বৈশাখ বরণে প্রস্তুত উত্তরাঞ্চল

ঢাকা, সোমবার, ২৬ জুন ২০১৭ | ১২ আষাঢ় ১৪২৪

বৈশাখ বরণে প্রস্তুত উত্তরাঞ্চল

পরিবর্তন প্রতিবেদক ২:৫১ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১০, ২০১৬

print
বৈশাখ বরণে প্রস্তুত উত্তরাঞ্চল
পয়লা বৈশাখ আসতে আর মাত্র কয়েক দিন বাকি। বৈশাখ বরণকে উৎসবে পরিণত করতে জোর প্রস্ততি চলছে উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায়। রাজশাহী ও রংপুর বিভাগজুড়ে হচ্ছে নানান আয়োজন। কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে বিভিন্ন সংগঠন রাত-দিন পরিশ্রম চালিয়ে যাচ্ছে বৈশাখী উৎসব পালনের জন্য। বানাচ্ছে নানান ধরনের প্রতিকৃতি। কুমাররা বিভিন্ন ধরনের পুতুলে এখন রং মাখানোয় ব্যস্ত। কাঠমিস্ত্রীরা ব্যস্ত সময় পার করছেন কাঠের ঢেঁকিসহ নানান ধরনের খেলনা বানাতে, মেলায় বিক্রির জন্য। সব মিলিয়ে বৈশাখকে ঘিরে সাজ সাজ রব সবখানে।

পয়লা বৈশাখ আসতে আর মাত্র কয়েক দিন বাকি। বৈশাখ বরণকে উৎসবে পরিণত করতে জোর প্রস্ততি চলছে উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায়। রাজশাহী ও রংপুর বিভাগজুড়ে হচ্ছে নানান আয়োজন। কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে বিভিন্ন সংগঠন রাত-দিন পরিশ্রম চালিয়ে যাচ্ছে বৈশাখী উৎসব পালনের জন্য। বানাচ্ছে নানান ধরনের প্রতিকৃতি। কুমাররা বিভিন্ন ধরনের পুতুলে এখন রং মাখানোয় ব্যস্ত। কাঠমিস্ত্রীরা ব্যস্ত সময় পার করছেন কাঠের ঢেঁকিসহ নানান ধরনের খেলনা বানাতে, মেলায় বিক্রির জন্য। সব মিলিয়ে বৈশাখকে ঘিরে সাজ সাজ রব সবখানে। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শহর কিংবা গ্রামে এক থেকে দেড় দশক আগেও বৈশাখ পালন হতো অনেকটাই নীরবে। এখন চিত্র ভিন্ন। রীতিমত বছরের অন্যান্য উৎসবের মতো করেই বৈশাখ পালন করা হয়। সর্বস্তরের মানুষ এই উৎসবকে ভিন্ন মাত্রা দেওয়ার জন্য নতুন পোশাক কেনা থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরনের খাবার বাড়িতে বানিয়ে থাকেন। ভোর থেকেই বিভিন্ন বয়সের মানুষ ঘর ছেড়ে বেরিয়ে আসে উৎসবে নতুন মাত্রা দেবার জন্য। আর দুপুর গড়িয়ে বিকেল হলেই বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে সপরিবারে বেড়াতে যাওয়া এক ধরনের নিয়মে পরিণত হয়েছে।

ইতোমধ্যে এ অঞ্চলের গ্রামের হাট-বাজার থেকে শুরু করে শহরের মার্কেটগুলোতে থরে থরে টানানো রয়েছে বৈশাখী কাপড়। ক্রেতাদেরও ভিড় চোখে পড়ার মতো। 

রাজশাহী ও রংপুর অঞ্চলে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বর্ষবরণকে ঘিরে বৈশাখী শিশু আনন্দমেলা, লোক সংগীত প্রতিযোগিতাসহ নানান অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। বিভিন্ন বিনোদন কেন্দ্রগুলোও প্রস্ততি নিয়েছে দর্শনার্থীরা উৎসবে যেন কোনো ধরনের সমস্যায় না পড়েন। বিশেষ করে এ অঞ্চলের দিনাজপুরের স্বপ্নপুরি, রংপুরের ভিন্নজগৎ, সি বিচ হিসেবে খ্যাত সিরাজগঞ্জ শহরের যমুনা নদীর পাড়, যমুনা সেতু ও পার্ক এলাকা, রাজশাহীর শহীদ জিয়া শিশু পার্ক, শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামান কেন্দ্রীয় উদ্যান ও চিড়িয়াখানা, পদ্মা নদীর পাড়ের বিভিন্ন রেস্তোরাঁ, কুড়িগ্রামের ধরলা ব্রিজ এলাকা, লালমনিরহাটের তিস্তা ব্যারেজ, রংপুরের তিস্তা সেতু এলাকায় বিনোদন পিপাসুদের ভিড় জমবে।

রাজশাহী অঞ্চলে বৈশাখী উৎসবের ঐতিহ্য হিসেবে মেলা, সকাল থেকে বিভিন্ন সংগঠনের র‌্যালি, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, হালখাতা হয়ে থাকে। তবে ভিন্ন মাত্রা রয়েছে রংপুর অঞ্চলে। বৈশাখী মেলার পাশাপাশি গ্রামীণ ঐতিহ্য লাঠি খেলা, রান্নার ক্ষেত্রে সিঁদল রান্না আয়োজন করা হবে।

রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রংপুর, সিরাজগঞ্জ এলাকার ব্যবসায়ীরা বলছেন, এবারের বৈশাখে বেচাবিক্রি ভালোই হচ্ছে। রঙ ও কাপড়ের বুননের উপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন ক্রেতারা।
তবে অন্যান্য সময়ের তুলনায় দাম কিছুটা বেশি। বৈশাখের সাজে কাঁচের চুড়ির একটি বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। কসমেটিকসের দোকানগুলোতে চুড়ি বিক্রি হচ্ছে। তাদের সংগ্রহে আছে নানা রকম পুঁতি ও মুক্তার মালা। এই সময় সাধারণত মাটি ও ধাতব গয়না মেয়েরা বেশি কিনছেন বলে জানান ব্যবসায়ীরা।

রাজশাহীর আরডি মার্কেটের কাপড় ব্যাবসায়ী আব্দুল লাতিফ জানালেন, বৈশাখী পোশাক হিসেবে শিশুদের পোশাক বেশি বিক্রি হচ্ছে। বড়দের কেনার ক্রেতা কিছুটা কম। তবে দু’একদিনের মধ্যে সব বয়সের ক্রেতার ভিড় বাড়বে বলে তিনি জানান।

নববর্ষের অন্যতম আকর্ষণ পান্তা-ইলিশ। সকালে পান্তা-ইলিশ ছাড়া যেন বর্ষবরণে পূর্ণতাই আসে না। উত্তরাঞ্চলের মহানগরী ও নগরীর বিভিন্ন রেঁস্তোরায় এবং অনেকের বাড়িতে পান্তা- ইলিশের আয়োজন করা হচ্ছে। এ অঞ্চলের বাজারে এবারে ইলিশের দাম উঠেছে প্রকারভেদে ১ হাজার ২০০ টাকা থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকা কেজি পর্যন্ত। ব্যবসায়ীরা বলছেন দাম আরো বাড়বে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। 

রংপুর সিটি বাজারের মাছ ব্যবসায়ী হযরত আলী জানান, এবার ইলিশ মাছের দাম তুলনামুলকভাবে বেশি। ৫শ গ্রামের ওজনের ইলিশ ১ হাজার থেকে ১২০০ টাকা ও ৯’শ গ্রামের ওজনের ইলিশ দেড় হাজার থেকে ২ হাজার টাকা কেজি পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। বৈশাখের আগের দাম আরো বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে তিনি জানান।

রাজশাহীর পবা উপজেলার বসন্তপুর এলাকার কারুশিল্পী সুশান্ত কুমার পাল জানান, ঢাকাসহ বিভিন্ন মেলায় সরবরাহের জন্য শখের হাঁড়িসহ মাটির বিভিন্ন ধরনের খেলনা তৈরি ও রং করার কাজ শেষের পথে। দুয়েকদিনের মধ্যে ঢাকায় মালামাল নিয়ে যাওয়া হবে। এবার মেলার জন্য তৈরি করা হয়েছে শখের হাঁড়ি, সাজি, পঞ্চসাজি, চুকোই, চারটার সেট, সরা। এগুলোর মূল্য ১০ থেকে ৬০০ টাকা পর্যন্ত।

বিএইচ/বিএইচ/এসজে

 

print
 

আলোচিত সংবাদ