নাজিমের লেখায় ধর্মীয় উস্কানির প্রমাণ পায়নি পুলিশ

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৭ | ২ কার্তিক ১৪২৪

নাজিমের লেখায় ধর্মীয় উস্কানির প্রমাণ পায়নি পুলিশ

পরিবর্তন প্রতিবেদক ৯:২২ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ১০, ২০১৬

print
নাজিমের লেখায় ধর্মীয় উস্কানির প্রমাণ পায়নি পুলিশ
দুর্বৃত্তদের হাতে নিহত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাজিমুদ্দিন সামাদ ধর্মীয় উস্কানিমূলক লেখালেখি করতেন এমন কোনো প্রমাণ পায়নি পুলিশ। তার অনলাইন কর্মকাণ্ড ও উদ্ধার হওয়া একটি ডায়েরি বিশ্লেষণ করে একথা জানিয়েছে তারা। এমনকি তিনি ব্লগারও ছিলেন না বলে জানিয়েছেন সূত্রাপুর থানার তদন্ত কর্মকর্তা সমীর চন্দ্র সূত্রধর।

দুর্বৃত্তদের হাতে নিহত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাজিমুদ্দিন সামাদ ধর্মীয় উস্কানিমূলক লেখালেখি করতেন এমন কোনো প্রমাণ পায়নি পুলিশ। তার অনলাইন কর্মকাণ্ড ও উদ্ধার হওয়া একটি ডায়েরি বিশ্লেষণ করে একথা জানিয়েছে তারা। এমনকি তিনি ব্লগারও ছিলেন না বলে জানিয়েছেন সূত্রাপুর থানার তদন্ত কর্মকর্তা সমীর চন্দ্র সূত্রধর।

সমীর চন্দ্র শনিবার পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘নাজিম  ব্লগার ছিলেন না। প্রাথমিক অনুসিদ্ধান্তে আমরা যতটুকু জানতে পেরেছি, তাতে স্পষ্টভাবে বোঝা যাচ্ছে যে তার কোনো ব্লগ নেই। তার ফেসবুক পেইজে কিছু লেখা পাওয়া গেছে। তবে সেখানে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার মতো কোনোকিছু আমরা পাইনি।'

নাজিমের একটি ব্যক্তিগত ডায়েরির সন্ধান পাওয়া গেছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। ডায়েরিতেও এমন কোনো উস্কানিমূলক লেখা পাওয়া যায়নি।

ডায়েরি থেকে কী জানা গেছে জানতে চাইলে ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘নাজিমের ডায়েরিতে সরকারসহ বিভিন্ন মহলের কাজের প্রশংসা ও সমালোচনা রয়েছে।’

তাহলে হত্যার সম্ভাব্য কারণ কী হতে পারে, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ব্যক্তিগত শত্রুতা বা অন্য কোনো কারণ থেকে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে। তদন্তের প্রয়োজনে আমরা কোনো কারণকেই ছোট করে দেখছি না। সম্ভাব্য সব কারণকে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। তবে লেখালেখির জেরে তাকে হত্যা করা হয়নি, এ বিষয়ে আমরা নিশ্চিত। লেখালিখির জেরে তার প্রতি কারো ক্ষোভের তেমন কোনো প্রমাণও যায়নি।’

নাজিমের কোনো ব্লগ ছিল না, মূলত ফেসবুকে লিখতেন তিনি। পুলিশের দাবি, তাতে ধর্মান্ধতার সমালোচনা থাকলেও ইসলামের বিরুদ্ধে কোনো কথা নেই।

নিহত নাজিমের বিষয়ে জানতে কথা হয় তার মা তইরুন্নেসা সঙ্গে। তিনি পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘আমি যতদূর জানি, ওর কোনো ব্লগ ছিল না। আমার ছেলে কোনো ব্লগারদের সঙ্গে চলাফেরা করত, আমি বিশ্বাস করি না। আমার ছেলে খু্ব শান্ত স্বভাবের ছিল। ইসলামের বিরুদ্ধে তার উদাসীনতা কখনো আমার চোখে পড়ে নাই। আমার ছেলের কোনো শত্রু ছিল না। কেন তাকে কেউ মেরে ফেলবে, তা আমার ধারণার বাইরে।'

নাজিম হত্যার বিষয়ে কথা হয় বিশ্ববিদ্যালয়টির সাবেক ছাত্র আরিফুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি পরিবর্তনকে বলেন, ‘লেখাপড়া শেষ হলেও এখনো প্রায় প্রতিদিনই যাওয়া হয় ক্যাম্পাসে। কথা হতো নাজিমের সঙ্গে। খুব হাসিখুশি স্বভাবের ছিল নাজিম। দেখা হলে হেসে কথা শুরু করত নাজিমই। অনেক বিষয়ে আলাপ হতো, একসঙ্গে ক্যান্টিনে খাওয়াও হতো। ওই হাসিমাখা মুখ এভাবে হারিয়ে যাবে, তা কখনো ভাবিনি। আমরা ব্যথিত, আমরা এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই।'

নাজিম ব্লগার ছিলেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি যতটুকু জানি, নাজিমের কোনো ব্লগ ছিল না। তবে তার ফেসবুক পেইজে অনেক ধরনের লেখা আমি দেখেছি।’

নাজিমকে হত্যার ঘটনায় ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার মহাপরিচালক সিগমা হুদা। তিনি বলেন, ‘কোনো মানুষের পরিচয় তিনি ব্লগার কি না, কিংবা কোন ধর্মের অনুসারী- তা থেকে নির্ধারিত হতে পারে না। সরকারের উচিত দেশের প্রতিটি মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। দেশের জনগণের নিরাপত্তা দিতে সরকার ব্যর্থ হয়েছে। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া হত্যাকাণ্ডগুলো তারই প্রমাণ।’

তিনি আরো বলেন, ‘এর আগে  কুমিল্লা সেনানিবাসে সোহাগী জাহান তনু ধর্ষণ ও হত্যা। এর রেশ কাটতে না কাটতেই চলতি মাসে পুরান ঢাকায় এক মসজিদের মুয়াজ্জিনকে হত্যা এবং এখন আমাদের সর্বশেষ আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে নাজিম হত্যা। আমরা আর আলোচনা করতে চাই না। প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের শাস্তি চাই।'

নাজিমুদ্দিন সামাদ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সান্ধ্যকালীন ছাত্র ছিলেন। অনলাইনে লেখালেখিতে সক্রিয় ছিলেন তিনি এবং সিলেটে গণজাগরণ আন্দোলনের সংগঠক হিসেবেও কাজ করেছিলেন।

গত ৬ এপ্রিল, বুধবার, রাতে তাকে রাজধানীর সূত্রাপুরে ব্যস্ত সড়কে প্রকাশ্যে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করা হয়। এসময় ‘আল্লাহু আকবার’ বলে চিৎকার করে স্লোগান দিয়ে হত্যাকারীরা পালিয়ে যায় বলে জানায় প্রত্যক্ষদর্শীরা।

আরটি/এসজে

 

print
 

আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad