বই সংরক্ষণের উপায়

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৯ অক্টোবর ২০১৭ | ৪ কার্তিক ১৪২৪

বই সংরক্ষণের উপায়

পরিবর্তন প্রতিবেদক ৯:০৯ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ১০, ২০১৬

print
বই সংরক্ষণের উপায়
একসময় বই ছিলো মানুষের প্রিয় বন্ধু। অবসরের সঙ্গী। কিন্তু এখন সময় পাল্টেছে মানুষ বইয়ের সঙ্গে সখ্য কমিয়ে হাতে তুলে নিয়েছে ইলেক্ট্রনিক্স অ্যাপস। তবুও বইয়ের প্রতি কিছু কিছু মানুষের রয়েছে অগাধ ভালোবাসা।

একসময় বই ছিলো মানুষের প্রিয় বন্ধু। অবসরের সঙ্গী। কিন্তু এখন সময় পাল্টেছে মানুষ বইয়ের সঙ্গে সখ্য কমিয়ে হাতে তুলে নিয়েছে ইলেক্ট্রনিক্স অ্যাপস। তবুও বইয়ের প্রতি কিছু কিছু মানুষের রয়েছে অগাধ ভালোবাসা।

এখনো অনেকে বই পড়তে পছন্দ করেন। তেমনি পছন্দ করেন বই কিনতে ও উপহার দিতে। কিন্তু বইয়ের প্রতি আমরা অনেকেই যত্নশীল নয়। অবলীলায় একটা বই ভাঁজ করে রাখি। কলম দিয়ে আঁকিবুঁকিও করি। কিন্তু এটা কি ঠিক। তাই জেনে নিই বই সংরক্ষণের কিছু টিপস-

* বই পড়া কম হয় বলে বইয়ের যত্নটা একটু বেশিই নিতে হবে। তাই অবসর পেলে বইগুলো র‍্যাক থেকে নামিয়ে সাবধানে পরিষ্কার করে আবার র‍্যাকে রাখুন। পোকামাকড়ের উপদ্রব থেকে বই রক্ষা করতে বইয়ের র‍্যাকে নেপথলিন বা নিম পাতা দিয়ে রাখতে পারেন। বেশ কাজে দেবে।

* র‍্যাকে বই গুছিয়ে রাখুন বিষয় অনুযায়ী। যেমন- গল্প, উপন্যাস, কবিতা এভাবে। তাহলে বই খুঁজে পেতে সহজ হবে। কোথায় কোন বই রেখেছেন দ্রুত খুঁজে পেতে র‍্যাক অনুয়ায়ী বইয়ের একটা তালিকা তৈরি করে রাখুন। দেখবেন বই খুঁজে পেতে সমস্যা হচ্ছে না। বিষয় অনুযায়ী আলমারি বা র‍্যাকে লেবেল লাগিয়ে নিন।

* বই কখনো গাদাগাদি করে রাখবেন না। একটার উপর আরেকটা না রেখে বই দাঁড় করিয়ে রাখুন। এতে বই ভালো থাকবে।

* কখনো কোন বই একটু খুলে গেলে সঙ্গে সঙ্গে সেলাই বা আঠা লাগিয়ে নিন নাহলে পৃষ্ঠা খুলে যেতে পারে বা হারিয়ে যেতে পারে।

* স্যাঁতস্যাঁতে ভিজে ঘরে বই রাখবেন না। বই আলো-বাতাস যুক্ত স্থানে রাখুন। এতে উইপোকার আক্রমণ কম হয়। মাঝে মাঝে বই রোদে দিতে পারলে ভালো। তবে সূর্যের আলো সরাসরি পড়ে এমন জায়গায় বই রাখলে বইয়ের কাভারের রং জ্বলে যেতে পারে। তাই সূর্যের আলোর বিপরীত পাশে রাখবেন।

* বই পড়ার সময় প্রথমেই খেয়াল রাখবেন বই যেন ভাঁজ করা না হয়। এতে বইয়ের বাইন্ডিং খুলে যায়।

* বইয়ে কলম দিয়ে দাগাবেন না। এতে বইটা যেমন অপরিষ্কার হয়ে যায় তেমনি অন্যের পড়তেও সমস্যা হতে পারে। একান্তই মার্কিং করার প্রয়োজন হলে পেন্সিল দিয়ে হালকা করে দাগ দেবেন।

* অনেকে বইয়ের পেজ মার্ক করতে বইয়ের পেজ ভেঙে রাখেন। এটা কখনো করবেন না। পেজ মার্ক করতে মার্ক পেপার দিয়ে রাখুন। মোটা কাগজ কেটে মার্ক পেপার তৈরি করে নিতে পারেন। ব্যবহার করতে পারেন ভিজিটিং কার্ডও। বইয়ের ভেতর ফুল বা স্টিল বা লোহা জাতীয় কোন জিনিস রাখবেন না। এতে বইয়ে মরিচা ধরে যাবে। যেমন- সেফটিপিন বা চুলের ক্লিপ।

* অনেকেই বই শুয়ে শুয়ে পড়তে পছন্দ করেন। এটা একদম ঠিক না। পারতপক্ষে বই বসে পড়বেন আর বইটা যদি একটু মোটা হয় তাহলে তো শুয়ে পড়ার প্রশ্নই উঠে না। এতে বই নষ্ট হয়ে যায়। শুয়ে বই পড়তে পড়তে আপনার ঘুম চলে এলে বইটা হাত থেকে পড়ে যেতে পারে। এতে বইয়ের বাইন্ডিং খুলে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।

* বইয়ের পাতা ওল্টানোর সময় অনেকে থুথু ব্যবহার করেন এটা খুব বাজে ও অস্বাস্থ্যকর অভ্যাস। এটা করবেন না। আর বইয়ের পাতা ওল্টানোর সময় কখনোই তাড়াহুড়া করা ঠিক নয়। এতে বইয়ের পাতা ছিঁড়ে যেতে পারে।

* খাবার খেতে খেতে বই পড়বেন না। খাবারের দাগ বইয়ে লেগে গেলে বই নোংরা হয়ে যায়। আর এতে বইয়ে পোকামাকড় আক্রমণ করার আশঙ্কা থাকে। পড়তে পড়তে বই উপুড় করে রাখবেন না বা একেবারে ভাঁজ করে বই পড়বেন না। এতে বইয়ের বাঁধাই ছিঁড়ে যেতে পারে।

* বই ধার দিলে সে বই ফেরত পাওয়া মুশকিল। তাই কেউ বই ধার নিলে বইয়ের নাম, যাকে দিচ্ছেন তার নাম, যোগাযোগের ঠিকানা তারিখসহ নোট করে রাখুন। তাকে বারবার করে বলে দেবেন বইটা যেন সে যত্ন নিয়ে পড়েন আর শিশুদের নাগালের বাইরে রাখেন। কিছুদিন পার হলে নিজেই যোগাযোগ করে বই ফেরত দেওয়ার কথা স্মরণ করিয়ে দিন।

ইলেক্ট্রনিক্স অ্যাপসকে পাশে রেখে সপ্তাহে অন্তত একদিন ঘুরে আসুন না বইয়ের রাজত্বে।

আরআর/এইচএসএম

 

print
 

আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad