২ মন্ত্রীর শাস্তি বার্তা দেয়- দায়িত্বশীলরা সতর্কভাবে কথা বলবেন

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৯ অক্টোবর ২০১৭ | ৪ কার্তিক ১৪২৪

২ মন্ত্রীর শাস্তি বার্তা দেয়- দায়িত্বশীলরা সতর্কভাবে কথা বলবেন

পরিবর্তন প্রতিবেদক ৮:৪২ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ১১, ২০১৬

print
২ মন্ত্রীর শাস্তি বার্তা দেয়- দায়িত্বশীলরা সতর্কভাবে কথা বলবেন
খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। সাবেক এ ছাত্রনেতা সংসদ সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। ক্লিন ইমেজের কারণে রাজনৈতিক অঙ্গনে যথেষ্ট সুনামের অধিকারী তিনি। সমসাময়িক রাজনীতি, সরকারের নানা কর্মকাণ্ড, আওয়ামী লীগের বিভিন্ন দিকসহ দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে সম্প্রতি তার সঙ্গে কথা হয় পরিবর্তন ডটকমের। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন পরিবর্তন ডটকমের প্রতিবেদক লুৎফর রহমান সোহাগ। 

খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। সাবেক এ ছাত্রনেতা সংসদ সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। ক্লিন ইমেজের কারণে রাজনৈতিক অঙ্গনে যথেষ্ট সুনামের অধিকারী তিনি। সমসাময়িক রাজনীতি, সরকারের নানা কর্মকাণ্ড, আওয়ামী লীগের বিভিন্ন দিকসহ দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে সম্প্রতি তার সঙ্গে কথা হয় পরিবর্তন ডটকমের। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন পরিবর্তন ডটকমের প্রতিবেদক লুৎফর রহমান সোহাগ

প্রথমবার দলীয় প্রতীকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন হচ্ছে, দুই ধাপের নির্বাচন শেষে বিষয়টি কীভাবে মূল্যায়ন করছেন?
এবারের নির্বাচন নতুন আঙ্গিকে হচ্ছে, দলীয় প্রতীকে। এর জন্য ভোটার কিংবা প্রার্থীরা প্রস্তুত ছিল না। আগে প্রার্থীরা ব্যক্তিগতভাবে প্রায় চার বছর যাবত নির্বাচনের প্রস্তুতি নিত। সেখানে দলীয় প্রতীক এল। এই যে চার বছরের জন্য যারা প্রস্তুতি নিয়েছেন, হঠাৎ তাদের বাদ দিয়ে একজন প্রার্থী নির্ধারণ করা কঠিন বিষয়। আগে প্রার্থী ৩০-৪০ জনকে সঙ্গে নিয়ে প্রচারণা চালাত। এখন একটি ইউনিয়নে আমাদের দলীয়ভাবে কমপক্ষে ১ হাজার এনলিস্টেট নেতাকর্মী আছে। তাদের নির্বাচনে সম্পৃক্ত করা, মেইনটেন করা একটা বিরাট চাপ। সম্পূর্ণ নতুন এ বিষয়গুলো মোকাবেলা করে নির্বাচনের যে পর্যায় আমরা শেষ করলাম, এটা শত সংকটের মধ্যেও বিরাট সাফল্য।

দুই ধাপেই সহিংসতা ও প্রাণহানির ঘটনায় নির্বাচনকে ঘিরে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। এ ব্যাপারে আপনার বক্তব্য কী?
দেশের রাজনীতি কখনোই শান্ত ছিল না। এই যে সাংঘর্ষিক একটি মনোবৃত্তি আমাদের রাজনীতির মধ্যে ঢুকে গেছে, এখান থেকে আমরা বেরিয়ে আসতে পারছি না। এই নির্বাচনের ৩-৪ বছর আগেও পুরো দেশটা রণক্ষেত্র ছিল। মানুষ পোড়ানো হইছে, স্কুল পোড়ানো হইছে। এরকম সাংঘর্ষিক রাজনীতি অতিক্রম করে আমরা সকল রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনী ব্যবস্থার মধ্যে গেছি, এটা একটা বড় সাফল্য। কিন্তু যারা সংঘর্ষের শিকার হচ্ছে, তাদের তো বড় ক্ষতিই হচ্ছে। নির্বাচন কমিশন, আমরা যারা রাজনীতি করি, ভোটার, আইনশৃঙ্খলাবাহিনী- সবারই এ বিষয়ে দায়িত্ব আছে। অথচ এখানে একে অপরের প্রতি দোষ চাপানোর প্রতিযোগিতা চলছে। কিন্তু আমরা আমাদের দায়িত্বটা কেউ চিন্তাও করছি না। এ চিন্তা করলে সংঘর্ষ অনেক কমে আসবে। কারণ এতবড় একটা নির্বাচন দু-চারটা ঘটনায় প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। এ বিষয়টি আমলে নিতে হবে, যেন ঘটনাগুলো আর না ঘটে সে ব্যাপারে পদক্ষেপ নিতে হবে।

এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের উপায় কী?
শাস্তি নিশ্চিত করতে পারলে অপরাধ ধীরে ধীরে কমে আসবে। আর পৃথিবীর যেকোনো নির্বাচন কমিশনের চেয়ে আমাদের কমিশন অনেক বেশি শক্তিশালী। কিন্তু তারা যখন ক্ষমতা প্রয়োগ করতে যাবে, তখন আমরা রাজনৈতিকভাবে হস্তক্ষেপ করে বিষয়টি অন্যদিকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করি। এগুলো যতদিন সমাধান না হবে ততদিন সাংঘর্ষিক বিষয়গুলো দূর হবে না। শুধু নির্বাচন না, পুরো ক্যানভাসটা তুলে না আনলে নির্বাচনী ব্যবস্থা সংঘর্ষমুক্ত হবে না।

অনেকে বলছেন দলীয় প্রতীকে ইউপি নির্বাচন তৃণমূলে গণতন্ত্রের জন্য ইতিবাচক না, নেতৃত্বের বিকাশের অন্তরায়। আপনি কী মনে করেন?
অবশ্যই ইতিবাচক সিদ্ধান্ত। আমরা যে দলের রাজনীতি করি, এ আদর্শিক রাজনীতিটা কেবল সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত সীমাবদ্ধ ছিল। এ আদর্শিক রাজনীতিটা এখন স্থানীয় পর্যায়ে চলে গেল, এটাই হওয়া উচিত। কারণ নির্দলীয় নির্বাচনে হলে চেয়ারম্যানের নিজস্ব একটি মতামত ইউনিয়নে চলে আসে, সেখানে দলীয়ভাবে নির্বাচন হলে ইচ্ছে করলেই চেয়ারম্যান যা ইচ্ছে তা করতে পারবে না, দলের একটা কন্ট্রোলিং থাকবে।

আপনাদের প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে নানা অভিযোগ রয়েছে। যুদ্ধাপরাধীর সন্তানকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে- এমন অভিযোগও উঠেছে।
আমরা যুদ্ধাপরাধীদের ওন করি না, তাই মনোনয়ন না পেয়ে অনেকে খুব কমন এ অভিযোগটি করছে। এগুলো ঠিক না। তবে অভিযোগগুলো আমরা ফেলেও দিচ্ছি না। সত্যতা পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিএনপির কাউন্সিলে দলটির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতায় ভারসাম্য আনা, দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ, ভিশন ২০৩০ সহ নানা প্রস্তাব তুলেছেন। এ বিষয়ে আওয়ামী লীগ কী ভাবছে? 
যেখানে এককক্ষ বিশিষ্ট পার্লামেন্টেই আমরা ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারি নাই, সেখানে দুই কক্ষের কথা বলে তিনি কাকে লোভ দেখাচ্ছেন? কিছু সুশীল আছেন, যারা তত্বাবধায়ক সরকারের জন্য বসে থাকতেন, তারা খালেদা জিয়ার এ প্রস্তাবের জন্য বসে থাকবেন।

আর ভিশন ২০৩০ যেটা বলা হচ্ছে, এটা ভাইরাস কর্মসূচি, ভিশন না। কারণ বিএনপির রাজনীতিতে দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য কল্যাণকর কিছু নাই। দেশের প্রতি যদি তাদের ইতিবাচক চিন্তা থাকতো তাহলে ৯০’র গণঅভুত্থানের পর ৩ জোটের রুপরেখা বাস্তবায়নে তারা পদক্ষেপ নিত। জিয়া-এরশাদের সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের পর রাজনীতিতে যে সর্বশেষ ঐকমত্যের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছিল, ৩ জোটের রুপরেখাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে, ৫ দল ও ১৫ দলকে পাশ কাটিয়ে তারা জামায়াতের সাথে সরকার গঠন করেছে। সে কারণেই দেশ পিছিয়ে গেছে, জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসবাদ-লুটেরা-দুর্নীতিবাজ তৈরি হয়েছে। কাজেই খালেদা জিয়ার কোনো ভিশন নাই। তিনি রাজনীতির জন্য একটা জীবন্ত ভাইরাস। এ ভাইরাসকে আমরা যদি দূরে সরাতে না পারি তাহলে দেশের অমঙ্গল হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির বিষয়টি সরকারকে বিব্রত করেছে?
জনগণের মধ্যে তো এ বিষয়টা নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে, এটা সঠিক। তবে আটশ কোটি টাকা কিন্তু পৃথিবীর বাইরে কোথাও যায়নি, অতএব তার সন্ধান অবশ্যই পাওয়া যাবে, ফেরতও আসবে। সবচেয়ে বড় কথা বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন যে জায়গায় গেছে, তাতে বিশ্ববাসীর চোখও পড়েছে।

আর আমাদের ব্যাংকিং সেক্টরে যে ধরনের ঘটনা ঘটেছে, কোনোটাতেই কিন্তু কেউ পার পেয়ে যায়নি। হলমার্ক বলেন, ডেসটিনি বলেন, বেসিক ব্যাংক বলেন; প্রত্যেকটি ঘটনাই আইনের আওতায় আনা হয়েছে। এর আগে ব্যাংকই লুট হয়ে গেছে, কোনো মামলা-মোকাদ্দমা হয়নি। আমরা জানি, বিএনপির সময় ওরিয়েন্টাল ব্যাংকে কী ঘটনা ঘটেছে। এখন কিন্তু আইনের আওতায় আনা হচ্ছে, তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। আর বাংলাদেশ ব্যাংকের ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে সরকার ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। যাদের যে ব্যর্থতা ছিল সেগুলোকে চিহ্নিত করা হয়েছে। স্ব স্ব দায়িত্ব থেকে তারা সরে গেছেন। ইনভেস্টিগেশন চলছে, কেউ যদি অপরাধী হন তাকে অবশ্যই আইনের আওতায় আসতে হবে। এ ঘটনাগুলো ঘটা যেমন কখনোই শুভ না, আবার ঘটার পর যে শক্তভাবে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, সেটিও ইতিবাচক দিক। 

সম্প্রতি আদালত অবমাননার দায়ে দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মত দুইজন মন্ত্রীকে শাস্তি পেতে হয়েছে। দল ও সরকার বিষয়টি কীভাবে দেখছে?
তারা কিন্তু চুরি, ডাকাতি, দুর্নীতি করে অভিযুক্ত হননি। তারা অভিযুক্ত হয়েছেন এমন একটি বিষয়ে যার সাথে ১৬ কোটি মানুষের অনুভূতি জড়িত। আমরা সবাই যুদ্ধাপরাধীদের সর্বোচ্চ বিচার চাই। সে কথাটা ব্যক্ত করতে গিয়ে তাদের আরও বেশি সতর্ক হওয়া উচিত ছিল। তবে ২ মন্ত্রীর শাস্তির ঘটনার মধ্য দিয়ে আমাদের মধ্যে একটা বার্তা গেল যে, ভবিষতে যারা দায়িত্বশীল জায়গায় আছেন তারা আরও সতর্কভাবে কথা বলবেন।

বিএনপির পক্ষ থেকে মাঝেমধ্যেই মধ্যবর্তী নির্বাচনের কথা বলা হচ্ছে। আপনাদের কয়েকজন শীর্ষ নেতাও কখনো কখনো জাতীয় ও আন্তর্জাতিক চাপের কথা বলে থাকেন। সে চাপটি আসলে কী?
এগুলো রাজনৈতিক কথাবার্তা। যারা বলে তারাই চাপটি বুঝতে পারেন, আমরা বুঝি না। ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে থেকেই শুনছি, চাপ আছে। চাপের মধ্যেও নির্বাচন হল, আড়াই বছর চলে গেল। চাপের মধ্যে থাকলে সরকার এত উন্নয়ন করছে কীভাবে? আমরা বলেছিলাম রাজনৈতিক উন্নয়ন দরকার, সেটাও হচ্ছে। গত একদশক যাবত রাজনৈতিক যে স্থিতিশীলতা আছে, বাংলাদেশের ইতিহাসে এমন স্থিতিশীলতা কখনোই ছিল না। যারা জ্বালাও পোড়াওয়ের রাজনীতি করতো তারাও এখন সমঝোতার কথা বলছে। এটাও বর্তমান সরকারের সাফল্য। এ সাফল্যকে সরিয়ে উল্টা দিকে হাঁটার কোনো মানে নেই। নির্বাচন হবে, আরো আড়াইবছর পর। যেহেতু বিএনপি এখন নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে, আগামীতেও তারা নির্বাচনে অংশ নিবে; তাদের কথাতে তাই মনে হচ্ছে।

সামনেই আওয়ামী লীগের সম্মেলন। এ সম্মেলনকে ঘিরে দলের প্রত্যাশা কী?
দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য, মানুষের অধিকারের পক্ষে কথা বলার জন্য, জনগণের উন্নয়নের জন্য যে ধরনের নেতৃত্ব প্রয়োজন কাউন্সিলররা সে ধরনের নেতৃত্বই জাতিকে উপহার দিবে, এটিই আমার বিশ্বাস। কারণ আওয়ামী লীগ বর্তমানের চিন্তাভাবনাগুলোকে ধারণ করেই সিদ্ধান্ত নেয় ভবিষতের জন্য।

সম্মেলনে দলের গঠনতন্ত্রে ও নেতৃত্বে বেশকিছু পরিবর্তন আসছে শোনা যাচ্ছে।
এটা কাউন্সিলররাই নির্ধারণ করবে।

আওয়ামী লীগের বর্তমান অবস্থান কতটা সংহত? এ মুহূর্তে দলের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কী?
মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। এটা বাস্তবায়নে আর কোনো ধরনের ষড়যন্ত্রই বাধা দিতে পারবে না। কারণ শত্রু যেহেতু চিহ্নিত হয়ে গেছে অতএব আমদের জয় হবেই।

এলআরএস/এইচএসএম

 

 

print
 

আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad