‘শুধু তনু নয়, যে কোনো হত্যার বিচার করতে পারে সরকার’

ঢাকা, শনিবার, ২২ জুলাই ২০১৭ | ৭ শ্রাবণ ১৪২৪

‘শুধু তনু নয়, যে কোনো হত্যার বিচার করতে পারে সরকার’

পরিবর্তন প্রতিবেদক ৮:৩৪ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ১১, ২০১৬

print
‘শুধু তনু নয়, যে কোনো হত্যার বিচার করতে পারে সরকার’
লালমাটিয়ায় শুদ্ধস্বর প্রকাশনীতে গত বছর হামলার শিকার হন প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী আহমেদুর রশীদ চৌধুরী টুটুল। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে আতঙ্কের মাঝে একপ্রকার গোপনীয়তায় দেশ ছেড়েছেন তিনি। আজ (২৮ মার্চ) তার জন্মদিন। ওই হামলার ঘটনার পর পরিবর্তন ডটকমের মাধ্যমে এই প্রথম তিনি দীর্ঘ আলাপচারিতায় অংশ নিয়েছেন। বলেছেন পূর্বাপর অনেক কথা। সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেছেন কাজল রশীদ শাহীন।

লালমাটিয়ায় শুদ্ধস্বর প্রকাশনীতে গত বছর হামলার শিকার হন প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী আহমেদুর রশীদ চৌধুরী টুটুল। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে আতঙ্কের মাঝে একপ্রকার গোপনীয়তায় দেশ ছেড়েছেন তিনি। আজ (২৮ মার্চ) তার জন্মদিন। ওই হামলার ঘটনার পর পরিবর্তন ডটকমের মাধ্যমে এই প্রথম তিনি দীর্ঘ আলাপচারিতায় অংশ নিয়েছেন। বলেছেন পূর্বাপর অনেক কথা। সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেছেন কাজল রশীদ শাহীন।

পরিবর্তন ডটকমের পক্ষ থেকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা। এবারের জন্মদিন বিশেষ কোনো তাৎপর্য নিয়ে ধরা দিয়েছে কী? 
অনেক ধন্যবাদ আপনাকে ও পরিবর্তনকে। জন্মদিন তো একটা সাংবৎসরিক ব্যাপার মাত্র। প্রতিবছর এইদিনে পরিচিতজনেরা শুভেচ্ছা জানান। এটা খুবই ভাল লাগে। আমি আনন্দিত হই, উৎফুল্ল বোধ করি। বিশেষ করে রাত বারোটা এক মিনিটে যখন আমার মেয়ে দুটো ও আমার স্ত্রী আমাকে সারপ্রাইজ দেয়, সেটা আমাকে দারুণ অভিভূত করে। তবে কেন যেন, বয়স বেড়ে যাচ্ছে এই অনুভূতিটা আমার কাজ করে না। আমি এখনো স্বপ্ন দেখি, বিশ্ব সংসার তন্ন তন্ন করে কেউ আমার জন্য নীলপদ্ম উপহার নিয়ে আসবে!

আমি আমার জন্মদিনের কোনো তাৎপর্য কখনোই খুঁজতে চেষ্টা করিনি; তাৎপর্য আদৌ আছে কি না তাও জানি না।

আমরা জানি, আপনি দেশের বাইরে আছেন। কবে গেছেন, সপরিবারে? ফিরবেন কবে, নাকি ফিরবেন না? এখনও কি আপনি আতঙ্কগ্রস্ত?
বর্তমানে আমি আইকর্নের গেস্ট রাইটার হিসেবে নরওয়ে আছি। এই তো কিছুদিন হলো এখানে এসেছি। পরিস্থিতি অনুকূল হলে অবশ্যই আবার দেশের ছেলে দেশে ফিরবো। তবে আমি একদমই ধারণা করতে পারছি না, কত দীর্ঘ হবে এই অপেক্ষার প্রহর।
আতঙ্কগ্রস্ত তো অবশ্যই। জঙ্গিদের টার্গেট বলে কথা। ওদের আক্রমণ মোকাবেলায় আমার হাতে কলম আর কীবোর্ড ছাড়া আর কিছু তো নেই।

একেবারে স্বল্প সময়ের মধ্যে আপনি ‘শুদ্ধস্বর’কে প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান হিসেবে দাঁড় করাতে সক্ষম হয়েছিলেন, এর নেপথ্য কারণ কী?
‘শুদ্ধস্বর’ লিটল ম্যাগাজিন হিসেবে একটা শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম ছিল ১৯৯০ থেকে। ২০০৪ এ আমরা বই প্রকাশনা শুরু করি। আমাদের মূল কাজ ছিল তরুণ ও মুক্তমনা লেখকদের বই প্রকাশ করা। এই কাজই আমাদের ব্যাপারে পাঠক, সমালোচক ও গণমাধ্যমের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। অবশ্য আমরা মূলধারার লেখকদের বইও প্রকাশ করেছি। আসলে সময়ের সাথে পথ চলতে চেয়েছি। মুক্তচিন্তা ও মুক্তিযুদ্ধের ব্যাপারে কোনো আপোষ করিনি।

শুদ্ধস্বর এবং আপনি অন্যের টার্গেটে পরিণত হলেন কেন?
'অন্যের টার্গেট' কথাটা বুঝলাম না! আমি ও শুদ্ধস্বর কাদের টার্গেট ছিলাম, এটাতো আমাকে যারা হুমকি দিয়েছিল এবং হত্যা করতে চেয়েছিল সেই আনসার আল-ইসলামের দায় স্বীকারের বিবৃতি থেকেই প্রমাণিত হয়েছে। এই তথ্য তো সারা পৃথিবী জানে।

সেদিনের সেই ঘটনার কথা আরও একবার কী সংক্ষেপে পাঠকদের সাথে শেয়ার করবেন?
সেদিনের ঘটনার কথা যখনই মনে হয়, অসুস্থ বোধ করি। মাথায় যন্ত্রণা হয়। এখনো আমি ঠিকভাবে শুনতে পারি না। পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণে চোখে ঝাপসা দেখি। এসব কারণে ঘটনা আবার বর্ণনা করাটা আমার জন্য খুব কষ্টকর হবে। এই অপারগতার জন্য ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি।

আপনারা ও দীপন একই দিনে প্রায় কাছাকাছি সময়ে হামলার শিকার হয়েছেন, এর পেছনে কী কারণ থাকতে পারে? এটা কি একই চক্রের কাজ?
দীপনের কথা মনে হলেই আমি বাইচান্স বেঁচে যাওয়ার জন্য গ্লানিবোধ করি। ৩১ অক্টোবরের দুইটা ঘটনার জন্যই তো একটা সংগঠন দায় স্বীকার করে বিবৃতি দিয়েছে। সেখানে তারা হামলা ও হত্যার কারণও উল্লেখ করেছে। সব মিলিয়ে এটা সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত কাদের দ্বারা এই হামলা ও হত্যাকাণ্ড সংগঠিত হয়েছে। সত্যি কথা হল, আনসার আল-ইসলাম, আল কায়েদা, আইএস, জামায়াত, হেফাজত; সবই একই গোষ্ঠীর ভিন্ন ভিন্ন নাম।

ওই ঘটনার আগে আপনি কি এরকম কিছু হতে পারে বলে কোনোরূপ সন্দেহ বা শঙ্কা করেছিলেন? হলে প্রতিকারের জন্য কোনো ব্যবস্থা নিয়েছিলেন কী?
আমি মেইলে, ফেসবুকে হুমকি পেয়েছি। থানায় জিডিও করেছিলাম। বুঝতে পারছিলাম আমাকে ফলো করা হচ্ছে। এসব কারণে নিয়মিত অফিসে যেতাম না, নৈমিত্তিক জীবনযাপন বদলে ফেলেছিলাম। এই তো। এর বাইরে আর কিছু কী করার ছিল?

রাষ্ট্র কি আপনাদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছিল? আপনি কি মনে করেন, বর্তমান রাষ্ট্র পরিচালনায় যারা রয়েছেন, তারা মুক্তমনা ও মুক্তবুদ্ধির মানুষের জান ও মালের ‍নিরাপত্তায় আন্তরিক না, কিংবা উদাসীন?
জাতি হিসেবে আমরা আসলেই দুর্ভাগা। কারণ আমরা দেখেছি যেই ক্ষমতায় থাকুক না কেন সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তার ব্যাপারে তারা কখনোই সিরিয়াস না। অনেকেই মনে করেন, বর্তমান সরকার মুক্তমনা ব্লগার-লেখক-প্রকাশকদের নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে উগ্র-ধর্মীয় গোষ্ঠীর সাথে একধরনের বিনিময় খেলা খেলছেন। আমি মনে করি এটি সরকারের জন্য একটি আত্মঘাতী খেলা। এর জন্য বর্তমান সরকারকে অনেক বড় মূল্য দিতে হবে। যার জন্য স্বাধীন বাংলাদেশ ও রাষ্ট্রের সেক্যুলার জনগণদের ভুগতে হবে।

আপনি আক্রান্ত হওয়ার পর প্রত্যাশিত সাহায্য-সহযোগিতা পেয়েছিলেন? সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো উদ্যোগ ছিল আপনাদেরকে রক্ষা করার?
আক্রান্ত হওয়ার পর আর কারো কাছে কোনো প্রত্যাশা ছিল না। যদিও সরকারের অনেকেই এসেছিলেন সহমর্মিতা জানাতে। আমি ব্যক্তিগতভাবে তাদের সবাইকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আসলে আমাদের রাষ্ট্রের সক্ষমতা তো অনেক সীমিত। সেজন্যই নিজেকে রক্ষার দায়িত্ব এখানে নিজেকেই নিতে হয়। এবং এজন্যই বোধ হয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরামর্শ দেয়,  মুক্তচিন্তার জন্য বাংলাদেশ উপযুক্ত জায়গা নয়।

আপনাদের প্রকাশকদের যে সংগঠন তারা কতটা সাহস যুগিয়েছিল আপনার দুঃসময়ে?
প্রকাশকদের সংগঠন ৩১ অক্টোবরের ঘটনার প্রতিবাদে সমাবেশ করেছে, মিছিল করেছে, বিবৃতি দিয়েছে। ব্যক্তিগতভাবে অনেক প্রকাশক আমাকে দেখতে হাসপাতালে এসেছিলেন। ACPAB’র পক্ষ থেকে INTERNATIONAL PUBLISHERS ASSOCIATION-কে উদ্বুদ্ধ করেছে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে প্রতিবাদ জানানোর জন্য।

বইমেলায় দীপনকে স্মরণ করা হয়নি, বাংলা একাডেমি এ ব্যাপারে অদ্ভুত নীরবতা দেখিয়েছে, এসব নিয়ে আপনার অভিমত কী?
দীপনকে স্মরণ করা বা অভিজিৎকে স্মরণ করার ব্যাপারে বাংলা একাডেমির ভূমিকা দুঃখজনক। আসলে বাংলা একাডেমিকে চলতে হয় উপরের নির্দেশনা মত। এটি স্বায়ত্তশাসিত কোনো সংস্থা নয়। আমার মনে হয় এজন্যই বাংলা একাডেমির বেশিরভাগ পদে কবি-সাহিত্যিকরা বসে থাকার পরও সরকারের পলিসির কারণে তারা কিছুই করতে পারেন না। অবশ্য বাংলাদেশে স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলোও সরকারের অঙ্গুলি হেলনের বাইরে কিছু বলার বা করার সামর্থ্য রাখে না।

শুদ্ধস্বরকে কি গুটিয়ে নেওয়ার চিন্তাভাবনা করছেন, এবারের বইমেলায় জাগৃতি’র উপস্থিতি থাকলেও শুদ্ধস্বর সেভাবে ছিল না, কারণ কী?
শুদ্ধস্বরকে গুটিয়ে নেওয়ার নয় বরং আরো প্রসারিত করার পরিকল্পনা করছি। আমরা এরই মধ্যে ই-বুক কার্যক্রম চালু করেছি। শুদ্ধস্বরের একটি সম্পূর্ণ অনলাইন ভার্সন চালু করার কাজ প্রক্রিয়াধীন। মুক্তচিন্তা, মুক্তবুদ্ধি ও মুক্তমনা লেখকদের প্ল্যাটফর্ম হিসেবে শুদ্ধস্বর ছিল, আছে, থাকবে। আগামীতে শুদ্ধস্বরকে আরো বৃহৎ পরিসরে দেখা যাবে।

অভিজিৎ, দীপন হত্যাকাণ্ডের মতো হত্যাকাণ্ডগুলোর বিচার না হওয়ার নেপথ্য কারণ কী?
বিচারহীনতার সংস্কৃতির খপ্পরে চলছে দেশ। এর জন্য প্রয়োজন রাজনৈতিক সংস্কৃতির আমূল পরিবর্তন। সাথে সাথে প্রশাসনিক সংস্কৃতি ও কাঠামো ঢেলে সাজানো প্রয়োজন। শুধু ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য প্রশাসন ও রাষ্ট্র-কাঠামোকে ব্যবহার করার যে একনায়কতান্ত্রিক মনোবৃত্তি; এটাই আসলে অভিজিৎ-অনন্ত-বাবু-নিলয়-দীপন হত্যাকারীদের আইনের আওতায় আনার সবচেয়ে বড় বাধা।

এ ধরনের ক্রাইসিসে সুশীল বা বুদ্ধিজীবী সমাজের যে রূপ ভূমিকা পালন করা প্রয়োজন, তারা কী তা করছেন?
এটা খুবই লজ্জার, খুবই গ্লানির যে আমাদের বুদ্ধিজীবীরা, লেখক-সাহিত্যিকরা লেখক-ব্লগার-প্রকাশক হত্যার প্রতিবাদে যথাযথ ভূমিকা পালন করতে পারেননি। একটা জাতির জাতিগত মেরুদণ্ড কতটা সোজা, কতটা সটান সেটা প্রমাণের জন্য বুদ্ধিজীবীদের ভূমিকা অন্যতম প্রধান নিয়ামক। আমাদের ক্ষেত্রে এটা হতাশাজনক।

বর্তমানে যে সমস্যা-সংকটের মধ্য দিয়ে আমরা যাচ্ছি, এর থেকে উত্তরণের উপায় কী? সমস্যার এই বিষবৃক্ষ কেন ও কোন প্রেক্ষাপটে এভাবে জেঁকে বসেছে বলে মনে করেন?
দেখুন, রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তনটা খুব জরুরি। তা না হলে সমস্যা শুধু বাড়বে বৈ কমবে না। তবে সংস্কৃতি ব্যাপারটাও বোঝার ব্যাপার আছে। রাজনৈতিক সমাবেশে গান-কবিতা-নাটক ঢুকিয়ে দিলেই সংস্কৃতিবান হওয়া যায় না, এটা বুঝতে হবে।

তনু হত্যার বিচারের দাবিতে সারা দেশ একাট্টা, আপনি কি মনে করেন, তনুর খুনিরা ধরা পড়বে, বিচারের আওতায় আসবে?
আমি মনে করি সরকার চাইলে অবশ্যই তনুর খুনি ধরা পড়বে। শুধু তনু নয়, যে কোনো হত্যাকাণ্ডের বিচার করতে পারে সরকার। কিন্তু আমরা সাধারণ মানুষেরা আসলেই জানি না, কেন পারে না শেষ পর্যন্ত। আমরা জানি না ক্ষমতার সামিয়ানা কোন কোন খুঁটিতে বাঁধা।

আপনি যেহেতু একজন প্রকাশক, আমাদের লেখালেখির মান কেমন? বাংলা সাহিত্য কি নতুন পথ উন্মোচন করছে, নাকি চর্বিতচর্বণ হচ্ছে?
সাহিত্য সবসময় নতুন পথ উন্মোচন করেই পথ হাঁটে। অনেক মানহীন প্রকাশনা ও চর্বিতচর্বণের ভেতর দিয়েই সাহিত্য তার নিজের জায়গা ঠিকই করে নিতে পারে। এটাকে আপনি বছরের পরিমাপক দিয়ে চিহ্নিত করতে পারবেন না।

বইমেলার বইয়ের মান নিয়ে অস্বস্তি বাড়ছে, আপনি কী মনে করেন?
বইমেলা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের এখন স্বপ্ন দেখা উচিত। যদি স্বপ্ন দেখতে না পারেন তাহলে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে স্বপ্ন আহ্বান করা উচিত। এই সময়ে পৃথিবীর সবচেয়ে দীর্ঘ সময়ের বইমেলা কেমন হওয়া প্রয়োজন কর্তৃপক্ষ এই প্রক্রিয়া অবলম্বন করলে সহজেই জানতে ও বুঝতে পারবেন। আমার খুব অবাক লাগে এই বিষয়টা নিয়ে প্রতিবছর নানানজন নানান পরামর্শ দেন আর কর্তৃপক্ষ দেন আশ্বাস। কিন্তু পরের বছর আবার একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটে। কারো কোনো বিকার হয় না।

প্রকাশকদের বিরুদ্ধে লেখকদের অভিযোগের অন্ত নাই, বেশিরভাগ প্রকাশককেই মনে করা হয় ধান্দাবাজ, অসৎ, অস্বচ্ছ ব্যবসায় জড়িত, আপনি কী বলেন?
এটা ঠিক যে প্রকাশনা ও প্রকাশকদের নিয়ে লেখকদের অভিযোগের শেষ নেই। এসব অভিযোগ যাতে না থাকে সেজন্য কিছু নীতিমালা থাকা প্রয়োজন। লেখক-প্রকাশকের একটা স্ট্যান্ডার্ড চুক্তিনামা থাকা প্রয়োজন যেটা সব প্রকাশক ও সব লেখক বই প্রকাশ করার সময় বাধ্যতামূলকভাবে পূরণ করবেন। এরকম কিছু প্র্যাকটিসের মধ্য দিয়ে যেতে পারলে আমার মনে হয় পরিস্থিতির উন্নতি হবে। আসলে এটাও একটা সংস্কৃতির বিষয় বটে।

আপনি নিজে থেকে কিছু বলেন?
আমার মনে হচ্ছে একটা লড়াইয়ের মাঠে আছি। লড়াইটা চলছে সারা পৃথিবীব্যাপী। সবাই যার যার মত করে আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে চাচ্ছে। এর বিপরীতে কিছু মানুষ চাইছে পৃথিবীকে মানবিক পৃথিবীতে পরিণত করতে। অস্ত্রের খেলা বন্ধ করতে। এই মানুষদের হাতে কলম, আঙুলে কীবোর্ড। আমি এই কলম-কীবোর্ডের দলে। আমার কাছে এটা মুক্তবুদ্ধির লড়াই, বুদ্ধিমুক্তির লড়াই। আমি তাই কাজ করছি মন জোগাতে নয়, মন জাগাতে।

কেআরএস/এম/এইচএসএম

 

print
 

আলোচিত সংবাদ