বার্ন ইউনিট আছে, ডাক্তার নেই

ঢাকা, শনিবার, ১৯ আগস্ট ২০১৭ | ৪ ভাদ্র ১৪২৪

বার্ন ইউনিট আছে, ডাক্তার নেই

পরিবর্তন প্রতিবেদক ৩:০৫ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১০, ২০১৬

print
বার্ন ইউনিট আছে, ডাক্তার নেই
মুগদা জেনারেল হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে গত দুইমাস ধরে কোনো চিকিৎসক নেই। ফলে বার্ন ইউনিটের কার্যক্রম থমকে আছে। মাঝে মাঝে দু’একটা রোগী এলে সার্জারি বিভাগের চিকিৎসরা পরিস্থিতি সামাল দেন। হাসপাতাল পরিচালক জানিয়েছেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে রিকুইজিশন দেওয়া হয়েছে, তবে এখনো কোনো চিকিৎসক পাওয়া যায়নি।

মুগদা জেনারেল হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে গত দুইমাস ধরে কোনো চিকিৎসক নেই। ফলে বার্ন ইউনিটের কার্যক্রম থমকে আছে। মাঝে মাঝে দু’একটা রোগী এলে সার্জারি বিভাগের চিকিৎসরা পরিস্থিতি সামাল দেন। হাসপাতাল পরিচালক জানিয়েছেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে রিকুইজিশন দেওয়া হয়েছে, তবে এখনো কোনো চিকিৎসক পাওয়া যায়নি।

বন্ধুদের সঙ্গে খেলার এক পর্যায়ে আগুনে হাত ঝলসে ফেলে খিলগাঁওয়ের বাসিন্দা আনোয়ার হোসেনের ৫ বছরের ছেলে। তাৎক্ষণিক মুগদা হাসপাতালে ছেলেকে নিয়ে গেলে বলা হয় বার্ন ইউনিটে কোনো চিকিৎসক নেই। রোগী দেখবেন সার্জারির ডাক্তার।

আনোয়ার পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘সার্জারি ডাক্তারের কথা শুনে রিস্ক নিতে চাইনি। যদি খারাপ কিছু ঘটে। তাই দেরি না করেই ছেলেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাই।’

চিকিৎসক নাই তাহলে বার্ন ইউনিটের দরকার কী?— আক্ষেপ করে প্রশ্ন তোলেন আনোয়ার হোসেন।

শুধু আনোয়ার নন, আরো কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে একই চিত্র ফুটে উঠেছে মুগদা জেনারেল হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের।

বাসাবোর বাসিন্দা নাসরিন জাহান। দুই সন্তান ও স্বামীকে নিয়ে সুখের সংসার। পেশায় গৃহিনী এই মাকে প্রায় বাচ্চাদের আবদার পূরণ করতে গিয়ে বিশেষ রান্নার আয়োজন করতে হয়। কিন্তু মার্চের শেষ দিকে ঘটে বিপত্তি। চুলা বন্ধ করতে গিয়ে গরম পানি পড়ে তার হাতে। ঝলসে যায় দুই হাতের কনুই পর্যন্ত। কিন্তু তাতেও বিচলিত হয়নি তার পরিবার। কেননা পাশেই রয়েছে দেশ সেরা মুগদা সরকারি হাসপাতাল।

কিন্তু হাসপাতালের জরুরি বিভাগে এসেই ধাক্কা খেলেন নাসরিন। এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘এত ঢাকঢোল পিটিয়ে এত বড় হাসপাতাল সরকার তৈরি করেছে। এলাকাবাসীকে স্বাস্থ্যসেবা হাতের মুঠোয় দিবে বলে ঘোষণাও দিয়েছিল। অথচ ডাক্তার নেই।’

তার দাবি উপরের মহলকে বিষয়টি ঠিকমত জানানো হয়নি। তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি না, সরকার এত বড় হাসপাতালে ডাক্তার দেবে না।’

মুগদা হাসপাতালে কোনো বার্ন চিকিৎসক নেই বিষয়টি জানতে পেরে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন বার্ন বিশেষজ্ঞ সামন্ত লাল সেন। তিনি বলেন, ‘এটা সত্য যে দেশে মাত্র কয়েকজন বার্ন চিকিৎসক আছেন। তারপরও মুগদাতে অন্তত একজন বার্ন চিকিৎসক থাকা উচিৎ ছিল।’

হাসপাতালের পরিচালক আজিজুন্নাহার বলেন, ‘বার্ন ইউনিটে কোনো চিকিৎসক নেই। আমরা তো সার্জারির চিকিৎসক দিয়ে আপাতত চালিয়ে নিচ্ছি। চিকিৎসক চেয়ে রিকুইজিশন পাঠানো হয়েছে। আশা করি খুব দ্রুতই সমস্যার সমাধান হবে।’

এ বিষয়ে বার বার যোগাযোগ করেও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অধিদপ্তরের প্রশাসন পরিচালক ডা. এহতেশামুল হক চৌধুরীকে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি ধরেননি। পরে স্বাস্থ্য সচিব সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলামকেও ফোন দিলে তিনিও রিসিভ করেননি।

২০১৩ সালের ১৯ জুলাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাজধানীর মুগদা এলাকার এই সরকারি হাসপাতালের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। হাসপাতালটি ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট। হাসপাতালের কাজ শুরু হয়েছিল ২০০৬ সালে। ১১০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৯ দশমিক ৫২ একর জমির ওপর এই হাসপাতালটি অবস্থিত।

এসপি/আরআর/একে

 

print
 
nilsagor ad

আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad