দর্শক মৌলিক গল্পের ছবি দেখতে চায়

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৪ আগস্ট ২০১৭ | ৯ ভাদ্র ১৪২৪

দর্শক মৌলিক গল্পের ছবি দেখতে চায়

পরিবর্তন প্রতিবেদক ২:৪৪ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১০, ২০১৬

print
দর্শক মৌলিক গল্পের ছবি দেখতে চায়
রুম্মান রশীদ খান। এ সময়ের আলোচিত স্ক্রিপ্ট রাইটারদের একজন। বর্তমানে মাছরাঙা টিভিতে সহকারী ব্যবস্থাপক (ক্রিয়েটিভ ইনচার্জ) হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি নিয়মিত টিভি নাটক লিখছেন। একইসঙ্গে সিনেমার গল্প লেখাতেও নিয়মিত হতে চান। পরিবর্তন ডটকমকে সম্প্রতি তিনি সময় দিয়েছেন। চলচ্চিত্র ভাবনা, চলচ্চিত্র নিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও দেশীয় চলচ্চিত্রের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে কথা বলেছেন তিনি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আহমেদ জামান শিমুল। 

রুম্মান রশীদ খান। এ সময়ের আলোচিত স্ক্রিপ্ট রাইটারদের একজন। বর্তমানে মাছরাঙা টিভিতে সহকারী ব্যবস্থাপক (ক্রিয়েটিভ ইনচার্জ) হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি নিয়মিত টিভি নাটক লিখছেন। একইসঙ্গে সিনেমার গল্প লেখাতেও নিয়মিত হতে চান। পরিবর্তন ডটকমকে সম্প্রতি তিনি সময় দিয়েছেন। চলচ্চিত্র ভাবনা, চলচ্চিত্র নিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও দেশীয় চলচ্চিত্রের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে কথা বলেছেন তিনি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আহমেদ জামান শিমুল

ইদানীং লক্ষ করছি- হঠাৎ করেই প্রচারণায় আপনার বেশ আসক্তি। ব্যাপারটা আসলে কী?

আগে বিষয়টিতে মনোযোগী ছিলাম না, কিন্তু এখন মনোযোগ দিচ্ছি। কারণ আমি একটা কাজ করছি। সেটা কেন করছি, কী জন্য করছি, এটার পেছনের গল্প কী— সেটা জানানো আমার দায়িত্ব, প্রজেক্টের জন্যও ভাল। আর আমার অভিজ্ঞতা থেকে আমি যেটা দেখেছি প্রচারণার ক্ষেত্রে অন্যের আশায় বসে থাকলে কিছুই হয় না। আমি যেভাবে চাই, যা জানাতে চাই সেভাবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে অনেকের অনাগ্রহ দেখেছি—সেজন্য এখন নিজে থেকে কেউ কিছু জানতে চাইলে জানাচ্ছি। আর এটা যতটা না নিজের জন্য, তার চেয়ে প্রজেক্টগুলোর ভালোর জন্য।

‘পূর্ণদৈর্ঘ্য প্রেম কাহিনী’ সিক্যুয়েল না করে সিরিজ করলেন কেন?
‘পূর্ণদৈর্ঘ্য প্রেম কাহিনী’ যখন মুক্তি পায় তখন মধুমিতার মালিক নওশাদ ভাই (ইফতেখারউদ্দিন নওশাদ) প্রথমে সিক্যুয়েল করতে বলেন। এছাড়া ফেসবুকসহ নানান জনের কাছ থেকেও অনুরোধ আসতে থাকে। সিক্যুয়েলের ক্ষেত্রে কাহিনী যেখান থেকে শেষ হয় সেখান থেকে শুরু করতে হয় পরের পর্বে। আমি কয়েকটা কাহিনী টানার চেষ্টা করলাম; দেখলাম হয় না। আর যেটা এপিক হয়ে গেছে সেটা নষ্ট করার কোনো মানে হয় না। সে জন্য নতুন একটি প্রেম কাহিনি বলার সিদ্ধান্ত নিলাম। কিন্তু সিরিজের কিছু নিয়ম আছে—যেমন গল্প বলার স্টাইল এক হতে হয়। আগের পর্বে ববিতা ও সোহেল রানা গল্প বলে গেছেন। এখানে জ.ই. মামুনের উপস্থাপনায় আসিফ ও হাবিবুল বাশার গল্প বলে গেছেন। পার্থক্য এটাই এবার তারা একটি টেলিভিশন টকশোতে ক্রিকেটীয় আবহে প্রেম কাহিনী বলেছেন।

