‘খালেদার মুক্তি ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলন চলবে’ (ভিডিও)

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ আগস্ট ২০১৮ | ৬ ভাদ্র ১৪২৫

‘খালেদার মুক্তি ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলন চলবে’ (ভিডিও)

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক ৮:০৩ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০১৮

দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে কারাগার থেকে মুক্ত করতে এবং নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলে ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি।

বুধবার রাজধানীতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে অনশন কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে বিএনপি নেতারা এমন ঘোষণা দেন।

বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত এই অনশন কর্মসূচি ঘিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কঠোর নিরাপত্তাবলয় গড়ে তুলেন। কিছুটা বাধা দেওয়ার চেষ্টা হলে সাময়িক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পরে মির্জা ফখরুলের আহ্বানে পরিবেশ শান্ত হয়। এর আগে মঙ্গলবার দুপুরে নয়া পল্টনে দলীয় কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি, সোমবার দুপুরে ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবসহ সারাদেশে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে দলটি।

দলের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে অনশন কর্মসূচির সমাপনী বক্তব্যে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘দেশনেত্রীর মুক্তির দাবিতে আমাদের অনশন বিকেল ৪টা পর্যন্ত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুরোধে আমাদেরকে দুপুর ১টায় কর্মসূচি শেষ করতে হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আজকের এই অনশন কর্মসূচি থেকে অবিলম্বে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি জানাচ্ছি।’

দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘এই সরকার বিএনপিকে বাইরে রেখে আবারো একতরফা নির্বাচন করতে চায়। খালেদা জিয়াকে বাইরে রেখে কোনো নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না।’

তিনি বলেন, ‘সরকার যে ষড়যন্ত্র করছে এটা দেশের জনগণ কখনো মেনে নিবে না। খালেদা জিয়াকে মুক্ত করেই আগামী নির্বাচনে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে। খালেদা জিয়া এবং আগামীতে নিরপেক্ষ সরকারের দাবি আদায়ের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, ‘এই সরকার একটি ভুয়া বানোয়াট মিথ্যা মামলায় দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে সাজা দিয়েছে। আমরা এই রায় মানি না। এটা জনগণের রায় নয়।  আমাদের নেত্রীকে দুর্বল করতে এই রায় দেয়া হয়েছে। আমরা শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মাধ্যমেই আমাদের নেত্রীকে মুক্ত করে আনবো।’

তিনি বলেন, ‘আন্দোলনের মাধ্যমে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি আদায় মানতে বাধ্য করা হবে। খালেদা জিয়াকে ছাড়া দেশে কোনো নির্বাচন হতে দেয়া হবে না।’

স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, ‘আজকে দেশের মানুষের স্বাধীনতা নেই। অথচ আমরা একাত্তর সালে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে দেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলাম। দেশের স্বাধীনতা আজকে হুমকির মুখে। আজকে ৪ দিন ধরে যারা খালেদা জিয়াকে কারাগারে ডিভিশন দেননি তাদের ব্যাপারে মামলা ও বিচারের প্রক্রিয়া নেয়ার দাবি জানাচ্ছি।

তিনি বলেন, ‘চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে বেগম জিয়ার মামলার রায়ের কপি পাওয়ার কথা থাকলেও তা মেলেনি। আসলে তাদের দীর্ঘসূত্রিতায় প্রমাণিত হয় তারা খালেদা জিয়াকে জেলে আটকে রাখতে চায়।’

বিচারকদেরকে ক্যালকুলেটর দেয়ার জন্য প্রধান বিচারপতিকে আহ্বান জানিয়ে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘২ কোটি টাকার জন্য যদি পাঁচ বছর জেল হয় তাহলে ৭০ হাজার কোটি টাকা যারা পাচার করেছেন তাদের কত বছর জেল হবে, সেটা মাথায় হিসাব করা যাবে না। এ জন্য বিচারকদেরকে ক্যালকুলেটর দিতে হবে। যাতে তারা হিসাব করতে পারেন।’

সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত এ কর্মসূচি পালন করা হয়। বিকাল ৪টা পর্যন্ত অনশন কর্মসূচি পালন করার কথা ছিল। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অনুরোধে নির্ধারিত সময়ের ৩ ঘণ্টা আগেই অনশন শেষ করেছে বিএনপি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ও বরেণ্য রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. এমাজউদ্দীন আহমদ অনশন কর্মসূচি ভাঙান।

প্রেসক্লাবের সামনে সড়কের একপাশে কদম ফোয়ারা মোড় থেকে সচিবালয় মোড় পর্যন্ত নেতা-কর্মী-সমর্থকরা এই কর্মসূচিতে অংশ নেন। ‘বুলেট দিয়ে আন্দোলন বন্ধ করা যাবে না’, ‘আমার মা জেলে কেনো? খুনি হাসিনা জবাব দে’, ‘মুক্তি মুক্তি মুক্তি চাই, খালেদা জিয়ার মুক্তি চাই।’ ‘খালেদা জিয়ার কিছু হলে জ্বলবে আগুন ঘরে ঘরে’ ইত্যাদি স্লোগানে মুখরিত করে তুলে দলের নেতাকর্মীরা।

কর্মসূচি শুরুর একপর্যায়ে ২০ দলীয় জোট, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, আইনজীবী ও কৃষিবিদসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবির প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করেন। মহিলা কর্মী-সমর্থকদের উপস্থিতিও ছিল উল্লেখযোগ্য।

দলের  সহসাংগঠনিক সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুলের সঞ্চালনা ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন-  জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) মহাসচিব মোস্তফা জামাল হায়দার, বিজেপির আন্দালিব রহমান পার্থ, এনপিপির চেয়ারম্যান ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, খেলাফত মজলিসের অধ্যক্ষ মাওলানা মোহাম্মদ ইসহাক, লেবার পার্টির একাংশের চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, অপর অংশের হামদুল্লাহ আল মেহেদী, এলডিপির শাহাদাৎ হোসেন সেলিম, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির খন্দকার লুৎফর রহমান, বাংলাদেশ ন্যাপের গোলাম মোস্তফা ভুইয়া, ইসলামিক পার্টির এম এ রকীব প্রমুখ।

বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে বক্তব্য দেন-  সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, হাবীব উন নবী খান সোহেল, সালাহউদ্দিন আহমেদ, বজলুল বাসিত আঞ্জু, কাজী আবুল বাশার,  সুলতানা আহম্মেদ, যুবদলের সাইফুল আলম নীরব, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, মোরতাজুল করিম বাদরু, স্বেচ্ছাসেবক দলের শফিউল বারী বাবু, ছাত্রদলের মামুনুর রশিদ মামুন প্রমুখ।

অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- নজরুল ইসলাম খান, বরকত উল্লাহ বুলু, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, আব্দুস সালাম, অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী, ফজলুল হক মিলন, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী, হাবিবুর রহমান হাবিব, মীর সরফত আলী সপু, মীর নেওয়াজ আলী নেওয়াজ, আমিনুল হক, এমরান সালেহ প্রিন্স, সাখাওয়াত হোসেন জীবন, অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ, শামীমুর রহমান শামীম, আফরোজা আব্বাস, হেলেন জেরিন খান, যুবদলের নূরুল ইসলাম নয়ন, আ ক ম মোজাম্মেল, রফিকুল আলম মজনু, শরিফ উদ্দিন জুয়েল, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাইফুল ইসলাম ফিরোজ, আক্তারুজ্জামান বাচ্চু, ছাত্রদলের আলমগীর হাসান সোহান, আসাদুজ্জামান আসাদ, আবু আতিক আল হাসান মিন্টু, এনামুল হক এনাম, জহিরুল ইসলাম বিপ্লব, মফিজুর রহমান আশিক, রাজীব আহসান চৌধুরী পাপ্পু, জিয়া পরিষদের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব আব্দুল্লাহিল মাসুদ প্রমুখ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপিপন্থী সাদা দলের শিক্ষকরাও অনশন কর্মসূচিতে অংশ নেন। অধ্যাপক ড. আখতার হোসেন খান এবং ড. মোর্শেদ হাসান খানের নেতৃত্বে ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম, লুৎফর রহমান, অধ্যাপক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান, অধ্যাপক ড. নূরুল আমিন, ড. আল মোজাদ্দেদী আলফেছানী, ইসরাফিল প্রামাণিক রতন, অধ্যাপক অনুপম সেন, অধ্যাপক দেবশীষ পাল, অধ্যাপক ড. নূরুল আমিন, অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী, অধ্যাপক আলামিন প্রমুখ অংশ নিয়ে অবিলম্বে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি করেন।

এদিকে, নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বিকাল ৪টা পর্যন্ত অনশন পালন করেন। তার সাথে কার্যালয়ে ছিলেন সহ-দফতর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু, বেলাল আহমেদ, আমিনুল ইসলাম প্রমুখ। বিকালে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন নয়াপল্টন কার্যালয়ে রিজভীর অনশন ভাঙান।

এমএইচ/এএল