খালেদার ডিভিশন পাওয়া না পাওয়া: আইন কী বলে

ঢাকা, রবিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ | ১৩ ফাল্গুন ১৪২৪

খালেদার ডিভিশন পাওয়া না পাওয়া: আইন কী বলে

আতিক রহমান পূর্ণিয়া, মাহমুদুল হাসান ও শাহাদৎ স্বপন ১০:২০ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১২, ২০১৮

print
খালেদার ডিভিশন পাওয়া না পাওয়া: আইন কী বলে

কারাগারে ডিভিশনের সুবিধা কে বা কারা পাবেন বা পাবেন না তা সুনির্দিষ্ট থাকলেও সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা সেই সুবিধা পাবেন কি না তা নিয়ে মতবিরোধ আছে। তবে জেলকোডে সাজাপ্রাপ্ত ও বিচারাধীন আসামিদের ডিভিশন নিয়ম আলাদা বলে সুনির্দিষ্ট করা নেই। আইনজীবীরা বলছেন, কেউ ডিভিশন পাওয়ার যোগ্যতাগুলো অর্জন করলেই তিনি সেই সুবিধা ভোগ করতে পারবেন।

বিএনপিপ্রধান খালেদা জিয়ার ডিভিশন পাওয়ার বিষয়ে কারা মহাপরিদর্শক সৈয়দ ইফতেখার উদ্দিন গতকাল রাতে সাংবাদিকদের বলেন, খালেদা জিয়াকে ডিভিশন দেওয়া হয়েছে। এর আগে দুপুরে বলেছিলেন, মিসেস জিয়া এখনো সাধারণ বন্দি হিসেবে আছেন। আদালত নির্দেশ দিলে তিনি ডিভিশন পাবেন। গতকাল দুপুর পর্যন্ত তিনি সাধারণ কয়েদিদের মতোই ছিলেন। পরে আদালত নির্দেশ দিলে খালেদা জিয়াকে ডিভিশন সুবিধা দেওয়া হয়।

জানা গেছে, জেলকোডের অধ্যায় ২৭, রুল ৯১০(১) অনুযায়ী খালেদা জিয়া ডিভিশন-১ বন্দির মর্যাদা পাবেন। এক্ষেত্রে তিনি পছন্দের খাবার, বিছানা, দৈনিক পত্রিকা, চেয়ার-টেবিল, ড্রেসিং টেবিল, পছন্দের চিকিৎসকের কাছে চিকিৎসার সুবিধা পাবেন।

এ ছাড়া বিএনপি চেয়ারপারসন প্রথম শ্রেণির একজন বন্দি হিসেবে ১৫ দিনের পরিবর্তে ৭ দিনে একবার চিঠি লেখার সুযোগ পাবেন।

খালেদা জিয়া একজন ডিভিশনপ্রাপ্ত বন্দি হিসেবে সকালে ৮৭ গ্রাম আটার রুটি ও ৮৭ গ্রাম ডাল-সবজি পাবেন। দুপুর ও রাতে ৪৯৫ গ্রাম সরু চালের ভাত, ২১৮ গ্রাম মাছ-মাংস এবং সারা দিনে প্রায় ১৪৫ গ্রাম ডাল পাবেন। এ ছাড়া তেল, লবণ, মরিচসহ সব মিলিয়ে তিনবেলা খাবার বাবদ একজন ডিভিশনপ্রাপ্ত বন্দির জন্য সরকারিভাবে বরাদ্দ হয় ১১৫ টাকা।

দুর্নীতির মামলায় দণ্ডিত হয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার পর থেকে বিএনপি নেতারা অভিযোগ করে আসছেন, কারাবিধি অনুসারে তাকে ডিভিশন বা রাজবন্দির মর্যাদা দেওয়া হচ্ছে না। রাখা হয়েছে সাধারণ কয়েদিদের মতো।

বিএনপি নেতা মওদুদ আহমদ গত শনিবার বিএনপি চেয়ারপারসনের সঙ্গে দেখা করার পর সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ২০০৬ সালের সংশোধিত জেলকোডে নির্দিষ্ট করে দেওয়া আছে কারা কারা অটোমেটিক্যালি ডিভিশন পাবে। অথচ উনাকে কোনো ডিভিশন দেওয়া হয়নি। উনি সাধারণ কয়েদি হিসেবে আছেন। তিনি আরও বলেন, ডিভিশন পাওয়ার জন্য কোনো আদালতের অর্ডার লাগে না। কারণ আইনের মধ্যেই আছে। এমন প্রেক্ষাপটে গতকাল খালেদা জিয়ার পক্ষে তার আইনজীবীদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত তাকে ডিভিশনপ্রাপ্ত বন্দি হিসেবে সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন। 

কারাগারে ডিভিশন কী 

কারাগারে ডিভিশন কী তা দেশের অধিকাংশ মানুষেরই অজানা। জেলকোড অনুসারে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে মর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের কারাগারে ডিভিশন প্রদান করা হয়। এছাড়া আদালতের নির্দেশেও কাউকে কাউকে ডিভিশন দেওয়া হয়। সাবেক উপ-কারা মহাপরিদর্শক মো. শামসুল হায়দার সিদ্দিকী বলেন, তিন শ্রেণির ডিভিশন দেওয়া হয়ে থাকে। ডিভিশন-১, ডিভিশন-২ এবং ডিভিশন-৩। এ ধরনের ডিভিশনপ্রাপ্তরা কী ধরনের সুবিধা পাবেন জানতে চাইলে সাবেক ডিআইজি প্রিজন্স হায়দার বলেন, বিধি অনুসারে প্রথম শ্রেণির ডিভিশনপ্রাপ্তদের প্রত্যেক বন্দির জন্য আলাদা রুম থাকে। খাট, টেবিল, চেয়ার, তোশক, বালিশ, তেল, চিরুনি, আয়না সবকিছুই থাকে। আর তার কাজকর্ম করে দেওয়ার জন্য আরেকজন বন্দিও দেওয়া হয়। ছেলে বন্দির ক্ষেত্রে সাহায্যকারী হিসেবে ছেলে আর মেয়ে বন্দির জন্য একজন মেয়ে থাকবেন।

তাছাড়া তিনি বইপত্র পাবেন এবং তিনটি দৈনিক পত্রিকা পাবেন। সাধারণ বন্দিদের চেয়ে ডিভিশনপ্রাপ্ত বন্দির খাওয়ার মানও ভালো থাকে বলে জানান তিনি। এ ধরনের সুবিধা কাদের ক্ষেত্রে দেওয়া হয় এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সাধারণত সামাজিক মানমর্যাদা অবস্থান বিবেচনায় ডিভিশন প্রদান করা হয়। শামসুল হায়দার চৌধুরী বলেন, ওয়ারেন্ট অব প্রেসিডেন্সে যেটি আছে, কনভিক্টেড বন্দিদের ক্ষেত্রে (সাজাপ্রাপ্ত বন্দি) আদালত ডিভিশন প্রদান করেন। কোনো কারণে আদালত সেটি না দিয়ে থাকলে, তখন তারা আবেদন করতে পারেন। কারা কর্তৃপক্ষ সে আবেদন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠাবে। সেখান থেকে সিদ্ধান্ত আসবে তিনি ডিভিশন পাবেন কি-না। খালেদা জিয়া সাবেক সেনাপ্রধানের স্ত্রী ছিলেন, পরবর্তীতে রাষ্ট্রপতির স্ত্রী ছিলেন, নিজে তিন-তিনবার প্রধানমন্ত্রী ছিলেন এবং একটি দলের চেয়ারপারসন বা প্রধান। সার্বিক বিবেচনায় উনার ডিভিশন পাওয়ার কথা এটা আইনের মধ্যেই আছে।

জেলকোডের ৬১৭ বিধিতে বলা আছে, যারা ভালো চরিত্রের অধিকারী ও অনভ্যাসগত অপরাধী; সামাজিক মর্যাদা, শিক্ষা এবং অভ্যাসের কারণে যাদের জীবন যাপনের ধরন উচ্চমানের এবং যারা নৃশংসতা, নৈতিক স্খলন এবং ব্যক্তিগত প্রতিহিংসামূলক অপরাধ বা বিস্ফোরক আগ্নেয়াস্ত্র সঙ্গে রাখা, সম্পত্তি সংক্রান্ত মারাত্মক অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত নন বা অন্য কাউকে এসব অপরাধ করতে প্ররোচিত বা উত্তেজিত করেনি তারা ডিভিশন-১ প্রাপ্তির যোগ্য হবেন।

