাশের অধিকারকে মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। সমাবেশের জন্য পুলিশি অনুমতি নিতে হয় এমন নজিরতো পৃথিবীর কোনো দেশে নেই।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির শিশু বিষয়ক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, সহ-দফতর সম্পাদক মুনির হোসেন, তাইফুল ইসলাম টিপু, নির্বাহী কমিটির সদস্য আমিনুল ইসলাম প্রমুখ।

এসআই/এমএসআই

 
.




আলোচিত সংবাদ