জাতিসংঘ মহাসচিব প্রার্থীদের প্রশ্ন করবে সদস্য দেশগুলো

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২২ জুন ২০১৭ | ৮ আষাঢ় ১৪২৪

জাতিসংঘ মহাসচিব প্রার্থীদের প্রশ্ন করবে সদস্য দেশগুলো

পরিবর্তন প্রতিবেদক ৯:১৯ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ১১, ২০১৬

print
জাতিসংঘ মহাসচিব প্রার্থীদের প্রশ্ন করবে সদস্য দেশগুলো
জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব পদপ্রার্থীদের এবার প্রশ্ন করার সুযোগ পাবে সদস্য দেশগুলো। বিশ্বজুড়ে প্রায় সমস্ত দেশ নিয়ে গঠিত এ আন্তর্জাতিক ও সারা বিশ্বে সবচেয়ে প্রভাবশালী এ সংস্থাটির নিয়োগে ৭০ বছরের দীর্ঘ ইতিহাসে প্রধান পদটিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে এবারই প্রথম এমন কিছু ঘটতে যাচ্ছে। 

জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব পদপ্রার্থীদের এবার প্রশ্ন করার সুযোগ পাবে সদস্য দেশগুলো। বিশ্বজুড়ে প্রায় সমস্ত দেশ নিয়ে গঠিত এ আন্তর্জাতিক ও সারা বিশ্বে সবচেয়ে প্রভাবশালী এ সংস্থাটির নিয়োগে ৭০ বছরের দীর্ঘ ইতিহাসে প্রধান পদটিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে এবারই প্রথম এমন কিছু ঘটতে যাচ্ছে।

এবিসি নিউজ জানিয়েছে, বিশ্বের শীর্ষ কূটনীতিক পদটির জন্য যোগ্য ব্যক্তি বাছাই প্রক্রিয়া আরো স্বচ্ছ করার জন্য এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সাধারণত এতদিন এ নিয়োগ প্রক্রিয়া গোপনে সেরে ফেলা হতো। কিন্তু বর্তমান মহাসচিব বান কি-মুনের উত্তরসূরী কে হবেন, সে বিষয়ে উন্মুক্ততর প্রক্রিয়ায় সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য গত বছর দাবি জানায় অনেকগুলো দেশ।

এরপরই বৈশ্বিক সংকট ও জাতিসংঘের জটিল আমলাতান্ত্রিকতা নিয়ে পদপ্রার্থীদের প্রতিক্রিয়া জানতে গণশুনানির অনুমোদন দিয়ে সর্বসম্মতভাবে একটি রেজোল্যুশন গ্রহণ করা হয়। গত সেপ্টেম্বরে রেজোল্যুশনটি গ্রহণ করা হয়েছে। এটি গ্রহণের ক্ষেত্রে জোর দেওয়া হয়েছে 'সম্ভাব্য সর্বোচ্চ যোগ্যতা থাকার পাশাপাশি লিঙ্গ ও ভূতাত্ত্বিক ভারসাম্য রক্ষা'র প্রয়োজনকেও।

জাতিসংঘ চার্টার অনুযায়ী, সংস্থাটির ১৫ সদস্য বিশিষ্ট নিরাপত্তা পরিষদের সুপারিশের ভিত্তিতে সাধারণ পরিষদের ১৯৩টি সদস্য দেশ মহাসচিব বাছাইয়ের কাজ করে।

প্রচলিত চর্চা অনুযায়ী, পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্য- যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের মধ্যে কোনো একটি দেশ যদি সাধারণ পরিষদের সিদ্ধান্ত পছন্দ না করে, তাহলে তারা ভেটো দেওয়ার ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবে। নতুন নিয়মে পুরোনো এ চর্চায় এবারো কোনো পরিবর্তন আসবে না। বর্তমান মহাসচিব হিসেবে বান কি-মুনের পাঁচ বছরের দ্বিতীয় ও শেষ দফার মেয়াদ শেষ হবে এ বছরের ৩১ ডিসেম্বর।

সাধারণ পরিষদের সভাপতি মোগেনস্‌ লিক্কেটফট সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, পরবর্তী মহাসচিব পদপ্রার্থী হিসেবে আটজনকে বাছাই করা হয়েছে। তাদের প্রত্যেকের জন্য বরাদ্দ দুই ঘণ্টার গণ আলোচনা শুরু হবে মঙ্গলবার থেকে। এ আলোচনায় 'খেলা উলটে যেতে পারে' বলেও জানিয়েছেন তিনি।

তবে মহাসচিব হওয়ার দৌড়ে প্রতিদ্বন্দ্বীদের অবস্থান অস্পষ্ট হলেও সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রভাব খাটাবে নিরাপত্তা পরিষদ।

এছাড়া প্রচলিত নিয়ম অনুসারে মহাসচিবের পদটি একেক সময় একেক অঞ্চলকে ঘিরে আবর্তিত হয়ে এসেছে। রাশিয়াসহ পূর্ব ইউরোপের বিভিন্ন দেশ অভিযোগ জানিয়ে বলেছে, গত ৭০ বছরে এসব দেশ থেকে এখনো কেউ জাতিসংঘ মহাসচিব পদে বসেননি। তাই নিয়ম অনুযায়ী এবার এই দেশগুলো থেকে কাউকে মহাসচিব হিসেবে নির্বাচিত করার কথা। এছাড়া পদটিতে কোনো নারীও এখন পর্যন্ত নিয়োগ পাননি, যার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে মহাসচিব পদে নারী নিয়োগে সমর্থন জানিয়েছে অনেকগুলো দেশ।

'পদপ্রার্থী হিসেবে নারী প্রতিনিধিদের বিবেচনা'র জন্য সবগুলো দেশের প্রতি আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে রেজোল্যুশনে। কিন্তু একইসঙ্গে তাদের সর্বোচ্চ যোগ্যতাসম্পন্ন হতে হবে বলেও জোর দেওয়া হয়েছে।

বান কি-মুনের উত্তরসূরী হিসেবে পদপ্রার্থী বর্তমান আট প্রতিদ্বন্দ্বীর মধ্যে চারজন নারী ও চারজন পুরুষ। এদের মধ্য থেকে ছয়জন পূর্ব ইউরোপের, একজন পশ্চিম ইউরোপের এবং একজন এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের।

এরা হলেন- মেসিডোনিয়ার সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী সেরজেন কেরিম; ক্রোয়েশিয়ার সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভেসনা পুকিক; মন্টিনিগ্রোর সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইগোর লুকসিক; স্লোভেনিয়ার সাবেক রাষ্ট্রপ্রধান ড্যানিলো তুর্ক; জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি বিষয়ক মহাপরিচালক বুলগেরিয়ার নাগরিক ইরিনা বোকোভা; মোলডোভার সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী নাটালিয়া গ্যেরম্যান; জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর'র সাবেক প্রধান ও পর্তুগালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী অ্যান্তোনিও গ্যুতেরেস; এবং জাতিসংঘের উন্নয়ন সংস্থা ইউএনডিপি'র প্রধান ও নিউজিল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী হেলেন ক্লার্ক।

আরো অনেক পদপ্রার্থীর নাম পাওয়া যাবে বলেও জানিয়েছেন লিক্কেটফট। তবে এ সংখ্যা আনুমানিক কতজন হতে পারে, তা জানাতে পারেননি তিনি।

মহাসচিব হওয়ার দৌড়ে অংশ নেওয়ার জন্য কোনো নির্ধারিত সময় নেই। তবে জুলাই মাস শেষ হওয়ার আগেই প্রার্থীদের প্রাথমিক বাছাইয়ের কাজ শেষ করার প্রত্যাশা রয়েছে নিরাপত্তা পরিষদের, জানিয়েছেন কূটনীতিকরা। নিরাপত্তা পরিষদের ১৫টি সদস্য দেশ 'উৎসাহী' ও 'অনুৎসাহী' হিসেবে প্রত্যেক প্রার্থীর জন্য একটি করে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবে। ফলাফল প্রকাশ্যে ঘোষণা করা হবে।

শেষ মুহূর্তে পদপ্রার্থীদের তালিকায় যোগ দিতে পারেন আরো দুই নারী- জার্মান রাষ্ট্রপ্রধান অ্যাঙ্গেলা মার্কেল এবং ইউরোপীয় কমিশনের বাজেট বিষয়ক প্রধান ও বিশ্বব্যাংকের সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তা বুলগেরিয়ার আরেক নাগরিক ক্রিস্টালিনা জর্জিভা। তবে মার্কেল জাতিসংঘের মহাসচিব হতে আগ্রহী নন বলেই শোনা যাচ্ছে।

বিশ্বজুড়ে অনেক দেশেরই অভিযোগ- জাতিসংঘের মহাসচিবরা সংস্থাটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালনের চাইতে নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্য বা পাঁচ বিশ্বশক্তির সচিব হিসেবেই বেশি দায়িত্ব পালন করেন, যা বাকি দেশগুলোর জন্য সংকটের কারণ হয়ে থাকে বা হতে পারে। তাই পরবর্তী মহাসচিব যেন বিশ্বশক্তির অধীতানতামুক্ত হয়ে কাজ করতে পারেন এবং সেজন্য তুলনামূলক দীর্ঘকালীন একটি মেয়াদ পান, সেজন্যও প্রচারণা চলছে।

পাঁচ বছরের এক মেয়াদ দীর্ঘ করে সাত বছর করার পক্ষে এ প্রচারণাকে অনুমোদন দিয়ে সাধারণ পরিষদ কোনো রেজোল্যুশন গ্রহণ করা হবে কিনা, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

গণআলোচনা মঙ্গলবার শুরু হয়ে চলবে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত। প্রত্যাশিত নতুন প্রার্থীদের জন্য পরবর্তীতে দ্বিতীয় দফায় আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।

গণ আলোচনায় অংশ নেবেন না বর্তমান মহাসচিব দক্ষিণ কোরিয়ার নাগরিক বান কি-মুন।

এনকে/এসজে

 

print
 

আলোচিত সংবাদ