‘পূর্ণদৈর্ঘ্য প্রেম কাহিনী’র প্রথম পর্বটির বিরুদ্ধে চার-পাঁচটি হিন্দি ছবির গল্প মিশ্রণের অভিযোগ উঠেছিল—এ পর্বের ক্ষেত্রেও কী এ ধরনের কোনো অভিযোগ উঠবে?
প্রথম পর্বের ক্ষেত্রে এক-দুই শতাংশ লোক বলেছিল কথাগুলো। আমি রিভিউগুলো পড়েছিলাম—এগুলো কোনো বিজ্ঞ চলচ্চিত্র বোদ্ধার লেখা ছিল না। এদের কেউ লিখেছে ছবির ব্যবসা খারাপ করার জন্য, কেউ লিখেছে না জেনেই, কেউ কেউ নিয়ম রক্ষার্থে। ‘প্রেম কাহিনী ২’ মুক্তির আগে ফেসবুকে দেখলাম একজন লিখেছে—এটা নকল ছবি। আমি তার ওয়ালে গিয়ে দেখলাম সে আরেকটা ছবির প্রচারণা করছে।

তবে মাঝে মাঝে ইন্সপারেশন হতে পারে। ‘রোমিও ভার্সেস জুলিয়েট’ গল্প অবলম্বনে হাজার হাজার ছবি হয়েছে ‘রামলীলা’, ‘ইশক যাদে’ কিংবা ‘শোলে’ অবলম্বনে আমাদের দেশে ‘দোস্ত দুশমন’—এগুলো দোষের না। ‘পোড়ামন’ ‘মায়না’র নকল—বাবু ভাই (আব্দুল্লাহ জহির বাবু) নিজেই বলেন। ‘অনেক দামে কেনা’ চার্লি চ্যাপলিনের ‘সিটি লাইট’ অবলম্বনে। ব্যাপারগুলো স্টাবলিশ। ‘পূর্ণদৈর্ঘ্য প্রেম কাহিনী’র ক্ষেত্রে কিন্তু স্টাবলিশ না—নকল হলে এতদিনে স্টাবলিশ হয়ে যাবার কথা।

আর হ্যাঁ আপনি যখন স্ক্রিপ্টিং করতে বসবেন মনের অজান্তে অনেক ছবি আপনার সামনে চলে আসবে—যা থেকে কিছুটা হলেও ইন্সপায়ার্ড হবেন। কিন্তু আমি যখন ‘পূর্ণদৈর্ঘ্য প্রেম কাহিনী ২’ লিখতে বসি তখন আমার সামনে কোনো রেফারেন্স ছিল না—ফলে ব্যাপারটা আমার জন্য অনেক কঠিন ছিল। ‘পূর্ণদৈর্ঘ্য প্রেম কাহিনী ২’কে আপনি কোনোভাবে নকল ছবি বলতে পারবেন না। প্রথমত বাংলাদেশে ক্রিকেট নিয়ে কোনো ছবি হয়নি এর আগে। দ্বিতীয় উপমহাদেশে ক্রিকেট নিয়ে যত ছবি হয়েছে কোনোটাই প্রেম কাহিনী না। ‘লাগন’-এ ক্রিকেট আসলেও তা দেশপ্রেমের ছবি। ‘ফুটবল’ নিয়ে ‘গোল’ কিংবা হকি নিয়ে ‘চাক দে ইন্ডিয়া’ কোনোটাই প্রেম কাহিনী না। একটা কথা এখানে বলে রাখি ইন্সপারেশন থেকে লেখা দোষের না। কোনো কিছুর ইন্সপারেশন থেকে যদি নতুন ভাল ও সুন্দর একটি গল্প দাঁড়ায় তাহলে ক্ষতি কী? 

আপনি নকল গল্পের অফার পাননি?
হ্যাঁ আমাকে বেশকিছু নকল গল্পের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। যেমন ‘রোজা’, ‘মুন্না ভাই এমবিবিএস’, ‘ইশক যাদে’ ‘রকস্টার’ কিংবা দক্ষিণি ‘১০০% লাভ’ লিখতে বলা হয়েছিল। আমি ক্যারিয়ারের এ পর্যায়ে এসে কোনো কাট কপি পেস্ট ছবি লিখতে চাইনি।

আপনার ছবি বা নাটকে সংলাপগুলো সুন্দর হয়। এর উৎপত্তিস্থল কোথায়?
ধন্যবাদ। এর উৎপত্তিস্থল অন্তর ও মাথা। মানুষকে পর্যবেক্ষণ করার ভাল ক্ষমতা রয়েছে আমার। আমি উপস্থাপনা করি— সেখান থেকেও কথা বলতে বলতে অনেক কিছুই বেরিয়ে যায়। আর আমি আমার স্ত্রীকেও কিছু ক্রেডিট দিব— ও অনেক সময় অনেক কথা বলে যেগুলো আমি ওকে বলি, আমি কিন্তু আমার নাটকে লাগাবো, সিনেমায় লাগাবো। আমি যখন একটা সংলাপ লিখি তখন ভাবি— এটা আমি কেন লিখছি, দর্শক কেন ফিল করবে, এটা আমারই তো ভাল লাগছে না। তখন আমি অনেকবার লিখি সংলাপগুলো। আমার ‘পূর্ণদৈর্ঘ্য প্রেম কাহিনী’ এক ও দুইয়ের সংলাপ আমি মাত্র তিনদিনে লিখেছি। এ তিনদিন আমি অফিস যায়নি, ঘরের বাইরে বের হইনি, কারো ফোন ধরিনি— এ তিনদিন আমি ‘প্রেম কাহিনী’র পৃথিবীর বাইরে যেতে চাইনি। হয়ত মাথা জ্যাম হয়ে গেছে— এক রুম থেকে আরেক রুমে হাঁটাহাঁটি করেছি, কফি খেয়েছি। আমি চেষ্টা করেছি দর্শক যা চায়, তা-ই দিতে। জানি না কতটুকু ভাল হয়েছে। দর্শক-ই বিবেচনা করবে।

দর্শক আসলে কী চায়? আর তাদের চাওয়া অনুযায়ী নাকি নিজস্ব চাওয়া অনুযায়ী একজন লেখকের লেখা উচিত? আপনার মত কী?
আমি মনে করি এ মুহূর্তে দর্শক যা চায়—সে অনুযায়ী আমাদের লেখা উচিত। আমি আমার সৃজনশীলতা দেখাতে মূলধারার বাণিজ্যিক ছবি লিখতে আসিনি। এক্ষেত্রে আমি যেটা মনে করি— দর্শক মৌলিক গল্পের ছবি দেখতে চায়। আমাদের ছবিতে মৌলিক কাহিনীর অভাব রয়েছে। দর্শক যেটা দক্ষিণি, কোরিয়ান, হিন্দি ছবিতে দেখেছে—সেটা আমি কেন দিব? পাঁচ-ছয়টা গল্প আমি সাফি ভাইকে দিয়েছিলাম, তারপর এটা বেরিয়েছে। আহামরি একদম মাথার উপর দিয়ে যাওয়া গল্প না। গল্প দেখে বলবে, আহ! নতুন কিছু! দর্শক কিন্তু চায় নতুনত্ব। একটা চেনা জানা গল্পকে এমনভাবে দেখালেন যা বাংলা সিনেমাতে কখনও দেখা যায়নি।

বেশিরভাগ বাংলা ছবি দর্শক দেখতে চায় না। যেটা আমি নাটকে লিখি, সেটা আমি ফিল্মে লিখি না—এটা নিয়ে আমার পরিচালক আমাকে প্রশংসাও করেন। দর্শক কী চায়—সেটা বোঝার জন্য আমি প্রতিটা ছবি হলে টিকেট কেটে দেখি।

পূর্ণদৈর্ঘ্য প্রেম কাহিনী-২ এ শাকিব ক্রিকেটের ব্যাট হাতে মারামারি করেন—এটা নিয়ে অনেকেই বলছেন জাতীয় দলের ক্রিকেটার ব্যাট হাতে মারামারি করবে কেন?
এ প্রশ্ন করাটাই বোকামি। আমরা সিনেমায় নায়ক-নায়িকাকে নাচতে দেখি। হয়ত বাস্তব জীবনে প্রেমিকার হাত ধরে গুণ গুণ করে গান গাই— কিন্তু আমাদের গানের সাথে কেউ বাদ্যযন্ত্র বাজায় না কিংবা রাস্তায় নাচি না। ফিল্ম ইজ অ্যাবাউট মেকিং মোমেন্টস, ইটস এ ফ্যান্টাসি। প্রথমত তুমি এত লজিক খুঁজতে গেলে সিনেমা দেখতে গেছো কেন? দ্বিতীয়ত কোনো ক্রিকেটার কি কাউকে ব্যাট মারতে পারে না? তাদের কি হৃদয় বলে কিছু নেই? তার কি ইগো বলে কিছু নেই? পরিবার নিয়ে, কাছের মানুষ নিয়ে কেউ কিছু বললে কি তার রাগ হতে পারে না? তিন নম্বর হচ্ছে এ ছবিটা বিসিবি, সেন্সর বোর্ড, ভারতীয় দূতাবাস দেখেছে। সবার পরামর্শ মেনেই ছবিটা তৈরি হয়েছে।

ভারতীয় দূতাবাস ছবিটার প্রশংসা করেছে—তাহলে কি ছবিটি ভারতে মুক্তি পেতে যাচ্ছে?
যেহেতু এ ব্যাপারে অফিশিয়ালি কোনো কিছু চূড়ান্ত হয়নি, কোনো কথা আমি এখন বলতে পারছি না। তবে কথা চলছে। 

‘রাইটার্স ব্লকে’ (লেখালেখির বন্ধ্যাত্ব) পড়েন না? কীভাবে কাটান?
হ্যাঁ পড়ি। আবার এমনি এমনি কেটে যায়। যখন পড়ি তখন নিজেকে সময় দিই, অন্য কাজ করি। একটা সময় কোনো লেখালেখি করি না। আসলে লেখালেখি পুরোপুরি ঈশ্বর প্রদত্ত ব্যাপার। এটা যেমন উপর থেকে আসে, তেমনি উপর থেকেই ব্লক হয়, ব্লক উপর থেকে কেটেও যায়। কেউ শেখাতে পারে না লেখালেখি।

লেখালেখির শুরুটা কীভাবে?
বাড়ির মধ্যে অংক কিংবা বিজ্ঞান খাতায় লেখালেখি করতাম। ক্লাশ ফাইভে থাকতে নাটক লিখি। সেগুলো পড়ত আমার তিনবোন আর আমাদের কাজের মেয়ে। আমার সব লেখায় কেন জানি নায়ক-নায়িকা মারা যেত। এক গল্পে তো আমি পুরো গ্রামবাসীকে মেরে ফেলেছি। আমি যখন প্রথম টিভি নাটক লিখি ‘মা’ সেখানেও দিতি আপা মারা গেলেন। তারপর যখন সিনেমা লিখলাম তখন আমার আম্মা বললেন, ‘এ ছবি দেখতে যাবো না, ও আবার কাকে মেরে ফেলে।’ দুই ঘণ্টা আটত্রিশ মিনিটের সিনেমায় দুই ঘণ্টা বত্রিশ মিনিটের সময় জয়া যখন শাকিবকে গুলি করল—আম্মা আর সবাইকে বললেন উঠো আর দেখতে হবে না, আমি বললাম আরে বসো শেষ হয়নি। নটরডেম কলেজের ‘ডাকঢোল’ পত্রিকার সম্পাদক ছিলাম। ‘ব্লু এন্ড ব্লো’ পত্রিকার প্রধান সম্পাদক ছিলাম। তারপরে ২০০৫ সালে একটা নাটকের গল্প মাথায় আসে। চয়নিকা দিদিকে (চয়নিকা চৌধুরী) শোনাই। উনি স্ক্রিপ্ট করতে বলেন। কিন্তু আমি তখন জানতাম না স্ক্রিপ্টিং কীভাবে করে। পরে গল্পটা এমনভাবে লিখে দিয়েছিলাম সেটা স্কিপ্ট হয়েছিল। ‘বৃষ্টির পরে’ নাটকের নাম। আমার নাম যায়নি—‘অবশ্য আমি মনে করিনা এতে আমার কোনো ক্রেডিট আছে। ‘প্রথম আলো’তে লেখালেখি করেছি অনেকদিন। এরপর ২০০৮-এ আমার বিবিএ শেষের দিকে চয়নিকা চৌধুরীর ‘এসএমএস’ নামে নাটক লিখলাম— মাহফুজ আহমেদ ও প্রভা ছিল। তারপর তো আশিটা নাটক লিখেছি।

‘পূর্ণদৈর্ঘ্য প্রেম কাহিনী-৩’ নিয়ে কোনো প্রকার আভাস দেওয়া যায়—গল্প, কাস্টিং?
আসলে এটা নিয়ে আমি কেন আমাদের কেউই জানতো না আগে থেকে। আমাদের প্রযোজক ‘ফ্রেন্ডস মুভিজ’ ১৭ মার্চ ছবিটা দেখেছিল। তাদের ভাল লেগেছিল তখন। দর্শক পছন্দ করবেন এটাও আশা ছিল। আর তাই অডিও প্রকাশনার দিন হুট করেই ঘোষণাটা আসে। ঘোষণার সময় জয়া আহসানের অভিব্যক্তি দেখলেই বুঝতে পারতেন— সেও আগে থেকে কিছুই জানতো না। আসলে ‘প্রেম কাহিনী-৩’ আদৌ হবে কিনা, কিংবা কে কে থাকবে এটা নিয়ে আমি কিছুই জানি না।

আপনি একজন বিনোদন সাংবাদিক। স্ক্রিপ্ট রাইটার না, বিনোদন সাংবাদিক হিসেবে আপনার ব্যাখ্যা কী— কেন দর্শক আমাদের ছবি দেখছে না?
দর্শক মৌলিক গল্প দেখতে চায়। নিজের গল্প দেখতে চায়। একজন নায়ককে দেখে যেন একজনের মনে হয়— আরে ওতো আমারই মতো, একজন নায়িকাকে দেখে তরুণীর মনে হয় আমি ওর মত। আমরা মনে করি আমরা যা বানাবো দর্শক তা-ই দেখবে। কিন্তু এখন তথ্যপ্রযুক্তির দর্শক সবকিছুই দেখছে। তাদের বোকা ভাবাটাই বোকামি। ‘প্রেম করবো তোমার সাথে’ ছবিতে মিলন ও মম’র একটা গান ছিল ‘দে দানা’র ‘গালে লাগ যা’র নকল। আমার পাশের লুঙ্গি পরা দর্শকটি গানটি দেখে বলেছিল, আরে এটা ক্যাটরিনার গান। ‘এটাতো গাজাখুরি গল্প, আমাগো কি বোকা পাইছে’—বলে হল থেকে বেরিয়ে যেতেও দেখেছি। দর্শককে টুইস্ট দিতে হবে। দর্শককে ভাল গান দিতে হবে। এখন কিন্তু ভাল গান হচ্ছে। কিন্তু দর্শকদের কানে তা পৌঁছে না স্মার্ট পাবলিসিটির অভাবে।

‘পূর্ণদৈর্ঘ্য প্রেম কাহিনী’তে কি স্মার্ট পাবলিসিটি হয়েছিল?
‘পূর্ণদৈর্ঘ্য প্রেম কাহিনী’ তে হয়ত অনেকটাই হয়েছে। ‘পূর্ণদৈর্ঘ্য প্রেম কাহিনী-২’ এ প্রথমদিকে তেমন না হলেও শেষের দিকে অনেকটাই হয়েছে।

সাহিত্য থেকে স্ক্রিপ্ট করবেন কী কখনও?
সাহিত্য নিয়ে যখন আপনি স্ক্রিপ্ট করবেন তখন কিন্তু চাইলেই আপনি সাহিত্য থেকে পুরোপুরি বের হতে পারবেন না। কারণ পাঠক, দর্শকের ওই সাহিত্যটি পড়া থাকে—তারা তার সাথে ছবিটি মেলাতে চায়। আমাকে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক একটি ছবিতে বছরখানেক আগে চুক্তিবদ্ধ করিয়ে রেখেছে একটি প্রযোজনা সংস্থা। সেটিও সাহিত্যনির্ভর। তবে এখনই সাহিত্যনির্ভর স্ক্রিপ্টিংয়ে পুরোপুরি ঢুকতে চাই না।

এখন কী নিয়ে ব্যস্ত আছেন?
বেশ কয়েকটি স্ক্রিপ্টিংয়ের কথা চলছে। এ বছর তিনটি না হলেও দুটি ছবির স্ক্রিপ্ট কনফার্ম লিখছি। সময় হলেই জানাব।

‘বসগিরি’ লেখার কথা ছিল?
না এখন আর লিখছি না। আমাকে যেদিন ওই ছবির জন্য চুক্তিবদ্ধ করায় ওইদিনই আবদুল্লাহ জহির বাবু ভাইকেও চুক্তিবদ্ধ করানো হয় লেখক হিসেবে। ইনফ্যাক্ট ‘বসগিরি’ নামটাও আমার দেওয়া। এর বেশি কিছু বলতে চাই না।

সময় দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ।
আপনাকেও ধন্যবাদ।

এজেডএস/এইচএসএম

 

 

print
 
nilsagor ad

আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad