কলকাতায় আটকেপড়া কিশোর পাকিস্তানি না বাংলাদেশি?

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ নভেম্বর ২০১৭ | ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৪

কলকাতায় আটকেপড়া কিশোর পাকিস্তানি না বাংলাদেশি?

পরিবর্তন প্রতিবেদক ২:৪৯ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১০, ২০১৬

print
কলকাতায় আটকেপড়া কিশোর পাকিস্তানি না বাংলাদেশি?
১৫ বছরের এক কিশোর। ভারতের কলকাতার একটি আশ্রয়কেন্দ্রে মানবেতর জীবনযাপন করছে সে। নাম রমজান। নিজ দেশে ফিরতে চাইলেও কূটনীতির কূটচালে সেই স্বপ্ন বিলীন হয়ে যাচ্ছে তার। রমজান বাংলাদেশ না পাকিস্তানের নাগরিক সেটা নিশ্চিত না হওয়ায় এ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে।
.

১৫ বছরের এক কিশোর। ভারতের কলকাতার একটি আশ্রয়কেন্দ্রে মানবেতর জীবনযাপন করছে সে। নাম রমজান। নিজ দেশে ফিরতে চাইলেও কূটনীতির কূটচালে সেই স্বপ্ন বিলীন হয়ে যাচ্ছে তার। রমজান বাংলাদেশ না পাকিস্তানের নাগরিক সেটা নিশ্চিত না হওয়ায় এ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে।

রোববার টাইমস অব ইন্ডিয়ার খবরে বলা হয়েছে, বাবার সঙ্গেই করাচি থেকে বাংলাদেশে এসেছিল রমজান। তখন তার বয়স ছিল ১০। বাংলাদেশে বাবা দ্বিতীয় বিয়ে করার পর সৎমা তার ওপর নির্মম নির্যাতন চালাত। তাই ২০১১ সালে নিজের অজান্তেই সীমান্ত পাড়ি দিয়ে কলকাতায় ঢুকে পড়ে রমজান।

খবরে বলা হয়, পরিবারটি বাংলাদেশি হলেও তারা পাকিস্তানে স্থায়ীভাবে বসবাস করে আসছে। ২০১৩ সালের ২২ সেপ্টেম্বর ভুপালের রেলস্টেশনে তাকে পাওয়া যায়। পরে স্থানীয় শিশু সদনকেন্দ্র চাইল্ডলাইনে পাঠানো হয় রমজানকে।

রমজানের নিয়ে প্রতিবেদন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর ভুপালের ১৯ বছর বয়সি শিক্ষার্থী হামজা বাসিত তাকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর জন্য বেশ কিছু পদক্ষেপ নেন। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, এনজিও ও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগাযোগ করেন তিনি। রমজানের মা করাচিতে বাস করেন এমন তথ্যও পেয়ে যান তিনি। রমজানের সঙ্গে তার মায়ের টেলিফোনে কথোপকথনেরও ব্যবস্থা করেন বাসিত।

খবরে বলা হয়, রমজানকে পাকিস্তানে ফেরত পাঠানোর ব্যপারে দুই দেশের (ভারত ও পাকিস্তান) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বেশ ইতিবাচক মনোভাবও দেখিয়েছিল। কিন্তু রমজান যে পাকিস্তানেরই নাগরিক সেই বিষয়ে পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ না থাকায় তার করাচি যাওয়ার প্রক্রিয়া থেমে যায়।

চাইলন্ডনাইনের পরিচালক অর্চনা সাহাই বলেন, ‘তাকে পাকিস্তানে ফেরত পাঠাতে আমরা খুব চেষ্টা করেছি। কিন্তু এ ব্যাপারে কোনো নথিই আমরা পাইনি। তাই তার ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া থেমে যায়। তবে তার মা আমাদের উপদেশ দিয়েছিলেন, তারা যদি রমজানকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠাতে পারে, তাহলে সেখানে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করা বেশ সহজ হবে। তাই আমরা তাকে ভুপাল থেকে কলকাতায় পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি, যাতে সেখানে থেকে সে বাংলাদেশে যেতে পারে।’

বৃহস্পতিবার কলকাতায় পৌঁছানোর পর টাইমস অব ইন্ডিয়ার কাছে রমজানের অভিব্যক্তি, ‘আমি আমার বাবার কাছে যেতে চাই না। আমি বাংলাদেশে যাচ্ছি যাতে আমার মায়ের সঙ্গে দেখা করা সহজ হয়। আমি সেখানেই অপেক্ষা করব যতদিন না আমার পাকিস্তানে যাওয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণরূপে নিশ্চিত হবে।’

কেকে/এমডি

print
 

আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad