সহানুভূতি আদায়ের কৌশলে বিএনপি

ঢাকা, রবিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ | ১৩ ফাল্গুন ১৪২৪

সহানুভূতি আদায়ের কৌশলে বিএনপি

নিজস্ব প্রতিবেদক ১০:৩৫ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১২, ২০১৮

print
সহানুভূতি আদায়ের কৌশলে বিএনপি

দুর্নীতি মামলায় দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সাজা হওয়ার পর অপেক্ষাকৃত নরম কর্মসূচির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের সহানুভূতি আদায়ের কৌশলে এগুচ্ছে বিএনপি। এ জন্য হরতাল-অবরোধের মতো ক্ষতিকর কর্মসূচি না দিয়ে অবস্থান, মানববন্ধনের মতো কর্মসূচি দিচ্ছে দলটি। এর মধ্য দিয়ে একদিকে যেমন কোণঠাসা হয়ে পড়া বিএনপি জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে চায়, অন্যদিকে এসব কর্মসূচি পালনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বাধা, হামলা-নির্যাতনের বিষয়টি প্রচার করে সহানুভূতিও আদায় করে নিতে চায়।  

এ কৌশলের অংশ হিসেবে বিএনপি নেতারা প্রচার করছে, বর্তমান সরকারের সময়ে শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারি, বিভিন্ন ব্যাংকের টাকা লোপাটসহ হাজার হাজার টাকার দুর্নীতি হয়েছে। কিন্তু এসব কিছুর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে খালেদা জিয়াকে মাত্র দুই কোটি টাকা আত্মসাতের মতো একটা ‘মিথ্যা’ মামলায় জেলে নেওয়া হয়েছে। রাজনীতি থেকে তাকে সরিয়ে দিতেই সরকার এমন কৌশল নিয়েছে বলে দাবি করে আসছে বিএনপি।

বিশ্লেষকরা বলছেন, গত বৃহস্পতিবার বহুল আলোচিত জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় দণ্ড পেয়ে খালেদা জিয়া কারারুদ্ধ হওয়ার পর মূলত ‘ঘোর সংকটে’ পড়ে গেছে বিএনপির মতো বৃহৎ দল। ফলে খুব কৌশলে পা বাড়াচ্ছে তারা। কোনো ধরনের আত্মঘাতী কর্মসূচি তো দূরের কথা মাঠে-ময়দানে সাধারণ রাজনৈতিক কর্মসূচিও দিচ্ছে না। কারণ, ইতোমধ্যেই রায়কে কেন্দ্র করে বিভিন্ন স্থানে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে শত শত নেতাকর্মীকে আটক হতে হয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে। এই মুহূর্তে বিএনপি চাইছে না মাঠে-ময়দানে কর্মসূচি দিয়ে তার নেতাকর্মীদের ঝুঁকির মুখে ফেলে দিতে। তাই খুব ঠাণ্ডা মাথায় দুঃসময় মোকাবেলা করতে চায় তারা।

বক্তৃতা-বিবৃতি এবং অপেক্ষাকৃত নরম কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দলকে সচল রেখে আগামী নির্বাচনের জন্য পূর্ণ প্রস্তুতি নিতে চায় তারা। একই সঙ্গে খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও অন্যায়ভাবে দণ্ড দিয়ে কারারুদ্ধ করা হয়েছে বলে ব্যাপকভিত্তিক প্রচার চালিয়ে খালেদার পক্ষে জনমত তৈরি করতে চায় বিএনপি। ইতোমধ্যে তারা সে কাজ শুরুও করে দিয়েছে। বিএনপি নেতারা বিশ্বাস করে, অন্যায় দণ্ড ও কারারুদ্ধ করার কারণে খালেদা জিয়া ও বিএনপিরই লাভ হয়েছে। তারা বলছে, এতে খালেদার জনপ্রিয়তা ও বিএনপির গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি পাবে। কারণ, জনগণের কাছে বিষয়গুলো দিনের আলোর মতো পরিষ্কার। এই দুঃসময়ে বিএনপি আগের চেয়ে ঐক্যবদ্ধ বলেও মনে করেন বিএনপি নেতারা।

গত শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ বলেছেন, খালেদা জিয়ার কারাগারে যাওয়ার বিষয়টি বিএনপির রাজনীতির জন্য টার্নিং পয়েন্ট। কারণ, এর প্রতিক্রিয়া হবে অত্যন্ত ব্যাপক ও ও গভীর। মওদুদ বলেন, এতদিন সরকার বলে আসছিল বিএনপি নেতারা নাকি হাজার হাজার কোটি টাকা দুর্নীতি করেছে। এখন আমরা কী দেখলাম, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মাত্র দুই কোটি টাকার মামলা দেওয়া হয়েছে। অথচ সেই টাকা রাষ্ট্রের টাকা নয় এবং সেই টাকা ব্যাংকে রয়েছে। ওই টাকার সুদ বেড়ে এখন ৬ কোটি টাকা হয়েছে।

একই দিন রাতে চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক শেষে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে বিএনপি এখন বেশি ঐক্যবদ্ধ। মিথ্যা মামলায় খালেদাকে সাজা দেওয়ায় দেশবাসী ধিক্কার দিয়েছে। সারা দেশ প্রতিবাদ জানিয়েছে। একইসঙ্গে তিনি বলেন, দেশে গণতন্ত্র এবং নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার প্রতিষ্ঠার জন্য আমাদের শান্তিপূর্ণভাবে সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হবে।

রোববার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) আয়োজিত এক চিকিৎসক সমাবেশে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, বিএনপির ওপর যত আঘাত করা হচ্ছে, ততই দলের জনপ্রিয়তা বাড়ছে। জনগণের কাছে আমাদের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ছে। খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তার করে সরকারই আমাদের জনপ্রিয়তা বাড়িয়ে দিয়েছে। 

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ চেয়েছিল, খালেদা জিয়ার মামলার রায়কে কেন্দ্র করে বিএনপির নেতাকর্মীরা গাড়ি ভাঙচুর করুক। এই সুযোগের আওয়ামী লীগ গাড়িতে আগুন দিয়ে মানুষ মারবে, আর দোষ চাপাবে বিএনপির ওপর। যেহেতু এই সাজাকে কেন্দ্র করে বিএনপি কোনো সহিংস আন্দলোনে যায়নি, তাই সরকারি দল হতাশ। আমাদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন সরকারের পছন্দ হয়নি। নজরুল ইসলাম খান আবেগের বশবর্তী হয়ে কোনো ষড়যন্ত্রে পা না দেওয়ার জন্য দলীয় নেতাকর্মীদের আহ্বান জানান।

দলের ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজউদ্দিন আহমেদ বলেন, ক্ষমতাসীনরা ভেবেছেন খঅলেদা জিয়াকে জেলে ঢুকালেই বিএনপি দুর্বল হয়ে যাবে। কিন্তু সে ধারণা ভুল। বরং সরকারের অন্যায় ও অবিচার মানুষ দেখছে। এতে খালেদা জিয়া ও বিএনপির জনপ্রিয়তা আরও বেড়েছে। খালেদা জিয়া রায়ের দিন আদালতে গিয়ে প্রমাণ করেছেন তিনি তার অবস্থানে দৃঢ় এবং জেল-জুলুমকে তিনি ভয় পান না।

খালেদার গ্রেপ্তারে দল কোনো সংকটে পড়েনি দাবি করে মেজর হাফিজ বলেন, এখন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানই দেবেন প্রয়োজনীয় নির্দেশনা। সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে আলাপ করেই তিনি লন্ডন থেকে নির্দেশনা দেবেন। দল সেটি পালন করবে।

 
.

আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad