বাংলা নববর্ষের আদি, বিবর্তন ও বর্তমান

ঢাকা, রবিবার, ২৫ জুন ২০১৭ | ১১ আষাঢ় ১৪২৪

বাংলা নববর্ষের আদি, বিবর্তন ও বর্তমান

পরিবর্তন প্রতিবেদক ৩:৫১ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১০, ২০১৬

print
বাংলা নববর্ষের আদি, বিবর্তন ও বর্তমান
বাঙালির জীবনে বাংলা নববর্ষের রয়েছে একটি বিশেষ জায়গা। এই বর্ষবরণের উৎসব-উদযাপনেই জাত-পাত-ধর্মের ঊর্ধ্বে বাঙালির চিরায়ত অসাম্প্রদায়িক সংস্কৃতিপ্রধান চরিত্রটি সবচেয়ে ভালোভাবে ফুটে ওঠে। বাংলা সালের প্রথম দিন পহেলা বৈশাখকে নববর্ষ হিসেবে পালন করে বাঙালিরা। বাঙালিদের জন্য এটি সর্বজনীন প্রাণের উৎসব। 

বাঙালির জীবনে বাংলা নববর্ষের রয়েছে একটি বিশেষ জায়গা। এই বর্ষবরণের উৎসব-উদযাপনেই জাত-পাত-ধর্মের ঊর্ধ্বে বাঙালির চিরায়ত অসাম্প্রদায়িক সংস্কৃতিপ্রধান চরিত্রটি সবচেয়ে ভালোভাবে ফুটে ওঠে। বাংলা সালের প্রথম দিন পহেলা বৈশাখকে নববর্ষ হিসেবে পালন করে বাঙালিরা। বাঙালিদের জন্য এটি সর্বজনীন প্রাণের উৎসব।

বাংলাদেশ এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা বাংলা ভাষাভাষী ও মননের মানুষ দিনটিকে বিশেষ উৎসবের সাথে পালন করে থাকে। ফেলে আসা বছরের সব গ্লানি ভুলে নতুন বছরকে বরণ করেন। কামনা করেন নতুন বছর যেন সুখ ও সমৃদ্ধির হয়। প্রাচীনকাল থেকেই পালিত হয়ে আসা সৌর বছরের প্রথম দিন বঙ্গ, ত্রিপুরা, মনিপুর, উড়িষ্যা, আসাম, নেপাল, কেরলা এবং পাঞ্জাবে অনেক আগে থেকেই পালিত হয়ে আসছে। সে সময় এটি ঋতুধর্মী উৎসব হিসেবেই পালিত হত। কৃষিনির্ভর সে যুগে বাংলার মানুষকে নির্ভর করতে হতো ঋতু বা প্রকৃতির উপরই।

গ্রেগরীয় বছর হিসেবে ১৪ই এপ্রিল পহেলা বৈশাখ পালন করা হয়। সব পঞ্জিকাতেই এ বিষয়ে মিল দেখা যায়। তবে খ্রিস্টীয় কিংবা হিজরী সালের সাথে বাংলা দিনপঞ্জীর হিসাবে পার্থক্য আছে। যেমন খ্রিস্টীয় সন চলে ঘড়ির হিসাবে, এর দিন শুরু হয় মধ্যরাতে। আবার হিজরী সন চলে চাঁদের হিসাবে যা সন্ধ্যায় ওঠে। আর বাংলা সন শুরু হয় ভোরে, সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে।

তবে বাংলা সনের প্রবর্তক বাঙালিরা নয়, খাজনা আদায়ের স্বার্থে মোঘলরা এই পঞ্জিকার প্রবর্তন করেন। ঐতিহাসিকদের মতে, মুঘলরা ভারতবর্ষে শাসন শুরুর পর খাজনা আদায়ের জন্য হিজরি পঞ্জিকা অনুসরণ করত। তবে হিজরি সন চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল হওয়ায়, ফসল ফলানোর সময়ের সাথে মিলত না। ফলে কৃষকদের অসময়ে খাজনা পরিশোধ করা কঠিন হতো। সমস্যাটি মুঘল সম্রাট আকবরের নজরে আসায় খাজনা আদায় সহজ ও সুন্দর করার জন্য উদ্যোগ নেন। তার নির্দেশেই মূলত বাংলা সনের প্রবর্তন হয়। আরবি হিজরি সন ও সৌর সনের ওপর ভিত্তি করে সেসময়ের বাংলার বিখ্যাত জ্যোতির্বিদ ও চিন্তাবিদ ফতেহউল্লাহ সিরাজি নতুন বাংলা সনের নিয়ম-কানুন ঠিক করেন। যা ১৫৮৪ খ্রিস্টাব্দের ১০ই মার্চ বা ১১ই মার্চ থেকে গণনা শুরু হয়। প্রথমে এটি ফসলি সন হিসেবে পরিচিতি পেলেও পরে বাংলা বর্ষ বা বঙ্গাব্দ নামে পরিচিতি পায়।

লেখকদের উন্মুক্ত প্লাটফর্ম হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে মুক্তকথা বিভাগটি। পরিবর্তনের সম্পাদকীয় নীতি এ লেখাগুলোতে সরাসরি প্রতিফলিত হয় না।
print
 

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

আলোচিত সংবাদ