মহানগর আ’লীগের নেতৃত্বে হাসনাত-মুরাদ, রহমত-সাদেক

ঢাকা, রবিবার, ২৫ জুন ২০১৭ | ১০ আষাঢ় ১৪২৪

মহানগর আ’লীগের নেতৃত্বে হাসনাত-মুরাদ, রহমত-সাদেক

পরিবর্তন প্রতিবেদক ৮:০১ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ১০, ২০১৬

print
মহানগর আ’লীগের নেতৃত্বে হাসনাত-মুরাদ, রহমত-সাদেক
অবিভক্ত ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগকে উত্তর ও দক্ষিণ ভাগে বিভক্ত করে দুটি কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। এতে দক্ষিণের সভাপতি হিসেবে লালবাগ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসনাত ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সদ্যবিদায়ী অবিভক্ত মহানগর কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ দায়িত্ব পেয়েছেন। অন্যদিকে উত্তরের সভাপতি হিসেবে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সদস্য ও মহানগরের সদ্যবিদায়ী কমিটির সহ-সভাপতি সাংসদ সাংসদ এ কে এম রহমতউল্লা এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মোহাম্মদপুর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাদেক খানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

রোববার সকাল সোয়া ১১টায় আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের দুটি অংশের কমিটির ঘোষণা করেন দলটির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। এ সময় ঢাকা মহানগরের ৪৯টি থানার সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষণা করা হয়।

জানা গেছে, ঢাকা দক্ষিণের সভাপতি হিসেবে বিগত কমিটির প্রয়াত ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এম এ আজিজের নাম চূড়ান্ত ছিল। কিন্তু তার মৃত্যুর পর এই পদে একজন ‘ঢাকাইয়া’কে চাইছিলেন খোদ দলের সভাপতি শেখ হাসিনা। সে হিসেবে লালবাগ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসনাতকে দক্ষিণের সভাপতি করা হয়েছে। গত ১১ মার্চ গণভবনে ডেকে তার সাথে কথাও বলেছেন প্রধানমন্ত্রী।

১৯৮৬ সালে লালবাগ থানা আওয়ামী লীগের প্রথম সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছিলেন হাসনাত, এখনো এ পদে রয়েছেন তিনি। তবে ১৯৯৩ সালে কাউন্সিলর নির্বাচনে সদ্য সাবেক কমিটির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হাজী সেলিমের কাছে নির্বাচনে হেরে যান তিনি। ওই নির্বাচনে ঢাকার মেয়র হয়েছিলেন মোহাম্মদ হানিফ।

দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পাওয়া শাহে আলম মুরাদ সদ্য বিদায়ী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। ১৯৬২ সালে বরিশালে জন্ম নেওয়া এ নেতা ১৯৭৮ সালে তৎকালীন জগন্নাথ কলেজে ভর্তি হন। মূলত এরশাদের সামরিক শাসনামলেই তার রাজনৈতিক উত্থান। ১৯৮০ সালে লালবাগ থানা ছাত্রলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পান। পরে ১৯৮৩ সালে বৃহত্তর ঢাকা মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন তিনি। পরে ১৯৮৪ সালে সাংগঠনিক কাজে বেরিয়ে পুলিশের হাতে আটক হয়েছিলেন এ নেতা।

পরে ২০০৩ সালে মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হন। তবে সম্প্রতি জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের পরিচালিত মাকান গ্রুপের ‘ডিজনি ডিজাইন অ্যান্ড ডেভেলপার লিমিটেড’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান দখলের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে দুদকে মামলা হয়েছে।

এদিকে উত্তরের সভাপতি এ কে এম রহমতউল্লা ১৯৯৪ সালে আওয়ামী লীগে যোগদানের পর মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি হন। পরে ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ থেকে তৎকালীন ঢাকা ৫ আসনের (বাড্ডা-গুলশান-উত্তরা) সাংসদ নির্বাচিত হন। ২০০২ সালে আওয়ামী লীগের কাউন্সিলে তিনি দলটির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য হন, বর্তমানেও তিনি এ পদে বহাল আছেন।

১৯৫০ সালে জন্ম নেওয়া এ নেতার শিক্ষাগত যোগ্যতা এইচএসসি পর্যন্ত।

ঢাকা ১০ আসনের এ সাংসদ তথ্য মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতিও। তিনি এছাড়াও পাইওনিয়ার ইনস্যুরেন্সের চেয়ারম্যান, এফবি ও ফুড বেড ফুটওয়্যারের সভাপতি এবং ট্যানারি, ডাইচিপেক্স টেক্সটাইল মিলস ও এপেক্স প্রপার্টির এমডির দায়িত্বে আছেন।

উত্তরের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান মোহাম্মদপুর এলাকার সাবেক ওয়ার্ড কমিশনার ছিলেন। ২০০২ সাল থেকে বৃহত্তর মোহাম্মদপুর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করে আসছেন তিনি। সাদেক নগর নামে মোহাম্মদপুরে তার নামে একটি এলাকাও গড়ে ওঠেছে।

সর্বশেষ ২০০৩ সালের ১৮ জুন সম্মেলনের মাধ্যমে মেয়র মোহাম্মদ হানিফকে সভাপতি ও মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়াকে সাধারণ সম্পাদক করে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের কমিটি গঠন করা হয়। ২০০৬ সালের ২৮ নভেম্বর মেয়র হানিফ মারা গেলে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে এম এ আজিজকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রতি তিন বছর পর সম্মেলন করার কথা থাকলেও প্রায় সাড়ে ৯ বছর পর ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সর্বশেষ সম্মেলন হয় ২০১২ সালের ২৭ ডিসেম্বর। সম্মেলনে আগের কমিটির সভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) এম এ আজিজ ও সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়াকে নতুন কমিটি ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করতে বলা হয়। পূর্ণাঙ্গ কমিটি ছাড়াই এক মেয়াদেরও বেশি সময় পার হলেও এসময় আগের কমিটির স্ব স্ব পদের নেতারাই দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।

২০০৮ সালে ক্ষমতায় আসার পরপরই সংগঠনকে গতিশীল করতে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগকে দুই ভাগে বিভক্ত করার উদ্যোগ নেয়া হয়। এজন্য ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের পরে উত্তরে কর্নেল (অব.) ফারুক খান এবং দক্ষিণে ড. আব্দুর রাজ্জাককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল নগর কমিটি সমন্বয় করতে। দলের কেন্দ্রীয় কমিটির এই দুই সম্পাদকমন্ডলীর সদস্য ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দল সমর্থিত দুই প্রাথীর নির্বাচনী সমন্বয়ক হিসেবে কাজ করারর অভিজ্ঞতা নিয়ে তারা নগরের উত্তর ও দক্ষিণের কমিটি এবং নগরের থানা, ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন কমিটির খসড়া তালিকা প্রধানমন্ত্রীর কাছে জমা দিয়েছিলেন গত সেপ্টেম্বরে।

কিন্তু গত ২৩ জানুয়ারি এমএ আজিজের মৃত্যুর কারণে নতুন করে দক্ষিণের সভাপতি খুঁজতে গিয়েই মূলত পিছিয়ে যায় কমিটি ঘোষণা।

এদিকে সদ্য বিদায়ী কমিটির সাধারণ সম্পাদক মায়াকে নগরের কোন দায়িত্বে রাখা হয়নি। প্রথমে তিনি নিজেই বিভক্ত কমিটির দায়িত্ব নিতে আগ্রহী হননি। পরে উত্তরের সভাপতি হতে চাইলেও তাকে নগর কমিটিতে রাখা হয়নি। দলের একটি সূত্র জানিয়েছে, মন্ত্রী হওয়ার কারণে তাকে নগর কমিটিতে রাখা হয়নি, তবে দলের প্রেসিডিয়ামে তাকে নেওয়া হতে পারে। নগরের নেতৃত্বের দৌড়ে থাকা আরও কয়েকজন নেতাও দলটির কেন্দ্রীয় কমিটিতে আসছেন বলে গুঞ্জন রয়েছে।
এলআর/এমডি

 

print
 

আলোচিত সংবাদ