পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ও শুভঙ্করের ফাঁকি!

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৯ জুন ২০১৭ | ১৫ আষাঢ় ১৪২৪

পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ও শুভঙ্করের ফাঁকি!

পরিবর্তন প্রতিবেদক ১০:১৭ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ১০, ২০১৬

print
পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ও শুভঙ্করের ফাঁকি!
গত ৩ এপ্রিল ২০১৬ তারিখ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা শুরু হয়েছে৷ এর কিছুদিন আগেই মাধ্যমিক পরীক্ষা শেষ হল৷ গত কয়েক বছর ধরে সব ধরনের পাবলিক পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁসের যে হিড়িক চলছিল এবার মাধ্যমিক পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে সে রকম শোরগোল শোনা না যাওয়ায় ভেবেছিলাম শিক্ষা ব্যবস্থায় বুঝি স্বস্তি ফিরল৷ কিন্তু হায়! 

গত ৩ এপ্রিল ২০১৬ তারিখ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা শুরু হয়েছে৷ এর কিছুদিন আগেই মাধ্যমিক পরীক্ষা শেষ হল৷ গত কয়েক বছর ধরে সব ধরনের পাবলিক পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁসের যে হিড়িক চলছিল এবার মাধ্যমিক পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে সে রকম শোরগোল শোনা না যাওয়ায় ভেবেছিলাম শিক্ষা ব্যবস্থায় বুঝি স্বস্তি ফিরল৷ কিন্তু হায়!

উচ্চ মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয়পত্র পরীক্ষা শেষ হওয়ায় আমার এক কলিগ কাম গার্লস হোস্টেল সুপার যখন বলল, ‘স্যার, মেয়েরা কাল রাতে বন্ধুদের কাছ থেকে যে সাজেশন পেয়েছে তার শতভাগই কমন!’ সাথে সাথে গতদিনের একটা ঘটনা মনে পড়ে গেল- আগের রাতে এলাকার পরীক্ষার্থী ভাইয়ের সাথে তার পরীক্ষা নিয়ে কথা হলে তিনি আমার পরীক্ষার্থী বোনের টাইফয়েড হয়েছে শুনে আমাকে বলল, ‘ভাইয়া আমার কাছে সাজেশন আছে নওরীনের (আমার বোন) জন্য নেন৷’ আমি বললাম, ‘কাল সকালে পরীক্ষা আজ সাজেশন দিয়ে কী হবে? লাগবে না সে এমনিতেই পারবে৷’ বুঝতে পারলাম এখন প্রশ্ন ফাঁস হয় না শত ভাগ কমনের নিশ্চয়তা সম্বলিত ও বিফলে টাকা ফেরত এই শর্তে সাজেশন বের হয়। তাও আবার রাত ১২টার পর!

আরও বুঝতে পারলাম মাননীয় শিক্ষা সম্পর্কীয় মন্ত্রী মহোদয়ের সব কিছুই বজ্র আটুনি ফসকা গেরো৷ আহ! এই সাজেশনের ফসল সোনালি কিংবা রূপালি পাঁচ লইয়া জাতি কী করবে? কত আবোল-তাবোল বিষয় নিয়ে ফেসবুকে আলোচনা হয় কিন্তু দুইটা পরীক্ষা চলে গেল তাও কারও কোনো কথায় এ প্রসঙ্গটা দেখলাম না! আচ্ছা, পরীক্ষা শেষে দেখলাম শিক্ষার্থী-অবিভাবক সবাই এই বিষয়টা নিয়ে চওড়া হাসি নিয়ে ব্যক্ত করছে৷ তার মানে সবাই জানে হয়ত রাত জেগে এই সাজেশনেরই প্রতীক্ষায় থাকে! স্কুল কলেজের ছাত্রী ধর্ষণ-হয়রানি-বেতন-ফি বৃদ্ধির প্রতিবাদে প্রথমে মানব-দেয়াল হয়। তারপর কখনো তা আন্দোলনে রূপ নিয়ে জ্বালাও পোড়াও হয়, হয় ভাঙচুর৷ কই প্রশ্ন ফাঁসের বিরুদ্ধে শিক্ষক-শিক্ষার্থী-অভিভাবকের সম্মিলিত কোনো প্রতিবাদ কর্মসূচি তো দেখিনি৷

তাহলে কী শিক্ষক-অভিভাবক সবাই ভাবছে এ বছরটা এমনি চলুক, আমাদের এ ব্যাচটা দুর্বল- আমার ছেলেটা/মেয়েটা সোনালি পাঁচ পাক ইত্যাদি৷ যুগপৎভাবে একজন শিক্ষক ও অভিভাবক হিসেবে আমারও কি চুপ থাকা উচিত ছিল? না ছিল না; কারও চুপ থাকা উচিত নয়৷ জেনে রাখুন, তনু হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার না হলে যেমন ধর্ষক ও হত্যাকারীরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠবে এবং সমাজে এর বিরূপ প্রভাব পড়বে। তেমনি ফি বছর প্রশ্ন ফাঁসের সংস্কৃতি বহাল থাকলে ও শিক্ষক-শিক্ষার্থী-অবিভাবক তথা সর্বসাধারণ এর বিরুদ্ধে রুখে না দাঁড়ালে সমাজ তথা রাষ্ট্র ব্যবস্থাও একসময় অলস-শ্রমবিমুখ-মেধাশূন্য আবর্জনাতুল্য জনতার ডাস্টবিনে পরিণত হবে। তাতে কোনো সন্দেহ নেই৷

লেখক : অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট

 

লেখকদের উন্মুক্ত প্লাটফর্ম হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে মুক্তকথা বিভাগটি। পরিবর্তনের সম্পাদকীয় নীতি এ লেখাগুলোতে সরাসরি প্রতিফলিত হয় না।
print
 

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

আলোচিত সংবাদ