বিএনপি থাকছে জিয়া পরিবারেই

ঢাকা, সোমবার, ২০ আগস্ট ২০১৮ | ৫ ভাদ্র ১৪২৫

বিএনপি থাকছে জিয়া পরিবারেই

নিজস্ব প্রতিবেদক ১১:৫৮ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০১৮

বিএনপি থাকছে জিয়া পরিবারেই

কারাদণ্ড নিয়ে শীর্ষনেতার জেলবাস এবং ভারপ্রাপ্তের দায়িত্বপ্রাপ্ত দ্বিতীয় শীর্ষ নেতার পরবাস নিয়ে বিএনপিতে দেখা দিয়েছে অস্তিত্বের প্রশ্ন, বাংলাদেশে বিএনপি ও জিয়া পরিবারের রাজনীতির ভবিষ্যৎ কী? কারণ, দ্বিতীয় শীর্ষনেতাও ইতোমধ্যে কারাদণ্ডপ্রাপ্ত এবং আরও কিছু মামলা ঝুলছে তার সামনে। জিয়া পরিবারে এই মুহূর্তে দলের হাল ধরার মতো দেখা যাচ্ছে না কাউকে।

দুর্নীতির মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার পাঁচ বছর সশ্রম কারাদণ্ড হওয়ার পর থেকে ভেসে বেড়াচ্ছে দলটির ভবিষ্যৎ প্রশ্ন। একই মামলায় দলনেত্রীর ছেলে এবং দলটির জ্যেষ্ঠ নেতা তারেক রহমানেরও কারাদণ্ড হয়েছে। খালেদা এবং দণ্ড নিয়ে প্রবাসে থাকলেও তারেকের বিরুদ্ধে চলছে আরও বেশ কয়েকটি মামলা। আবার এখন চলছে নির্বাচনের বছর। চলতি বছরের শেষদিকে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে জাতীয় নির্বাচন।

এদিকে, বিএনপি এবং তাদের জোটভুক্ত সমমনা দলগুলো গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ না নেওয়ায় এবার তাদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের নিয়মানুযায়ী, অন্যথায় বাতিল হয়ে যেতে পারে দলীয় নিবন্ধন। তবে বিএনপি এবং ২০ দলীয় জোটের নেতারা নির্বাচনের ব্যাপারে ইতিবাচক। তারা নির্বাচনে অংশ নিতে চায় কিছু দাবি পূরণের মাধ্যমে। আবার ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের নেতারাও বক্তৃতা-বিবৃতিতে বিএনপি জোটকে নির্বাচনে আমন্ত্রণ জানিয়েই কথা বলছেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনারও বলেছেন, ‘বিএনপিকে ছাড়া নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে না।’

কিন্তু বিএনপিসহ সবাই নির্বাচনমুখী থাকলেও শঙ্কা রয়েই যায় দলের শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে প্রচুর মামলা এবং কারাদণ্ডের কারণে। একই সঙ্গে তৃতীয় প্রজন্মের কেউ প্রকাশ্যে না আসায় হুমকির মুখে পড়েছে জিয়া পরিবারের বিএনপি নেতৃত্ব। জিয়া পরিবারের বাইরের কাউকে দলটির শীর্ষ নেতৃত্বে কেমন মানাবে, অন্যরা মানবে কি না, এসব নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

সংকটের সত্যতা স্বীকার করে ‘বিএনপি সময় অসময়’ গ্রন্থের লেখক এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান মারা যাওয়ার পর এবং এরশাদের সময়েও সংকটে পড়েছে। ওয়ান ইলেভেনের সময়েও একটা বড় সংকট তাদের গেছে। কিন্তু এবার পরিস্থিতি জটিল।

মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘দল তো আছে, কিন্তু সবচে বড় সমস্যা হচ্ছে দলের মধ্যে সংহতিটা থাকবে কি না। কারণ, এই দলের অনেক নেতা অতীতে দল ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন আবার এসেছেন, আবার চলেও যেতে পারেন। সরকার থেকে নানান টোপ তাদের দেওয়া হতে পারে। সুতরাং এই সময়টা বিএনপির জন্য খুবই নাজুক।’

কিন্তু বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দাবি করছেন, তাদের নেতা জেলে যাওয়ায় দলীয় নেতাকর্মীরা আরও বেশি ঐক্যবদ্ধ। তিনি বলেছেন, ‘মামলা বিএনপিকে বেশি ক্ষতি করতে পারবে না। কারাগারেও তাকে (খালেদা জিয়া) বেশি দিন রাখতে পারবে না। দল অটুট আছে অটুট থাকবে। মামলাকে একটা বড় হাতিয়ার হিসেবে নিয়েছে আওয়ামী লীগের সরকার। কিন্তু আমাদের বিশ্বাস আমাদের কর্মিবাহিনী, জনগণ এগুলো উপেক্ষা করে মোকাবেলা করে আমাদের যে রাজনৈতিক লক্ষ্য সে লক্ষ্যে তারা পৌঁছতে পারবে।’

অপরদিকে, বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদ বলছেন, ‘যেহেতু এই দলগুলো এক ব্যক্তিকেন্দ্রিক। বিএনপির মতো দলে সেকেন্ড ম্যান বলে কিছু নাই। যাকে তারা সেকেন্ড ম্যান বলছেন তিনিও তো দৃশ্যমান না। সুতরাং এটা আরেক ধরনের সংকট এবং এই সংকটটা আরও বড় মনে হবে যেহেতু নির্বাচনটা কাছে। সুতরাং নির্বাচনে এবার যদি বিএনপি খুব প্রস্তুতি নিয়ে মোকাবেলা করতে না পারে তাহলে তাদের অস্তিত্ব সংকটে পড়তে হবে।’

মহিউদ্দিন আহমদ মনে করেন, ‘যে কোনো কিছু ঘটে যেতে পারে। এটা সামাল দেওয়ার জন্য যে ব্যক্তিত্ব, কারিশমা এবং নেতৃত্ব দরকার সেটা কিন্তু দলের মধ্যে বেগম জিয়া ছাড়া আর কারও নাই। দলে যদি নেতৃত্ব না থাকে, দলের পাঁচজন নেতা যদি পাঁচ রকমের কথা বলে, যেটা ইতোমধ্যে আমরা আলামত দেখছি তাহলে তো এই দলটা নির্বাচন করার মতো সামর্থ্য অর্জন করবে না।’

এ সামর্থ্য ও সংকট নিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলামের জবাব, ‘নেতৃত্বের কোনো সংকট বিএনপিতে নেই। নতুন কিছু ভাবার কিছু নেই। আমরা এগুলো নিয়ে এতটুকু চিন্তিত নই, শঙ্কিত নই। এটা পার্ট অব পলিটিক্স। যতই ষড়যন্ত্র করা হোক তাদের (বিএনপিকে) রাজনীতি থেকে সরানো যাবে না। এটা সম্ভব না।’

বাংলাদেশের বাস্তবতা এবং বিএনপির রাজনৈতিক ইতিহাস বিশ্লেষণ করে তাই বলা যায়, প্রতিপক্ষ যতই চেষ্টা করুক, বিএনপি নেতাকর্মীরা চায় জিয়া পরিবারের অধীনতা। আবার বর্তমান শীর্ষদের জেল-মামলায় দলটির নতুন প্রজন্মের সমর্থকরা আশা করে আছে পরিবারটি থেকে বেরিয়ে আসুক আরেকজন ‘কারিশম্যাটিক লিডার।’

এমএসআই