যশোরে কৃষিতে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে স্মার্টফোন প্রযুক্তি ব্যবহার

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২২ জুন ২০১৭ | ৮ আষাঢ় ১৪২৪

যশোরে কৃষিতে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে স্মার্টফোন প্রযুক্তি ব্যবহার

পরিবর্তন প্রতিবেদক ১০:৪৫ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ১১, ২০১৬

print
যশোরে কৃষিতে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে স্মার্টফোন প্রযুক্তি ব্যবহার
যশোরের চৌগাছা উপজেলার চাঁদপাড়া গ্রামের কৃষক আবদুল আলীম ১৬ শতাংশ জমিতে বিষমুক্ত বেগুন চাষ করেছেন। সেক্স ফেরোমোন ফাঁদ পদ্ধতিতে চাষ ক্ষেতে বেগুনের ফলন শুরু হয়েছে। জমিতে সার প্রয়োগের প্রয়োজন আছে কি না তিনি বুঝতে পারছেন না। ফোন করলেন স্থানীয় উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা তাপস কুমার ঘোষকে। কৃষকের ফোন পেয়েই ফসলের ক্ষেতে হাজির হন ওই কৃষি কর্মকর্তা। 

যশোরের চৌগাছা উপজেলার চাঁদপাড়া গ্রামের কৃষক আবদুল আলীম ১৬ শতাংশ জমিতে বিষমুক্ত বেগুন চাষ করেছেন। সেক্স ফেরোমোন ফাঁদ পদ্ধতিতে চাষ ক্ষেতে বেগুনের ফলন শুরু হয়েছে। জমিতে সার প্রয়োগের প্রয়োজন আছে কি না তিনি বুঝতে পারছেন না। ফোন করলেন স্থানীয় উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা তাপস কুমার ঘোষকে। কৃষকের ফোন পেয়েই ফসলের ক্ষেতে হাজির হন ওই কৃষি কর্মকর্তা।

এরপর তার কাছে থাকা স্মার্টফোনে বেগুন ক্ষেতের ছবি তুললেন। কৃষকের নাম, ঠিকানা ও মোবাইল নম্বরসহ সেই ছবি আপলোড করলেন সার্ভারে। কিছুক্ষণ পরেই স্মার্টফোনের স্ক্রিনে ভেসে উঠল বেগুন ক্ষেতে অল্প পরিমাণে সার প্রয়োগ করা যাবে। শুধু চাঁদপাড়ার কৃষকরা নয় চৌগাছা উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের কৃষকরা ক্ষেতে বসেই ফসলের নানা সমস্যার সমাধান পাচ্ছেন।

চৌগাছা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহযোগিতায় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার ঢাকা আহছানিয়া মিশন ‘কৃষি সহয়তা প্রকল্পের আওতায় ৩৪ জন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে স্মার্টফোন ও মোটরসাইকেল দেওয়া হয়েছে। গত বছরের জুনে উপজেলায় প্রকল্পটি চালুর পর সাড়া পড়েছে কৃষকদের মধ্যে। এছাড়াও জেলার ৮ উপজেলার ৯১টি ইউনিয়ন কৃষক তথ্য ও পরামর্শ কেন্দ্রের মাধ্যমে কৃষকরা ফসলের নানা সমস্যার সমাধান পাচ্ছেন।

চাঁদপাড়ার কৃষক আবদুল আলীম বলেন, প্রয়োজন হলেই ফোন করি। তারা ক্ষেতে এসে ফোনে ছবি তোলেন। এরপর সমাধান দিয়ে যান ক্ষেতে দাঁড়িয়েই। এটা যাদুর মত মনে হয়।

চাঁদপাড়া গ্রামের কৃষক মাসুদ রানা বলেন, ফসলের রোগ বালাই দমন ও সার প্রয়োগের পরামর্শের জন্য এলাকার কৃষি কর্মকর্তার সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করি। ক্ষেতে এসে ফোনে ছবি তুলে কোথায় যেন পাঠায়। কিছুক্ষণ পরেই জানিয়ে দেয় পরামর্শ। এলাকার কৃষকরা খুব খুশি তাড়াতাড়ি পরামর্শ পেয়ে।’

চৌগাছার নারায়ণপুর ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা তাপস কুমার ঘোষ বলেন, হাতের মুঠোয়
আধুনিক ও তথ্য প্রযুক্তি সেবায় কৃষকরা উপকৃত হচ্ছে। দিনদিন কৃষকরা তথ্য ও প্রযুক্তি সেবায় আগ্রহী হয়ে  উঠছেন। দিনদিন এ প্রযুক্তিতে সাড়া পড়ছে।

এদিকে, গত বুধবার যশোরের চৌগাছা উপজেলার সিংহঝুলি ইউনিয়ন পরিষদের কৃষক তথ্য ও পরামর্শ কেন্দ্রে কথা হয় জগন্নাথপুর গ্রামের কৃষক অহিদুল ইসলাম ও আসাদুল ইসলামের সঙ্গে। তারা জানান, কচু খেতের ডগা সাদা হয়ে গেছে। এখন কী করবেন বুঝতে পারছেন না। তাই পরামর্শ নেওয়ার জন্য এসেছেন। দায়িত্বরত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মেহেরুননেছা কৃষকের সমস্যার কথা শুনলেন। প্রেসক্রিপশন লিখে দিলেন।

মেহেরুননেছা জানান, তারা তিনজন এই ইউনিয়নে দায়িত্ব পালন করছেন। কৃষকরা চাইলে অফিস কিংবা ক্ষেতে সব জায়গায় পরামর্শ দেওয়া হয়।

কৃষক অহিদুল ইসলাম বলেন, খেতে কোনো সমস্যা হলে পরামর্শ নিই কৃষি কর্মকর্তাদের। অনেক সময় আসতে না পারলে ফোন করলেও পরামর্শ পাই।

চৌগাছা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কেএম শাহাবুদ্দিন আহমেদ জানান, এ অঞ্চলে কৃষকের ফসলের সমস্যা সমাধানে স্মার্টফোনে তথ্য ও প্রযুক্তি ব্যবহারে সাড়া পড়েছে। কৃষকরা হাতের নাগালেই মুহূর্তেই সেবা পাচ্ছেন। ৩৪ জন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা কৃষকের ক্ষেতের গিয়ে প্রতিনিয়ত পরামর্শ দিচ্ছেন। এছাড়াও ইউনিয়ন কৃষক তথ্য ও পরামর্শ কেন্দ্রের মাধ্যমে কৃষকরা সেবা পাচ্ছেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর যশোরের উপ-পরিচালক নিত্যরঞ্জন বিশ্বাস বলেন, ৯১টি ইউনিয়নে কৃষক তথ্য ও পরামর্শ কেন্দ্রের মাধ্যমে কৃষকরা সেবা পাচ্ছেন। এছাড়াও চৌগাছা উপজেলায় ঢাকা আহছানিয়া মিশনের একটি প্রকল্পের আওতায় ৩৪ জন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে স্মার্টফোন ও মোটরসাইলে দেওয়া হয়েছে। কৃষক পরামর্শের জন্য স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তাকে ফোন করেন। এরপর স্মার্টফোন নিয়ে ক্ষেতে হাজির হন কৃষি কর্মকর্তা। এরপর স্মার্টফোনে ফসলের ছবি তুলে সার্ভারে আপলোড করা হয়। এরপর সমস্যার পারমর্শ পেয়ে যান কৃষক।

আইআর/বিএইচ

 

print
 

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

আলোচিত সংবাদ