এছাড়া বিধি ৬১৭ (২ )-এ বলা হয়েছে, নাগরিকত্ব নির্বিশেষে সামাজিক মর্যাদা, শিক্ষা এবং অভ্যাসের কারণে জীবনযাপনের ধরন উচ্চমানের বন্দিরা ডিভিশন-২ প্রাপ্তির যোগ্য হবেন। অভ্যাসগত বন্দিরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে এই শ্রেণির বহির্ভূত হবে না, সরকারের অনুমোদন বা পুনর্বিবেচনার শর্তে শ্রেণি বিভাজনকারী কর্তৃপক্ষকে বন্দির চরিত্র এবং প্রাক পরিচিতির ভিত্তিতে এ শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্তির জন্য ক্ষমতা দেওয়া হবে। যেসব বন্দি ডিভিশন ১ ও ২ এর অন্তর্ভুক্ত নন তারা তৃতীয়টির অন্তর্ভুক্ত হবেন যেখানে বলা হচ্ছে, আদালত কোনো বন্দিকে ডিভিশন ১ ও ডিভিশন ২ প্রদানের জন্য প্রাথমিক সুপারিশটি সরকারের অনুমোদন কিংবা পুনর্বিবেচনার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠাবেন এবং মন্ত্রণালয় সেটি অনুমোদন বা পুনর্বিবেচনা করবে। 

রায়ের কপি মেলেনি: আপিল করতে পারেননি খালেদা 

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় পাঁচ বছর কারাদণ্ডপ্রাপ্ত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আপিল আবেদন করা সম্ভব হয়নি। গতকাল রায়ের সার্টিফায়েড কপি না পাওয়ায় আবেদন করতে পারেননি তার আইনজীবীরা।

খালেদা জিয়ার আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া খোলা কাগজকে বলেন, ‘কপি পাওয়া যায়নি। তবে আশা করি, (সোমবার) আজ পাওয়া যাবে। আদালত প্রশাসন থেকেও তেমন আশ্বাস পেয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘সার্টিফায়েড কপি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই নথিপত্র ঠিক করে উচ্চ আদালতে জামিন আবেদন করা হবে।’

এর আগে সকালে খালেদা জিয়ার মামলার রায়ের সার্টিফায়েড কপি পাওয়ার জন্য আদালতের কাছে আবেদন করা হয়। কপি পাওয়ার ওপর উচ্চ আদালতে আপিল আবেদন নির্ভর করছে।

প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার পুরান ঢাকার বকশীবাজারে স্থাপিত বিশেষ জজ আদালতের বিচারক ড. আখতারুজ্জামান জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছর সশ্রম কারাদণ্ড দেন। রায় ঘোষণার পর তাকে পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারের একটি কক্ষে রাখা হয়।

এছাড়া মামলার অপর আসামি বিএনপি প্রধানের ছেলে তারেক রহমানসহ বাকি আসামিদের ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তাদের ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার টাকা জরিমানাও করা হয়েছে। 

খালেদাকে ডিভিশন দেওয়ার নির্দেশ 

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় কারাদণ্ড পাওয়া বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ডিভিশন দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। রোববার সকালে পুরনো ঢাকার বকশীবাজারের আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত অস্থায়ী বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক ড. আখতারুজ্জামান এ নির্দেশ দেন।

এর আগে খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা আদালতে ডিভিশনের আবেদন জানান। একই সঙ্গে আরেকটি আবেদন কারা কর্তৃপক্ষের কাছেও জমা দেওয়া হয়।

খালেদা জিয়ার আইনজীবী সানাউল্লা মিয়া খোলা কাগজকে বলেন, ‘আমরা ম্যাডামের ডিভিশন চেয়ে আবেদন করেছিলাম। বিচারক সেটি গ্রহণ করে কারাবিধি মেনে কর্তৃপক্ষকে তার (খালেদা জিয়া) ডিভিশন দিতে নির্দেশ দিয়েছেন।’ 

জেলখানা আরাম-আয়েশের জায়গা নয় : কাদের 

‘জেলখানা আরাম-আয়েশের জায়গা নয়। সব সুবিধা তো এখানে পাওয়া যাবে না,’ বলেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। গতকাল সচিবালয়ের সভাকক্ষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘একটা মানুষ থাকতে হলে যা কিছু প্রয়োজন তা তাকে (খালেদা জিয়া) কারাগারে দেওয়া হয়েছে। তার মর্যাদা অনেক ওপরে। তিনি একটি বড় দলের চেয়ারপারসন, তিনবারের প্রধানমন্ত্রী। তাকে অসম্মান বা সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে না।’

তিনি বলেন, ‘ওয়ান-ইলেভেনের পর যখন দুই নেত্রীকে মাইনাস করার পরিকল্পনা নিয়ে জেলে রাখা হয়েছিল তখন কিন্তু কাউকে ব্যক্তিগত সাহায্যকারী দেওয়া হয়নি।’

কাদের বলেন, ‘খালেদা জিয়ার জন্যও তখন কোনো ব্যক্তিগত সাহায্যকারী ছিল না। আমি যতটুকু জানি, বেগম জিয়াকে এখন একটা রুম মেরামত করে রাখা হয়েছে। যেটি আগে জেল সুপারের রুম ছিল। আমি রুমটা দেখেছি। কারণ, আগে বন্দি থাকাকালে ওই রুমেই আমি এবং তারেক রহমান কোর্টে যাওয়ার আগে একসঙ্গে বসেছিলাম। সেটিই ডেকোরেশন করে দেওয়া হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আক্ষরিক অর্থে যেটাকে ডিভিশন বলে, সেটা দেওয়ার বিষয়টি এখনো ঝুলে আছে হয়তো। কিন্তু, এখন যে মর্যাদায় উনি আছেন, তার জন্য যেভাবে খাবার-দাবারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে এবং তার খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে, তা যথেষ্ট। আমার মনে হয়, এসব বিষয়ে ডিভিশন প্রিজনরা যেভাবে সুযোগ পান তা তিনি পাচ্ছেন।’

মন্ত্রী বলেন, ‘জেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আমার আলাপ হয়েছে। বেগম জিয়ার মর্যাদা সম্পর্কে যতটুকু মনে হয়েছে, তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সেটা পাচ্ছেন। তাকে জিজ্ঞাসা করে তিনি যা চাচ্ছেন, সেটা তাকে দেওয়া হচ্ছে।’

খালেদা জিয়ার সঙ্গে ব্যক্তিগত সাহায্যকারী রাখার বিষয়ে আদালত অনুমোদন দিয়েছিলেন। এরপরেও তাকে থাকতে দেওয়া হচ্ছে না- বিএনপির এমন অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এটা জেল কর্তৃপক্ষের ব্যাপার। তবে ইতিহাসে বঙ্গবন্ধু, মওলানা ভাসানীকে কখনো আমি ব্যক্তিগত সাহায্যকারী নিতে দেখিনি। এটার সুযোগ নেই।’

বিএনপির দাবি, পরিত্যক্ত ভবনে খালেদা জিয়াকে রাখা হয়েছে। এজন্য তার কিছু হলে দায়িত্ব সরকারকে নিতে হবে- এমন প্রশ্নের জবাবে কাদের বলেন, ‘এই জেলখানা পরিত্যক্ত হয়েছে মাত্র কয়েক মাস আগে। আর তার থাকার জন্য যে রুমটি নির্ধারণ করা হয়েছে, তা ভালোভাবে বার্নিশ করা হয়েছে।’

নিজের জেল জীবনের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘আমরা কর্ণফুলীতেও ছিলাম, সেখানে দেখেছি ডিভিশন পেলে কতটুকু সুযোগ-সুবিধা পাওয়া যায়। সেই তুলনায় খালেদা জিয়া কম পাচ্ছেন না।’

এই মামলায় তিন আসামি পলাতক রয়েছেন, তাদের বিষয়ে কাদের বলেন, ‘এত সহজেই তাদের আনা সম্ভব হবে কি না তা নিয়ে ভাবতে হবে। তবে চেষ্টা চলছে। ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ সময় মতো নেওয়া হবে। এটা তো একটা প্রক্রিয়ার ব্যাপার, হঠাৎ করে চাইলেই সম্ভব নয় ফিরিয়ে আনা।’

সড়ক ভবনে সাংবাদিকদকে হেনস্থার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আমি সচিবকে বলে দিয়েছি- সাংবাদিকদের সঙ্গে যেন যথাযথ আচরণ করা হয়। আমি সব জানি, আমি অলরেডি নির্দেশ দিয়েছি তারা পরবর্তী সময়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।’

ভিআইপি লেন চেয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে যে চিঠি দেওয়া হয়েছে এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমার কাছে একটি চিঠি এসেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে। এটা মন্ত্রিপরিষদের উত্থাপিত কোনো বিষয় নয়। আমাদের যথাযথ কর্তৃপক্ষ বিষয়টি দেখবে।’

তিনি বলেন, ‘আর আমি মনে করি, ভিআইপি মানসিকতার সংস্কৃতি থেকে আমাদের বের হয়ে আসা দরকার। এদেশের মানুষের রাজনীতি আমরা করি, জনগণের কথা আগে ভাবতে হবে। আমরা আলাদা সুযোগ-সুবিধা নেওয়ার জন্য নয়।’

‘ওবায়দুল কাদেরের রাজনীতিতে ঝুঁকি রয়েছে’- এমন প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের বলেন, ‘জীবন-মৃত্যুর ভয় এত করি না। আল্লাহ আমাকে যেদিন মারবেন, সেদিন মরব। এটা নিয়ে ভয় করে লাভ নেই। দেখুন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কীভাবে ঝুঁকি নেন। কোনো সময় তাকে বিচলিত হতে দেখেছেন? তিনি যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় বিচলিত হন না।’ 

মর্যাদা বিবেচনা করে সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী 

কারাগারে খালেদা জিয়ার ডিভিশনের বিষয়ে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল সাংবাদিকদের বলেন, ‘আদালত থেকে আজ একটি দিকনির্দেশনা এসেছে, সেই দিকনির্দেশনা আমাদের কাছে আসুক, আমরা সেই অনুযায়ীই ব্যবস্থা নেব। তিনি (খালেদা) তিনবার প্রধানমন্ত্রী ছিলেন এবং তার সামাজিক মর্যাদা বিবেচনায় আমরা সমস্ত ব্যবস্থা নিয়েছি। তিনি একজন বিশেষ ব্যক্তি।

সেই অনুযায়ী আনঅফিশিয়াল যা ব্যবস্থা নেওয়ার নিয়েছি এবং অফিসিয়ালি আদালত থেকে একটা নির্দেশনা আসছে, এগুলো ইতোমধ্যে পূরণ হয়ে গেছে। যদি আরও নতুন কিছু করার নির্দেশ থাকে অবশ্যই সেটা করা হবে।’ 

সরকার কারও হুমকিতে ভয় পায় না: আইনমন্ত্রী 

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, কাউকে বাইরে রেখে নির্বাচন করার মতো ভীত নয় সরকার। তবে কেউ যদি আইনি কারণে বাইরে থাকে তখন আমাদের কিছু করার নেই। গতকাল রোববার রাজধানীর বিচার প্রশাসন ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে ‘২২তম জুডিশিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ট্রেনিং কোর্স ফর দ্য ডিস্ট্রিক্ট অ্যান্ড সেশন জাজেস’ কর্মশালার উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, দণ্ডপ্রাপ্তদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিয়ে দুটি রায় আছে। এখন সেই রায়ের আলোকে সুপ্রিম কোর্ট ও নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত নেবেন খালেদা জিয়া নির্বাচনে আসতে পারবেন কি না। আইনমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে সংবিধানে নির্বাচন করার একটা বিধান আছে। সেই অনুসারে কাউকে নির্বাচনের বাইরে রাখতে চাই না। সুপ্রিম কোর্টে এ সংক্রান্ত দুটি রায় আছে। দুটি রায় দুই রকম। তাই এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন সুপ্রিম কোর্ট আর নির্বাচন কমিশন। এখানে আমাদের কোনো ভূমিকা নেই।

আইনমন্ত্রী আরও বলেন, আইন আইনের মতো চলবে। এসব ব্যাপারে কোনো হুমকি-ধামকিতে আইনের কোনো ব্যত্যয় ঘটবে না। তিনি বলেন, আইন অনুযায়ী খালেদা জিয়ার সাজা হয়েছে। কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। সকলেই আইনের চোখে সমান।  তিনি বলেন, রায় নিয়ে সরকার কারও হুমকি-ধামকিতে ভয় পায় না।

আইনমন্ত্রী আরও বলেন, খালেদা জিয়া নির্বাচনে যেতে পারবেন কি পারবেন না, এ বিষয়ে উচ্চ আদালতের দুটি রায় আছে। রায় অনুয়ায়ী এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন সুপ্রিম কোর্ট ও নির্বাচন কমিশন।

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আইন সম্পূর্ণ স্বাধীন। আইন আইনের মতো চলবে। অনর্থক হুমকি-ধামকি দিয়ে সরকারকে আইনবিরোধী কিছু করার চাপ দিয়ে কোনো লাভ হবে না। আনিসুল হক বলেন, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় আদালত খালেদা জিয়াকে সাজা দিয়েছেন। এখন নিয়ম অনুযায়ী তিনি আপিল করবেন। আপিল গ্রহণের পর তিনি জামিন চাইলে আবেদন করতে পারেন। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন আদালত। সেখানে সরকারের তো কিছু করার নেই।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন আইন বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু সালেহ শেখ মোহাম্মদ জহুরুল হক ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের পরিচালক বিচারপতি মুসা খালেদ প্রমুখ।

 
.

আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad