‘সমাজ বীরাঙ্গনা শব্দটার সঠিক ব্যাখ্যা দাঁড় করাতে পারেনি’

ঢাকা, বুধবার, ২৩ আগস্ট ২০১৭ | ৮ ভাদ্র ১৪২৪

‘সমাজ বীরাঙ্গনা শব্দটার সঠিক ব্যাখ্যা দাঁড় করাতে পারেনি’

পরিবর্তন প্রতিবেদক ৮:৩৬ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ১১, ২০১৬

print
‘সমাজ বীরাঙ্গনা শব্দটার সঠিক ব্যাখ্যা দাঁড় করাতে পারেনি’
সুরমা জাহিদ বীরাঙ্গনা (সম্প্রতি বীরাঙ্গনাদের মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি ও মর্যাদা দেয়া হয়েছে এবং হচ্ছে) মর্মন্তুদ জীবনের রোজনামচা জাতির সামনে হাজির করে মেটাচ্ছেন ইতিহাসের দায়। দেশের নানাপ্রান্তের তালাশ পাওয়া বীরাঙ্গনাদের মুখোমুখি হওয়ার অভিজ্ঞতা তিনি অকপটে বয়ান করেছেন পরিবর্তন ডটকমের কাছে। বিস্তারিত জানাচ্ছেন মোজাফফর হোসেন 

সুরমা জাহিদ বীরাঙ্গনা (সম্প্রতি বীরাঙ্গনাদের মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি ও মর্যাদা দেয়া হয়েছে এবং হচ্ছে) মর্মন্তুদ জীবনের রোজনামচা জাতির সামনে হাজির করে মেটাচ্ছেন ইতিহাসের দায়। দেশের নানাপ্রান্তের তালাশ পাওয়া বীরাঙ্গনাদের মুখোমুখি হওয়ার অভিজ্ঞতা তিনি অকপটে বয়ান করেছেন পরিবর্তন ডটকমের কাছে। বিস্তারিত জানাচ্ছেন মোজাফফর হোসেন

বীরাঙ্গনাদের নিয়ে কাজ করার ব্যাপারে আপনার আগ্রহ হল কিভাবে?
আমি ছোটবেলায় পরিবারে বড়দের মুখে মুক্তিযুদ্ধের কথা শুনতাম। মুক্তিযোদ্ধাদের গল্প গর্বভরে করা হত। কিন্তু বীরাঙ্গনাদের প্রসঙ্গ আসলেই সকলে চুপ হয়ে যেতেন। তাদের চুপ হয়ে যাওয়া থেকেই আমার আগ্রহ বেড়ে যেত। একদিন বাবার কাছে প্রশ্ন করলাম, ‘বাবা, বীরাঙ্গনা কি বা কারা?’ বাবা বললেন, ‘যুদ্ধেরই একটা অংশ। তুমি বড় হও সব জানতে পারবে।’ যখন বুঝতে পারলাম তখন বীরাঙ্গনাদের কষ্টটা কি সেটা জানার আগ্রহ তৈরি হল। আমাকে বলা হল, এরা মুক্তিযুদ্ধে নির্যাতিত, নিগৃহীত। কিন্তু নির্যাতিত কোন অর্থে সেটা বুঝতাম না। তাই মনে মনে খুঁজতে থাকলাম বীরাঙ্গনাদের। 

কবে থেকে বীরাঙ্গনাদের নিয়ে কাজ করার শুরু?
নব্বই দশকের শেষের দিকে আমি বেবি আপার (বেবি মওদুদ) সঙ্গে দেখা করি বীরাঙ্গনাদের ঠিকানা সংগ্রহ করার জন্যে। আমার বয়স তখন কম দেখে বেবি আপা প্রথমে ভরসা পাননি। ভেবেছেন এই বয়সে আমি আর কি কাজ করব। পরে উনি আমাকে যতটুকু পারেন সহযোগিতা করেন। তখন আমি দৈনিক ইত্তেফাকে মতামত লিখি। রাহাত ভাই (রাহাত খান)-এর কাছে সহযোগিতা চাইলাম। তিনিও কিছু যোগাযোগের ক্ষেত্র তৈরি করে দিলেন। 

আপনি ব্যক্তিগতভাবে প্রান্তিক পর্যায়ে গিয়ে কাজটি কিভাবে করেন?
আমার স্বামী মৎস্যবিভাগে চাকরি করেন। প্রতিটা উপজেলায় উনাদের আঞ্চলিক অফিস আছে। ঐ আঞ্চলিক অফিসারদের ফোন দিয়ে তথ্য সংগ্রহ করেছি। যখন সেখানে নিজে গেছি, তখন তারা আমার থাকার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন।

এ পর্যন্ত কতজন বীরাঙ্গনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পেরেছেন? 
পাঁচশ’র উপরে।

তাদের সঙ্গে আপনার আলাপচারিতা নিয়ে কয়টি বই প্রকাশিত হয়েছে? 
বীরাঙ্গনাদের নিয়ে ৫টি বই প্রকাশিত হয়েছে। আর এই ৫টি বই থেকে নির্বাচিত অংশ ইংরেজিতে অনুবাদ হয়ে  একটি বই প্রকাশ করেছে বাংলা একাডেমি।  

‘বীরাঙ্গনা’ তো কোনো নেতিবাচক শব্দ না। এর অর্থ, বীর নারী; যে নারী বীরত্বের কাজ করে তাকে এই খেতাব দেয়া হয়। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নিজে যুদ্ধে নির্যাতনের শিকার নারীদের বীরাঙ্গনা খেতাব দিয়েছিলেন। কিন্তু শব্দটি ইতিবাচকভাবে সমাজ গ্রহণ করেনি। এটার কারণ আপনার কাছে কি মনে হয়?

এই শব্দটার অর্থ ভালো, ঠিক আছে; কিন্তু আমরা একাত্তরের প্রেক্ষাপটে যাদের বীরাঙ্গনা বলছি, তারা মনে করেন এটি খুবই ঘৃণার একটি শব্দ। তারা এই শব্দ দ্বারা চিহ্নিত হলে লজ্জা পান। কারণ সমাজ বীরাঙ্গনা শব্দটার সঠিক ব্যাখ্যা দাঁড় করাতে পারেনি। পারেনি মানে চাইনি বলে পারেনি। আমার মনে হয়, এক্ষেত্রে শব্দটা অন্য কোনো শব্দ হলেও একই সমস্যা হত। কারণ মানসিকতায় সমস্যা থাকলে ‘নাম’ বদলে তো কোনো সুফল আসবে না।

এই সরকার তো বীরাঙ্গনা নারীদের মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। এতে কি কোনো সুফল আসবে?
আমার মনে হয় খুব একটা পরিবর্তন হবে না। কারণটা বলি, মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে একজন নারী সর্বোচ্চ নয় মাস নির্যাতনের শিকার হতে পারেন, এর বেশি না। কেউ কেউ একদিনও হয়েছেন, কিংবা একঘণ্টাও। কিন্তু স্বাধীনতার পর তারা আরো দীর্ঘ সময় নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। দেশ স্বাধীন হওয়া ৪৫ বছর হয়ে গেল, এখনো তাদের নির্যাতন কিন্তু বন্ধ হয়নি।

একাত্তরের পরে নির্যাতনের প্রকৃতিটা কেমন ছিল? আপনি তাদের সঙ্গে কথা বলে কি জেনেছেন?
আশি শতাংশ বীরাঙ্গনা নারী স্বাধীন দেশে পরিবারের ভেতরেই নানা ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন; নির্যাতনকারীরা বলেছে, তোদের তো ইজ্জত চলেই গেছে! এই লজ্জার কথা তারা কিন্তু প্রকাশ করতে পারছেন না। কোনো কোনো রাতে এলাকার প্রভাবশালীরা তাদের তুলে নিয়ে যেত। একজন আমাকে বলেছেন, দেশ স্বাধীন হওয়ার দুইমাস পর থেকে প্রতি রাতে তার ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছে। স্থানীয়রা সেই নির্যাতন চালিয়েছে। এটা এক ধরনের নির্যাতন। অন্য ধরনের নির্যাতনও আছে। অনেকের হয়ত বীরাঙ্গনা পরিচয়টা লুকিয়ে পরিবার বিয়ে দিয়েছে। সেটি পরে প্রকাশ পেয়ে গেলে স্বামী নির্যাতন করে বের করে দিয়েছে। তার আর কিন্তু বিয়ে হয়নি, হলেও সেই স্বামীর কাছেও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। কুমিল্লার একটা ঘটনা বলি। একাত্তরে যখন তিনি নির্যাতনের শিকার হন, তখন তার বয়স খুবই কম। এত নির্যাতন করা হয়েছিল যে তার কোমরের হাড়ের জয়েন্ট খুলে গিয়েছিল। পরে তার বিয়ে হয়, বিয়ের পাঁচবছরের মাথায় তার স্বামী আরেকটা বিয়ে করে। তখন তাকে আলাদাভাবে ছোট্ট করে একটা ঘর করে দেয় থাকার জন্যে। চাল-ডাল কিছু দেয় না। অথচ গ্রামে তার স্বামী বিত্তশালী মানুষ। বয়স বেড়েছে এবং কোমরের হাড়ের জয়েন্টের ব্যথাটা বাড়ার কারণে এখন তিনি ভাল করে হাঁটতেও পারেন না যে ভিক্ষা করে খাবেন। এমন অসহায়ভাবে তিনি বেঁচে আছেন।   

একটা পাহাড়ি অঞ্চলের ঘটনা বলি। খাগড়াছড়িতে চেন্নায় মারমা নামের এক উপজাতি মেয়েকে পাকিস্তানীরা ক্যাম্পে নিয়ে সাতদিন এমন নির্যাতন করে যে তার মৃতপ্রায় অবস্থা হয়। পরে একজন ক্যাপ্টেন তার চিকিৎসা করে তার আন্ডারে রক্ষিতা হিসেবে রেখে দেয়। সেই ক্যাপ্টেন প্রতিদিনই পাহাড়ি মেয়েদের তুলে এনে নির্যাতন করত। সেটি দেখে চেন্নায় মারমা ক্যাপ্টেনকে একদিন অনুরোধ করে বলল, আপনি যত ইচ্ছে আমার ওপর নির্যাতন করেন, আমি বাধা দেবো না, শর্ত হল আপনি আর কোনো পাহাড়ি মেয়ের ওপর নির্যাতন করবেন না। পরে ক্যাপ্টেন তার কথা মতো আর কোনো পাহাড়ি মেয়েকে উঠিয়ে আনে নি। সে নির্যাতন সহ্য করে পাহাড়ি নারীদের রক্ষা করেছে। কিন্তু দেশ স্বাধীন হওয়ার পর যখন চেন্নায় মারমা গ্রামে ফিরে এলো, সমাজ-পরিবার তাকে গ্রহণ করল না। বাবা বলল, তুমি থাকলে আমার আর মেয়েদের বিয়ে হবে না। তখন সে স্বেচ্ছায় জঙ্গলের ভেতর এক পাহাড়ের ওপর আশ্রয় নিলো। একা একা। আজ পর্যন্ত সমাজ তাকে গ্রহণ করেনি। এখনো সে সেই পাহাড়ে থাকে। আগে রাস্তায় পরিচয় গোপন করে দিনমজুরের কাজ করত। এখন বয়স হওয়ার কারণে তাও পারে না। আমি নিজে তার কষ্টের জীবন দেখে এসেছি।

একেকটা ঘটনা একেক রকম। আর একটা ঘটনা বলি। গাজীপুর কাপাসিয়ায় মনোয়ারা বলে এক নারীকে যুদ্ধ-চলাকালে নির্যাতন করে পাক আর্মিরা। এক ক্যাপ্টেন তাকে পাকিস্তান নিয়ে যায়। সেখানেও তার ওপর অকথ্য নির্যাতন চালানো হয়। পরে তাকে ফ্রান্সে চুক্তিভিত্তিক বিক্রি করে দেয়া হয়। সেখান থেকে আবার পাকিস্তানে আনা হয়। যখন তার বয়েস হয়ে যায় তখন তাকে রাস্তায় ছেড়ে দেয়া হয়। আধপাগল হয়ে পাকিস্তানে কয়েকজন বাঙালির সঙ্গে তার সাক্ষাৎ ঘটে। পরে তাকে সেই বাঙালিরা সুস্থ করে বাংলাদেশে পাঠায়। সময়টা বোধহয় ২০০০ সালের পরে। দেশে পরিবার মনোয়ারাকে গ্রহণ করেনি। কোনোমতে থাকার একটা জায়গা দিয়েছিল। আমি দেখেছি, দেশে ফিরেও সে অমানবিক জীবনযাপন করেছে। সবসময় সে একটা বোরকা পরে থাকত। উর্দু-বাংলা মিশিয়ে কথা বলত। কিছুদিন আগে মারা গেছে।          

এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম নিশ্চয় আছে?
হ্যাঁ, বেশ কিছু ব্যতিক্রম ঘটনাও আছে। এমন অনেক পরিবার আছে যেখানে বীরাঙ্গনা নারীদের পরিবার খুব ভালোভাবে গ্রহণ করেছে। বীরাঙ্গনা পরিচয় জেনেই বিয়ে করেছেন। যেমন কক্সবাজারের ওদিকে তারা মোটামুটিভাবে মেনে নিয়েছে। ওরা স্বীকার করে নিয়েছে যে, এটা একটা দুর্ঘটনা। টেকনাফে অনেকের সঙ্গে কথা বলে জেনেছি, ওরা গর্ববোধ করে। কয়েকজন আমাকে বলেছেন, আমি স্বামী হয়ে আমার স্ত্রীর এই পরিচয়ে গর্ববোধ করি।

সন্তানদের প্রতিক্রিয়া কেমন ছিল? 
সবখানে এক রকম না। জামালপুরের একটা ঘটনা বলি, উনার সামনে ধানক্ষেতে স্বামীকে মেরে ফেলে পাকিস্তানী সৈন্যরা। এরপর শিশুকন্যার সামনে তার ওপর অকথ্য নির্যাতন চালায়। গ্রামে তখন একটা প্রচলিত নিয়ম ছিল, বাবা বেঁচে থাকতে ছেলে মারা গেলে তার বৌকে সম্পত্তির ভাগ দেয়া হবে না। অথচ ঐ বীরাঙ্গনার শ্বশুর তার নামে সম্পত্তি লিখে দিয়েছেন। তার ভাসুর আত্মীয় স্বজন সকলে মেনে নিয়েছে। তারপর ঐ বীরাঙ্গনা সেই জমি বিক্রি করে মেয়েদের বিয়ে দিয়েছেন। একটাই ছেলে। যখন নিঃস্ব হওয়ার অবস্থা তখন গ্রামের লোকজনই তার ছেলেকে গ্রামের স্কুলে একটা চাকরির ব্যবস্থা করে দিয়েছে। ছেলে যেই চাকরি পেয়েছে অমনি মাকে ‘নষ্ট’ বলে আলাদা করে দিয়েছে। ভাসুরের ছেলে তার এখন ভরণপোষণ দেয়। 

নেত্রকোনায়ও একটা পরিবার দেখেছি, যেখানে সন্তানরা মার পরিচয় দেয় না। তবে সিলেটে আবার উল্টো চিত্র দেখেছি। ওখানে এক ছেলে তার বীরাঙ্গনা মাকে খুবই শ্রদ্ধা করে। তার দুই মা, দুজনই একাত্তরে নির্যাতনের শিকার হন। বাবা এখন মৃত। সে দুজন মায়েরই দেখাশুনা করে। এক-পরিবারে মা তার তিন মেয়েসহ পাকিস্তানীদের হাতে নির্যাতনের শিকার হয়েছে। দেশ স্বাধীন হলে তাদের পরিবার ও সমাজ গ্রহণ করেনি। বাধ্য হয়ে তারা পতিতাপল্লীতে আশ্রয় নিয়েছে। এখনো তারা সেখানে আছে। এমন ঘটনা আমি আরো দেখেছি। এখানে তিন ধরনের সমস্যা দেখেছি। কোথাও পরিবার গ্রহণ করেছে, সমাজ করেনি। কোথাও আবার সমাজ করেছে, পরিবার করেনি। আবার কোথাও কোথাও পরিবার-সমাজ কেউই গ্রহণ করেনি। 

কিছুদিন আগে পড়লাম, চট্টগ্রামে একজনের বীরাঙ্গনা পরিচয় জানার পর চাকুরী চলে গেছে। অর্থাৎ প্রতিষ্ঠানও এই সত্যটা মেনে নিতে পারছে না। 
এমন ঘটনাও অনেক ঘটেছে। আমি দেখলাম গাইবান্ধায় এক বীরাঙ্গনার ছেলে যেখানে যাচ্ছে সেখান থেকেই তাকে তাড়িয়ে দেয়া হচ্ছে। বীরাঙ্গনার ছেলে বলে তার চাকরি থাকছে না। বলে, তুই নষ্টার ছেলে, আরো মানুষকে নষ্ট করবি! একই চিত্র আমি অনেক জায়গায় দেখেছি।   

বীরাঙ্গনাদের নিয়ে কাজ করতে গিয়ে আপনি কোনো সামাজিক বাধার সম্মুখীন হয়েছেন?
বহুবার হয়েছি। কিন্তু প্রকাশ করিনি, কারণ সেটা শুনলে আমার পরিবার আমাকে কাজ করতে দিত না। জামালপুর, নেত্রকোনা, মৌলভীবাজারসহ বেশ কয়েক জায়গায় বাজে অভিজ্ঞতা হয়েছে। কক্সবাজারের টেকনাফে সখিনা নামের এক বীরাঙ্গনার সাক্ষাৎকার শেষে বেরিয়ে পড়ার সময় বাধা দেয় তার মেয়ে। মায়ের সাক্ষাৎকার নেওয়ায় সে উত্তেজিত হয়ে আমাকে ছবি ও রেকর্ড মুছে ফেলতে নির্দেশ দেয়। তার দাবি অনুযায়ী ছবি মুছে ফেললেও রেকর্ড নষ্ট না করায় চিৎকার শুরু করে। এতে আশপাশের লোকজন জড়ো হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। পরে বীরাঙ্গনার ছেলে এসে আমাকে নিরাপদে স্থান ত্যাগ করার ব্যবস্থা করে দেয়। আর জামালপুর থেকে আমি নারী বলে কোনোমতে ফিরে আসতে পেরেছি। মহিলা নিজে স্বীকার করছে, স্বামীও স্বীকার করছে, কিন্তু সমাজ বলছে এসব কথা আর তোলা যাবে না। আমার ক্যামেরা কেড়ে নিয়েছে লোকজন। পরে তিনদিন সেখানে থেকে গোপনে গোপনে ঐ বীরাঙ্গনা নারীর সাক্ষাৎকার নিয়েছি। উনি হিন্দু থেকে মুসলমান হয়ে মুসলমান এক পুরুষকে বিয়ে করেছেন। তিনিও স্বাভাবিকভাবে নিয়েছেন। কিন্তু আশেপাশের লোকজন সেটা মানতে পারেনি।

এই বাধার মুখে ঐ মুক্তিযোদ্ধা নারী আপনার সঙ্গে কথা বলতে চাইলেন কেন? অনেকেই তো কথা বলতে চান না। 
তিনি বলেছেন যে, যা ঘটেছে তা তো আমি বদলাতে পারব না। আমার জীবনটা যদি ইতিহাস হয়, দেশবাসী সত্য জানতে চায়, তাহলে প্রকাশ করতে কোনো বাধা নেই। উনি কিন্তু আর্থিকভাবে সচ্ছল, উনার কারো কাছে কোনো কিছু চাওয়ার নেই। 

পরিবর্তন ডটকমকে সময় দেয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
আমাকে কথা বলার সুযোগ দেয়ার জন্য পরিবর্তন ডটকমকে ধন্যবাদ, সেই সাথে পাঠকদেরকে জানাই মহান স্বাধীনতা দিবসের শুভেচ্ছা।

 

print
 
nilsagor ad

আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad