বাদ যাবে না তরমুজের বিচি-খোসা

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৭ | ২ কার্তিক ১৪২৪

বাদ যাবে না তরমুজের বিচি-খোসা

পরিবর্তন প্রতিবেদক ৯:০১ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ১০, ২০১৬

print
বাদ যাবে না তরমুজের বিচি-খোসা
গরমে শরীর ঠাণ্ডা রাখতে তরমুজের জুড়ি মেলা ভার। সুস্বাদু এই ফলটির উপকারিতার শেষ নেই। কিন্তু ক’জন খবর রাখি, শুধু তরমুজের শাঁসটুকু নয়, এর বিচি আর খোসাও রীতিমতো কাজের জিনিস! অনেকেই তরমুজ খাওয়ার পর বিচি-খোসা ফেলে দেন। কিন্তু চাইলে এই বিচি-খোসা দিয়ে আপনি সুস্বাদু খাবার বানাতে পারেন; মেটাতে পারেন পুষ্টি চাহিদা। কীভাবে? আসুন জেনে নিই-

গরমে শরীর ঠাণ্ডা রাখতে তরমুজের জুড়ি মেলা ভার। সুস্বাদু এই ফলটির উপকারিতার শেষ নেই। কিন্তু ক’জন খবর রাখি, শুধু তরমুজের শাঁসটুকু নয়, এর বিচি আর খোসাও রীতিমতো কাজের জিনিস! অনেকেই তরমুজ খাওয়ার পর বিচি-খোসা ফেলে দেন। কিন্তু চাইলে এই বিচি-খোসা দিয়ে আপনি সুস্বাদু খাবার বানাতে পারেন; মেটাতে পারেন পুষ্টি চাহিদা। কীভাবে? আসুন জেনে নিই-

তরমুজের বিচি

  • নিয়মিত তরমুজের বিচি ভাজা খেলে চুল পাকা বন্ধ হয়। এর অ্যামিনো এসিড চুলকে মজবুত করে তোলে। মেলানিন তৈরি করে চুলের রঙ আরো কালো-ঝলমলে করে তোলে।
  • ম্যাগনেসিয়ামের কারণে তরমুজের বিচি হৃদপিণ্ড সচল রাখতে সাহায্য করে।
  • অ্যান্টি অক্সিডেন্টের কারণে উচ্চ রক্তচাপ হওয়ার আশঙ্কা কমে। হাইপার-টেনশন দূর হয়।
  • তরমুজের বিচি পানিতে ফুটিয়ে পান করলে রক্তে সুগারের মাত্রা কমে আসার কারণে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে আসবে।
  • তরমুজের বিচি বেটে ত্বকে লাগালে ত্বক ভালো থাকে।
  • তরমুজের বিচির তেল ব্রণ-আক্রান্ত স্থানে লাগালে ব্রণের সমস্যা কমে।
  • তরমুজের বিচি খাবার হজমে সাহায্য করে।
  • তরমুজের বিচি অন্ত্রের প্যারাসাইটের বিরুদ্ধে কাজ করে। যারা জন্ডিসের সমস্যা ও প্রদাহজনিত সমস্যায় ভুগছেন, তাদের জন্য এটি উপকারী।
  • তরমুজের বিচি কিডনি ও প্রস্রাবের সমস্যায় অনেক উপকারী উপাদান।

তরমুজের বিচির চা
তরমুজের বিচির চা শরীর থেকে বিভিন্ন ধরনের পাথর বের করে দিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। এতে শরীরের পেশি ও হৃদপিণ্ড ভালো থাকে। স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধিতেও কাজ করে এই বীজ।

রেসিপি
৪ চা চামচ তাজা তরমুজের বিচি নিন। এরপর এগুলো গুঁড়ো করুন। দুই লিটার পানিতে সেই গুঁড়ো নিয়ে সেদ্ধ করুন মিনিট দশেক। তরমুজের বিচি দিয়ে তৈরি এই চা আপনি সংগ্রহ করে ৪০ ঘণ্টা পর্যন্ত খেতে পারবেন। 

তরমুজের খোসা
বিচির মতো খোসাও নানাভাবে খেতে পারেন। এটাও খুবই স্বাস্থ্য-উপকারী। মূলত তরমুজের খোসা রান্না করে খাওয়া সম্ভব।

খোসার শরবত
উপকরণ
তরমুজের খোসার সাদা অংশ – ১ কাপ, লেবুর রস – ১টা, চিনি – ৬/৭ টেবিল চামচ, লবণ - স্বাদ মতো, বিট লবণ – সামান্য, পুদিনা পাতা – ৫/৬ টা, পানি – প্রয়োজন মতো।

প্রণালি
তরমুজের বাইরের সবুজ খোসা আর ভেতরের লাল অংশ বাদ দিয়ে কেবল ভেতরের সাদা অংশ ছোট করে কেটে নিন।
লেবুর রস, চিনি, লবণ, বিট লবণ, পুদিনা পাতা আর পানি ব্লেন্ডারে নিয়ে ব্লেন্ড করে নিতে হবে।
এবার ছেঁকে নিন, তারপর ফ্রিজে রেখে ঠাণ্ডা করে অথবা বরফ মিশিয়ে পরিবেশন করুন।

খোসা চচ্চড়ি
উপকরণ
মসুর ডাল – ১ কাপ, তরমুজের খোসা – দেড় কাপ (বাইরের সবুজ খোসা বাদ দিয়ে ভেতরের সাদা অংশ), পেঁয়াজ-কুচি – ১টা , রসুন-কুচি – ৩ কোয়া, হলুদ গুঁড়া – প্রয়োজন মতো, কাঁচা মরিচ – ৫/৬টা, ধনেপাতা – ২ চা চামচ, লবণ ও তেল – প্রয়োজন মতো, ঘি – ১ চা চামচ

প্রণালি
মসুর ডালকে কাঁচা মরিচ, ধনেপাতা আর ঘি বাদে বাকি উপকরণগুলোর সঙ্গে একসঙ্গে প্যানে নিয়ে ২ কাপ গরম পানি দিয়ে ঢেকে দিন।
তরমুজের সাদা অংশ সেদ্ধ হয়ে গেলে মসুর ডাল আর কাঁচা মরিচ দিয়ে দিন। পানি কমে গেলে আরো এককাপ গরম পানি দিতে পারেন।
ডাল সেদ্ধ হয়ে গেলে ধনেপাতা আর ঘি ছড়িয়ে নামিয়ে নিন। গরম থাকতেই পরিবেশন করুন।

 

print
 

আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad