শরণার্থী ও বৈদেশিক শ্রমবাজার

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৪ আগস্ট ২০১৭ | ৯ ভাদ্র ১৪২৪

শরণার্থী ও বৈদেশিক শ্রমবাজার

পরিবর্তন প্রতিবেদক ১০:১৩ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ১০, ২০১৬

print
শরণার্থী ও বৈদেশিক শ্রমবাজার
দেশের অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা পালন করছে বৈদেশিক আয়। যার মূলে রয়েছে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কষ্টার্জিত আয় থেকে পাঠানো অর্থ। নানা পরিসংখ্যানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রবাসী শ্রমিকের সংখ্যা তুলে ধরা হলেও সঠিক সংখ্যা নিয়ে সন্দেহ আছে। আবার এদের মধ্যে রয়েছে যেমন দক্ষ শ্রমিক, তেমনি রয়েছে অদক্ষ শ্রমিকও। 

দেশের অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা পালন করছে বৈদেশিক আয়। যার মূলে রয়েছে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কষ্টার্জিত আয় থেকে পাঠানো অর্থ। নানা পরিসংখ্যানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রবাসী শ্রমিকের সংখ্যা তুলে ধরা হলেও সঠিক সংখ্যা নিয়ে সন্দেহ আছে। আবার এদের মধ্যে রয়েছে যেমন দক্ষ শ্রমিক, তেমনি রয়েছে অদক্ষ শ্রমিকও।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, ২০১২-১৩ অর্থবছরে আমাদের মোট বার্ষিক রেমিট্যান্স এক হাজার ৪৪৬ কোটি ডলার। যার ৬৩ শতাংশ এসেছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে। অবশ্য অশান্ত পরিস্থিতির কারণে ২০১৩-১৪ অর্থবছরের জুন পর্যন্ত এই পরিমাণ কমে আসে এক হাজার ৪২২ কোটি ডলারে।

দেশের অর্থনীতিতে প্রবাসী শ্রমিকদের বড় ভূমিকা থাকলেও এদের প্রতিই আমাদের যত অবহেলা। সরকারি হোক কিংবা বেসরকারি, কোনো পর্যায় থেকেই বিদেশে থাকা শ্রমিকদের সেবা দেওয়ার কথা শোনা যায় না। আবার সঠিক নজরদারির অভাবে প্রতিনিয়ত বিদেশে অদক্ষ শ্রমিক প্রেরণ করায় দেশের ভাবমূর্তিও ক্ষুন্ন হচ্ছে। সেই সাথে রয়েছে বিদেশে পালিয়ে যাওয়া কিছু অসাধু মানুষের দুষ্কর্ম। যা বিদেশের শ্রমবাজারের কাছে বাংলাদেশি শ্রমিক গোষ্ঠীর প্রতি নেতিবাচক এক চিত্র তৈরি করছে।

এর ফলও গুনতে হচ্ছে, নানা আশ্বাসের পর সৌদি আরবে শ্রমিক পাঠানোর বাধা কাটছে না। সৌদি প্রতিনিধিদের সাথে নানা আলোচনা ও চুক্তি স্বাক্ষরের পরও প্রবেশ সম্ভব হচ্ছে না। একই অবস্থা মালয়েশিয়ার বেলাতেও। যদিও বলা হয়, প্রবাসীদের সবচেয়ে বড় শ্রমবাজার এই দুটি দেশেই।

সন্ত্রাসবাদ বিশ্বে যেভাবে মাথা জাগিয়েছে তাতে বিদেশের শ্রমিক নিয়োগের ক্ষেত্রে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে উন্নত দেশগুলো। তার উপর রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশগুলো থেকে আসা শরণার্থীর চাপ। ফলে মধ্যপ্রাচ্যসহ উন্নত দেশগুলো বিদেশি শ্রমিকদের বিরুদ্ধে এমনিতেই কড়াকড়ি আরোপ করেছে। এরপর থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ায় গণকবরের সন্ধান লাভের পর স্থল ও সাগর পথে অবৈধ শ্রমিক আসার যে চিত্র দাঁড়িয়েছে তাতে বিদেশে কর্মরতদের ভাগ্য আরও কঠিন হচ্ছে।

একদিকে অবৈধ শ্রমিক অন্যদিকে শরণার্থী। দ্বিমুখী চাপে তাই বিদেশি শ্রমিকের বিষয়ে বেশি জোর দিচ্ছে মধ্যপ্রাচ্য ও পশ্চিমের উন্নত দেশসমূহ। তার উপর জঙ্গিবাদ আতংক সেসব দেশে চেপে বসায় নিরাপত্তার স্বার্থেই নাগরিকদের পরিচয় শনাক্তে জোর দেওয়া হচ্ছে। ইউরোপের কথাই ধরা যাক। এ অঞ্চলের দেশগুলোয় শরণার্থীর চাপ এখন প্রবল। এদের সবাইকে না হলেও কিছু সংখ্যক মানুষকে জায়গা দিতে জাতিসংঘের কাছে তারা অঙ্গীকারাবদ্ধ। যে সব শরণার্থীর ইউরোপে আশ্রয় মিলছে পরবর্তীতে তারা সে সব দেশের শ্রম বাজারে ঢোকার চেষ্টা করছে। আর প্রতিকূল অবস্থায় জীবন ধারণের জন্য স্বাভাবিকভাবেই তারা অপেক্ষাকৃত কম মজুরিতে কাজ করতে চাইছে। এর ফলে ইউরোপের শ্রমবাজারে এমনিতেই বিরূপ প্রভাব পড়ছে।

সংকট সমাধানে উন্নত রাষ্ট্রগুলো অভিবাসী শ্রমিক বিষয়ে তাই আগের যে কোনো সময়ের চাইতে বেশি সজাগ। নব্য অভিবাসীদের সুযোগ করে দিতে তাই দেশগুলো তাদের শ্রমবাজারের একটি পরিষ্কার চিত্র দেখতে চাইবে এটাই স্বাভাবিক। তার উপর জঙ্গিবাদ দমনে নজরদারি বাড়াতে প্রতিটি নাগরিক ও ব্যক্তির পরিচয় শনাক্তে জোর দেওয়া হচ্ছে। যে কোনো দেশে এমনিতে অবৈধভাবে থাকাটাই অপরাধ। যেহেতু, পশ্চিমের দেশগুলোয় অভিবাসন-প্রত্যাশী শ্রমিকের চাপ রয়েছে। স্থানীয় শ্রমবাজারের স্বাভাবিকতা ধরে রাখতে তাই অবৈধদের ছাঁটাইয়ের পদক্ষেপ তারা নিতেই পারে।

দেশে বসে আমরা যারা বিদেশে থাকা ভাই বোনদের কষ্টার্জিত অর্থ ভোগ করছি তারা কখনও কী খোঁজ নিয়েছি, এই উপার্জনের পেছনের গল্পটা কেমন? পরিবারের সদস্যদের মুখে হাসি ফোটাতে সহায় সম্বল বিক্রি করে জীবনের যে জুয়া তারা ধরেছেন, রাখি কী তার খবর?

পরিবার, সমাজ সর্বোপরি দেশের অর্থনীতিকে বেগবান করতে যারা রক্ত পানি করে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন তাদের প্রতি আমাদেরও দায়িত্ব রয়েছে। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, বিদেশে থাকা দেশের দূতাবাসগুলো সম্পর্কে কোনো প্রবাসী দুর্নাম ছাড়া সুনাম করেন না। তাদের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় অভিযোগ হচ্ছে, অবহেলা ও অসহযোগিতার। অবশ্য কথায় আছে, ‘এক হাতে তালি বাজে না।’ দূতাবাসের প্রতি ঢালাও অভিযোগ না তুলে বিদেশে থাকা শ্রমিকদেরও সহযোগিতা আদায়ে এগিয়ে আসতে হবে। কারও কথায় কান না দিয়ে দূতাবাসে সরাসরি সহযোগিতা চেয়ে দেখতে হবে। বিপদগ্রস্তদের পরামর্শ ও সেবা দেওয়া দূতাবাসের অন্যতম প্রধান কাজ। পাশাপাশি অবৈধ শ্রমিক দেশে ফেরত আনা ঠেকাতে কূটনৈতিক তৎপরতাও তাদের বাড়াতে হবে।

 

লেখকদের উন্মুক্ত প্লাটফর্ম হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে মুক্তকথা বিভাগটি। পরিবর্তনের সম্পাদকীয় নীতি এ লেখাগুলোতে সরাসরি প্রতিফলিত হয় না।
print
 

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

nilsagor ad

আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad